আদালত পরিবর্তনের আবেদন আসামিপক্ষের, পেছালো সাক্ষ্যগ্রহণ
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যার মামলায় আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেছে আসামিপক্ষ। এ মামলায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। বাদীপক্ষ সাক্ষী উপস্থিত করলেও আসামিপক্ষ বর্তমান আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের (বদলি) আবেদন করে। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রেখে আগামী ৩ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, আসামিপক্ষ মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি বদলি মিস মামলা দায়ের করেছে। শুনানিতে বাদী ও আসামি—উভয়পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত জানিয়েছেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে বদলি আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আদেশ দেওয়া হবে। এ কারণে এদিন সাক্ষ্যগ্রহণ আর এগোয়নি। এর আগে গত ১৯ জুলাইও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হও
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যার মামলায় আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেছে আসামিপক্ষ। এ মামলায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। বাদীপক্ষ সাক্ষী উপস্থিত করলেও আসামিপক্ষ বর্তমান আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের (বদলি) আবেদন করে। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রেখে আগামী ৩ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, আসামিপক্ষ মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি বদলি মিস মামলা দায়ের করেছে। শুনানিতে বাদী ও আসামি—উভয়পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত জানিয়েছেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে বদলি আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আদেশ দেওয়া হবে। এ কারণে এদিন সাক্ষ্যগ্রহণ আর এগোয়নি।
এর আগে গত ১৯ জুলাইও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেদিন কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হলেও নির্ধারিত সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরে আদালত ২৭ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন।
গত ১২ জুলাই একই আদালত ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার ২১ আসামির মধ্যে বর্তমানে প্রথম ১০ জন কারাগারে রয়েছেন। সজীব ব্যাপারী, রুমান ব্যাপারী, আবির হোসেন ও পারভেজ- এই চারজন উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন। বাকি সাতজন পলাতক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল ব্যক্তি সোহাগের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পাথর দিয়ে আঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে।
ঘটনার পরদিন নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় ১০ জনের অব্যাহতির সুপারিশ করেন।
তবে তদন্তে অসঙ্গতি দেখতে পেয়ে আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ পুনঃতদন্ত শেষে একই ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
নিহত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
এমডিএএ/বিএ
What's Your Reaction?
