আজ প্রিয় মানুষকে টেডি উপহার দেওয়ার দিন
ক্যালেন্ডারের পাতায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দিবস থাকে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাস হলে তো কথাই নেই। এই দিবসের কোনোটি খুব অদ্ভুত, কোনোটি মজার, আবার কোনোটি দরকারি। যেমন আজ বিশ্ব ‘টেডি ডে’। ভালোবাসার সপ্তাহের সূচনা হয়েছিল রোজ ডে দিয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ দিন, ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় টেডি ডে। ভালোবাসার উপহার হিসেবে টেডি বিয়ারের জনপ্রিয়তা অনেক দিনের। তাই প্রেমের এই বিশেষ সপ্তাহে ১০ ফেব্রুয়ারিকে টেডি ডে হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেভাবে এলো টেডি ডে ১৯০২ সালের নভেম্বরে মিসিসিপিতে শিকারে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট। সে সময় মিসিসিপি ও লুইজিয়ানার সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সেদিন কোনো ভালো শিকার পাননি রুজভেল্ট। প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে সঙ্গীরা লুইজিয়ানার একটি কালো ভাল্লুকের ছানা ধরে এনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। কিন্তু সেই অসহায় ছানাটির ওপর গুলি চালাতে মন সায় দেয়নি রুজভেল্টের। তখন শিকার নিয়ে এত কঠোর আইন না থাকলেও তিনি ছানাটিকে ছেড়ে দেন। সমাজে শিকারকে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও প্রেসিডেন্টের এই মানবিক সিদ্ধান্ত স
ক্যালেন্ডারের পাতায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দিবস থাকে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাস হলে তো কথাই নেই। এই দিবসের কোনোটি খুব অদ্ভুত, কোনোটি মজার, আবার কোনোটি দরকারি। যেমন আজ বিশ্ব ‘টেডি ডে’।
ভালোবাসার সপ্তাহের সূচনা হয়েছিল রোজ ডে দিয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ দিন, ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় টেডি ডে। ভালোবাসার উপহার হিসেবে টেডি বিয়ারের জনপ্রিয়তা অনেক দিনের। তাই প্রেমের এই বিশেষ সপ্তাহে ১০ ফেব্রুয়ারিকে টেডি ডে হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেভাবে এলো টেডি ডে
১৯০২ সালের নভেম্বরে মিসিসিপিতে শিকারে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট। সে সময় মিসিসিপি ও লুইজিয়ানার সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সেদিন কোনো ভালো শিকার পাননি রুজভেল্ট। প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে সঙ্গীরা লুইজিয়ানার একটি কালো ভাল্লুকের ছানা ধরে এনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
কিন্তু সেই অসহায় ছানাটির ওপর গুলি চালাতে মন সায় দেয়নি রুজভেল্টের। তখন শিকার নিয়ে এত কঠোর আইন না থাকলেও তিনি ছানাটিকে ছেড়ে দেন। সমাজে শিকারকে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও প্রেসিডেন্টের এই মানবিক সিদ্ধান্ত সবার দৃষ্টি কাড়ে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয় ঘটনাটি।
এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ‘ড্রইং দ্য লাইন ইন মিসিসিপি’ শিরোনামে একটি কার্টুন আঁকেন ওয়াশিংটন স্টার-এর কার্টুনিস্ট ক্লিফর্ড বেরিম্যান। সেখানে দেখা যায়, রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন রুজভেল্ট, আর তার পেছনে ছোট্ট এক ভাল্লুকের ছানা।
সেই কার্টুন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমেরিকার খেলনা ব্যবসায়ী মরিস মিকটম ও তার স্ত্রী প্রথম তৈরি করেন একটি টেডি বিয়ার। তাদের কোম্পানির নাম ছিল ‘আইডিয়াল নভেলটি অ্যান্ড টয় কোম্পানি’। শুরুতে এটি বিক্রির জন্য নয়, কেবল প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই দোকানের জানালায় সাজিয়ে রাখা হয়েছিল টেডিটি। পাশে রাখা হয় বেরিম্যানের আঁকা সেই কার্টুনের কপি।
কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ক্রেতারা দোকানে ঢুকেই টেডিটি কিনতে আগ্রহ দেখাতে থাকেন। তখন মিকটম সরাসরি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের কাছে গিয়ে তার ও স্ত্রীর তৈরি টেডি বিয়ার বিক্রির অনুমতি চান। সেখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম নেয় ‘টেডি বিয়ার’। পরে ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আইডিয়াল টয় কোম্পানি’।
তারপর থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে টেডি বিয়ার। আদুরে এই পুতুলটি শুধু উপহার হিসেবে ব্যবহার হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে 'টেডি বিয়ার, মিউজিয়াম পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। টেডি বিয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক বই এবং চলচ্চিত্র।
তাই নিজের অনুপস্থিতি ঘোচাতে প্রিয়জনদের পছন্দের টেডি উপহার দিতে পারেন। প্রিয়জন ছাড়াও বন্ধু, আত্মীয় এমনকি বাবা-মাকেও এই উপহার দিতে পারেন। এতে তারা খুশি হবেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ভ্যালেন্টাইন ডে সপ্তাহে কোন দিনের কী অর্থ
৭ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় রোজ ডে (Rose Day)। এই দিনটিতে প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরকে লাল গোলাপ ফুল উপহার দেন। ৮ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় প্রোপ্রোজ ডে (Propose Day)। এই দিনটিতে প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরকে প্রেমের প্রস্তাব দেন।
৯ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় চকোলেট ডে (Chocolate Day)। ১০ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় টেডি ডে (Teddy Day) হিসেবে। এই দিনে প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরকে টেডি বিয়ার উপহার দিয়ে থাকেন। ১১ ফেব্রুয়ারি প্রমিস ডে (Promise Day)। এই দিনটিতে প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরকে ভালোবাসা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবছরই পালিত হয় হাগ ডে (Hug Day) হিসেবে। এই দিনে প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরকে আলিঙ্গন করে উষ্ণ সান্নিধ্য অনুভব করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় কিস ডে (Kiss Day)। এই দিনে প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরের ঠোঁটে চুম্বন করে বা চুমু দিয়ে (ফ্লাইং কিস) ভালোবাসাকে অন্য মাত্রায় অনুভব করেন।
আর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় ভ্যালেন্টাইন’স ডে। এই দিনটিতে একান্তে ভালোবাসা অনুভব করেন প্রেমিক-প্রেমিকারা।
What's Your Reaction?