আতপ ও সিদ্ধ চাল, কার জন্য কোনটি বেশি ভালো?
আমাদের বাঙালির জীবনে ভাত মানেই প্রশান্তি। সকাল,দুপুর কিংবা রাত; ডাল,ভর্তা,মাছ, মাংস,সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা ভাত। গ্রামবাংলার মাটির চুলা থেকে শহরের আধুনিক রান্নাঘর; চালের কড়াই কখনও থেমে থাকে না। কিন্তু সেই চেনা ভাত নিয়েই আজকের প্রশ্ন, আতপ চাল নাকি সিদ্ধ চাল, কোনটি বেশি ভালো? স্বাদ, পুষ্টি, হজমক্ষমতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য; সবকিছু বিবেচনায় কোন চাল হবে আপনার পরিবারের জন্য সেরা পছন্দ? চলুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নিই- তৈরির পদ্ধতিতেই পার্থক্য চালের পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে ধান থেকে চাল তৈরির প্রক্রিয়ার ওপর। ধান সরাসরি শুকিয়ে তুষ ছাড়িয়ে যে চাল পাওয়া যায়, সেটিই আতপ চাল। আর ধানকে আগে ভিজিয়ে, হালকা ভাপে সেদ্ধ করে তারপর শুকিয়ে যে চাল তৈরি করা হয়, সেটিই সিদ্ধ চাল। এই সামান্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পার্থক্যই দুই ধরনের চালের পুষ্টিগুণে বড় পরিবর্তন আনে। পুষ্টির লড়াইয়ে কে এগিয়ে? পুষ্টিবিদদের মতে, সিদ্ধ চাল আতপ চালের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ, ধান সেদ্ধ করার সময় খোসা বা তুষে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান (যেমন ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম) চালের ভেতরে প্রবেশ করে। সিদ্ধ চাল
আমাদের বাঙালির জীবনে ভাত মানেই প্রশান্তি। সকাল,দুপুর কিংবা রাত; ডাল,ভর্তা,মাছ, মাংস,সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা ভাত।
গ্রামবাংলার মাটির চুলা থেকে শহরের আধুনিক রান্নাঘর; চালের কড়াই কখনও থেমে থাকে না। কিন্তু সেই চেনা ভাত নিয়েই আজকের প্রশ্ন, আতপ চাল নাকি সিদ্ধ চাল, কোনটি বেশি ভালো? স্বাদ, পুষ্টি, হজমক্ষমতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য; সবকিছু বিবেচনায় কোন চাল হবে আপনার পরিবারের জন্য সেরা পছন্দ? চলুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নিই-
তৈরির পদ্ধতিতেই পার্থক্য
চালের পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে ধান থেকে চাল তৈরির প্রক্রিয়ার ওপর। ধান সরাসরি শুকিয়ে তুষ ছাড়িয়ে যে চাল পাওয়া যায়, সেটিই আতপ চাল। আর ধানকে আগে ভিজিয়ে, হালকা ভাপে সেদ্ধ করে তারপর শুকিয়ে যে চাল তৈরি করা হয়, সেটিই সিদ্ধ চাল। এই সামান্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পার্থক্যই দুই ধরনের চালের পুষ্টিগুণে বড় পরিবর্তন আনে।
পুষ্টির লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
পুষ্টিবিদদের মতে, সিদ্ধ চাল আতপ চালের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ, ধান সেদ্ধ করার সময় খোসা বা তুষে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান (যেমন ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম) চালের ভেতরে প্রবেশ করে।
সিদ্ধ চাল
১. ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবার তুলনামূলক বেশি
২. গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কম
৩. রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না
আতপ চাল
১. প্রক্রিয়াজাত করার সময় তুষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির স্তরও বাদ পড়ে যায়
২. মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস
৩. ফাইবার ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট তুলনামূলক কম
কাদের জন্য কোন চাল?
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, তাদের জন্য সিদ্ধ চাল বা বিশেষ করে ব্রাউন রাইস আদর্শ। সিদ্ধ চালে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকায় এটি ধীরে ধীরে গ্লুকোজ ছাড়ে। আতপ চাল দ্রুত হজম হয়ে রক্তে সুগার বাড়াতে পারে, তাই এড়িয়ে চলাই ভালো।
হজমের সমস্যা থাকলে
আতপ চাল তুলনামূলক হালকা ও সহজপাচ্য। ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা যাদের পেটের সমস্যা আছে, তাদের জন্য আতপ চালের ভাত বেশি আরামদায়ক হতে পারে। সিদ্ধ চাল হজম হতে কিছুটা বেশি সময় নেয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে
ওজন কমাতে চাইলে সিদ্ধ চাল ভালো বিকল্প। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমে।
হার্টের স্বাস্থ্য ও কোলেস্টেরল
সিদ্ধ চালে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। হার্টের রোগীদের জন্য আতপ চালের চেয়ে সিদ্ধ চাল বা ঢেঁকি ছাঁটা চাল বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।
স্বাদে কে এগিয়ে?
আতপ চাল তার সুগন্ধ ও ঝরঝরে স্বভাবের জন্য বিখ্যাত। পোলাও, বিরিয়ানি বা পায়েসের মতো পদে আতপ চালের আলাদা কদর রয়েছে। অন্যদিকে সিদ্ধ চাল তুলনামূলক মোটা, কম সুগন্ধযুক্ত, তবে দৈনন্দিন ভাত হিসেবে এটি বেশি তৃপ্তিদায়ক ও পেটভরা অনুভূতি দেয়।
শেষ কথা
আপনি যদি কেবল স্বাদ ও সুগন্ধকে প্রাধান্য দেন, তবে আতপ চালই সেরা পছন্দ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য, রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ও পুষ্টির ভারসাম্য বিবেচনা করলে সিদ্ধ চাল এগিয়ে থাকবে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
What's Your Reaction?