আগুনঝরা বৈশাখে পুড়ছে দেশ, ২১ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ

বৈশাখের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। আকাশ থেকে নেমে আসা সূর্যের তাপ যেন আগুনের গোলা হয়ে ঝরছে। রাজধানীসহ সারাদেশে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এই দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া সাধারণ নাগরিকরা। দেশের ২১টি জেলার ওপর দিয়ে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ।  বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত দুই দিন; বৃষ্টিপাত বাড়লেই কমতে পারে তাপমাত্রা। এদিন খুলনা বিভাগসহ দেশের ২১ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফরিদপুরে ৩৬, মাদারীপুরে ৩৬ দশমিক ২, ফেনীতে ৩৬, লক্ষ্মীপুরে ৩৭, রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৩, পাবনায় ৩৬ দশমিক ২, সিরাজগঞ্জে ৩৬ দশমিক ১, বান্দরবানে ৩৬, রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৬ এবং পটুয়াখালীতে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।  খুলনা বিভাগের সবকটি জেলাতেই তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ২ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্

আগুনঝরা বৈশাখে পুড়ছে দেশ, ২১ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ

বৈশাখের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। আকাশ থেকে নেমে আসা সূর্যের তাপ যেন আগুনের গোলা হয়ে ঝরছে। রাজধানীসহ সারাদেশে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এই দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া সাধারণ নাগরিকরা। দেশের ২১টি জেলার ওপর দিয়ে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত দুই দিন; বৃষ্টিপাত বাড়লেই কমতে পারে তাপমাত্রা।

এদিন খুলনা বিভাগসহ দেশের ২১ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফরিদপুরে ৩৬, মাদারীপুরে ৩৬ দশমিক ২, ফেনীতে ৩৬, লক্ষ্মীপুরে ৩৭, রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৩, পাবনায় ৩৬ দশমিক ২, সিরাজগঞ্জে ৩৬ দশমিক ১, বান্দরবানে ৩৬, রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৬ এবং পটুয়াখালীতে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। 

খুলনা বিভাগের সবকটি জেলাতেই তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ২ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।

আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি হলে ‘মাঝারি’, ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি হলে ‘তীব্র’ এবং ৪২ ডিগ্রির ওপরে গেলে ‘অতি তীব্র’ তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪০ ডিগ্রিতে— যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।

আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার নাগাদ তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে খুলনা বিভাগের কিছু জেলায় এই স্বস্তি পেতে দেরি হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তেও পারে।

শনিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় একই ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সারাদেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং তাপপ্রবাহ চলমান থাকবে।

আবহাওয়ার বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। মাঝখানে কিছুটা কমলেও গত এক সপ্তাহ ধরে আবার তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই মাসে আরও একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow