আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবেই ফ্যাসিস্ট: মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন

আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবেই ফ্যাসিবাদী আচরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ক্ষমতায় থাকাকালে দলটির আচরণে তা বারবার প্রকাশ পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এসব কথা বলেন। ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুরুতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি যুক্তি দেন যে, জুলাইয়ের ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তামিমের ভাষায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’, যা তার দাবি অনুযায়ী সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে এবং ব্যাপক পরিসরে সংঘটিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যে এটাই প্রথম করেছে, তা নয়। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই এই ধরনের অপরাধ করে। প্রসিকিউশন তাদের বক্

আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবেই ফ্যাসিস্ট: মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন

আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবেই ফ্যাসিবাদী আচরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ক্ষমতায় থাকাকালে দলটির আচরণে তা বারবার প্রকাশ পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এসব কথা বলেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুরুতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি যুক্তি দেন যে, জুলাইয়ের ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তামিমের ভাষায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’, যা তার দাবি অনুযায়ী সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে এবং ব্যাপক পরিসরে সংঘটিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যে এটাই প্রথম করেছে, তা নয়। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই এই ধরনের অপরাধ করে।

প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্যের ঐতিহাসিক পটভূমি হিসেবে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে। এ সময় মওদুদ আহমদের লেখা বাংলাদেশ: শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালসহ বিভিন্ন বইয়ের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র আদালতে তুলে ধরেন তামিম।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল এবং যে আশায় সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছিল; ১৯৭২ সাল থেকেই সেই আশা ভঙ্গ হতে শুরু করে।

রক্ষীবাহিনী গঠন, বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার মতো ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তামিম দাবি করেন, স্বাধীনতার পর মানুষের অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আচরণের সঙ্গে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার সম্পর্ক নতুন নয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তামিম বলেন, আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছাত্রদের রাজাকার বলে আখ্যায়িত করেন। এরপর তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তামিমের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব উসকানিমূলক বক্তব্যের পর ঢাকাসহ সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এর পরিণতিতে বহু মানুষ প্রাণ হারান।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবেও তিনি এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন বলে প্রসিকিউশন দাবি করে।

একই মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘অক্সিলিয়ারি ফোর্স’ হিসেবে আন্দোলন দমনে সরাসরি অংশ নেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং অঙ্গহানির অভিযোগও আনা হয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরকে তার ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’র কারণে মামলার আসামি করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। অন্য আসামিরাও নিজ নিজ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হওয়ায় একই নীতির ভিত্তিতে তাদের আসামি করা হয়েছে বলে তামিম আদালতে যুক্তি দেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

গত রোববার (২ আগস্ট) এ মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আর্গুমেন্ট উপস্থাপন শুরু হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেফতার করতে না পারায় পরে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। আসামিদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার চলছে। আইনে এভাবে বিচার পরিচালনায় কোনো বাধা নেই।

এফএইচ/বিএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow