আতিক মাহবুবের কবিতা: পুরুষ

যারবন্দিত্বের প্রথম পাঠশালা পরিবারজন্মানোর পর যেন দায়িত্বের তিলক পরে কপালেবয়স পাকার আগেই কাঁধে তুলে দেয়া হয়—জমি, রুটি, ঘাম আর নীরব দহনের এক পৌরুষত্বের দায়। তারবার্ধক্য নেমে গেলেধীরে ধীরে নিঃশব্দেশরীরের ভেতরেই যেন কেউ পুরোনো হয়ে যায়। তারপরএকদিন তার পরিচিত লাঙল আর মাটিওতার কাছে অচেনা হয়ে যায়। কারণপুরুষ যখন ভাঙেতখন তার চারপাশ ঘড়ির কাঁটার মতোবড় তাড়াতাড়ি বদলে যায়। প্রেমসে ভালোবেসেছিল খুব সাধারণে অসাধারণভাবেঅযুত-নিযুত বীজ বপনেকতবার সে প্রেমকে চাষ করেছিলনিজের ক্লান্ত হাত দিয়েশুকিয়ে যাওয়া স্বপ্ন জলেভাঙাগড়ায় কতবার মনে মনে ভেবেছে—এইবার হয়তো প্রেমটা টিকে যাবে। একদিনঅসুখ এলোঅভাব হলোকথা নোনতা হয়ে এলোতখন তাকে যদি কেউ একটু ভেজা গামছায় কোমলভাবে পরশ বুলিয়ে দিততাহলে হয়তো আরাধ্য সেই সম্পর্কের কোমলতায় পাথরের মতো শ্রমিক মন নরমে গলে যেত।আশ্রয় ভেবে নেওয়া প্রেয়সীকেযখন চোখের সামনে দিয়েদূরে সরে যেতে দেখেতখন সে মোটেও অবাক হয় নাশুধু ভেতরে ভেতরে আরও শূন্য হয়ে যায়। শেষেআস্তে আস্তে ভালোবাসা হয়ে ওঠে প্রত্যাখ্যানের নীরব জমাটবদ্ধ শব্দ। আরপুরুষ নিজের শোককে তখন আর কোনো ভাষা দিতে শেখে না। তখনসে ব্যথা চেপে রাখেকান্না গ

আতিক মাহবুবের কবিতা: পুরুষ

যার
বন্দিত্বের প্রথম পাঠশালা পরিবার
জন্মানোর পর যেন দায়িত্বের তিলক পরে কপালে
বয়স পাকার আগেই কাঁধে তুলে দেয়া হয়—জমি, রুটি, ঘাম আর নীরব দহনের এক পৌরুষত্বের দায়।

তার
বার্ধক্য নেমে গেলে
ধীরে ধীরে নিঃশব্দে
শরীরের ভেতরেই যেন কেউ পুরোনো হয়ে যায়।

তারপর
একদিন তার পরিচিত লাঙল আর মাটিও
তার কাছে অচেনা হয়ে যায়।

কারণ
পুরুষ যখন ভাঙে
তখন তার চারপাশ ঘড়ির কাঁটার মতো
বড় তাড়াতাড়ি বদলে যায়।

প্রেম
সে ভালোবেসেছিল খুব সাধারণে অসাধারণভাবে
অযুত-নিযুত বীজ বপনে
কতবার সে প্রেমকে চাষ করেছিল
নিজের ক্লান্ত হাত দিয়ে
শুকিয়ে যাওয়া স্বপ্ন জলে
ভাঙাগড়ায় কতবার মনে মনে ভেবেছে—এইবার হয়তো প্রেমটা টিকে যাবে।

একদিন
অসুখ এলো
অভাব হলো
কথা নোনতা হয়ে এলো
তখন তাকে যদি কেউ একটু ভেজা গামছায় কোমলভাবে পরশ বুলিয়ে দিত
তাহলে হয়তো আরাধ্য সেই সম্পর্কের কোমলতায় পাথরের মতো শ্রমিক মন নরমে গলে যেত।
আশ্রয় ভেবে নেওয়া প্রেয়সীকে
যখন চোখের সামনে দিয়ে
দূরে সরে যেতে দেখে
তখন সে মোটেও অবাক হয় না
শুধু ভেতরে ভেতরে আরও শূন্য হয়ে যায়।

শেষে
আস্তে আস্তে ভালোবাসা হয়ে ওঠে প্রত্যাখ্যানের নীরব জমাটবদ্ধ শব্দ।

আর
পুরুষ নিজের শোককে তখন আর কোনো ভাষা দিতে শেখে না।

তখন
সে ব্যথা চেপে রাখে
কান্না গিলে খায়
ভেতরে মোচড় দিয়ে ভাঙনের সুর আড়াল করে।

সে
হাসে
নিজেকে ব্যস্ত রাখে
পথ হারায়
পা পিছলে পড়ে
আবার ওঠে
আর প্রতিবার একটু একটু করে নিজের কাছ থেকে সরে যায়।

অতঃপর
পুরুষের ভেতরে যে মানুষটির বসবাস ছিল
এইসব বিরামহীন ক্লান্ততায় নতজানু হয়ে
দায় হিসেবে বেঁচে থাকে শুধু শরীরটা
আর সেই শরীরকে প্রতিদিন প্রমাণ করতে হয়—পুরুষ হওয়া কখনো কখনো কোনো বেঁচে থাকা নয়
আসলে শুধু টিকে থাকার অভিনয়।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow