‌‘আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার এক ঘণ্টা থাকে না’

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ বরাদ্দ কম থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্বত্র লোডশেডিং বেড়েছে। দিন-রাত সমানতালে চলছে লোডশেডিং। এদিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মানুষের এখন ত্রাহি অবস্থা। পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে জানানো হয় চাহিদার অনুযায়ী বিদ্যুৎ কম ফলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যা থেকে শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে চলছে বৈশাখী উৎসব। বিদ্যুতের ভেলকিবাজি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে বিকেলে একটু তড়িঘড়ি করেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সাউন্ড সিস্টেম চালু রাখার জেনারেটরের তেল শেষ হওয়ায় একাধিকবার বিপাকে পড়তে হয় আয়োজক কর্তৃপক্ষকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বলেন, মেলার শুরু থেকেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সমস্যা আছি। আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার এক ঘণ্টা থাকে না। জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দুটি জেনারেটর চালু রাখতে হয়, সময় মতো তেল না পাওয়ায় এগুলো চালু করতেও সমস্যা হচ্ছে। এই অবস্থায় পল্লী সমিতি আখাউড়ার এজিএম মো. জোহির আব্বাস খান সাংবাদিকদের এক বার্তায় জানান, আখাউড়া-১ বড়বা

‌‘আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার এক ঘণ্টা থাকে না’

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ বরাদ্দ কম থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্বত্র লোডশেডিং বেড়েছে। দিন-রাত সমানতালে চলছে লোডশেডিং। এদিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মানুষের এখন ত্রাহি অবস্থা। পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে জানানো হয় চাহিদার অনুযায়ী বিদ্যুৎ কম ফলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যা থেকে শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে চলছে বৈশাখী উৎসব। বিদ্যুতের ভেলকিবাজি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে বিকেলে একটু তড়িঘড়ি করেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সাউন্ড সিস্টেম চালু রাখার জেনারেটরের তেল শেষ হওয়ায় একাধিকবার বিপাকে পড়তে হয় আয়োজক কর্তৃপক্ষকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বলেন, মেলার শুরু থেকেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সমস্যা আছি। আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার এক ঘণ্টা থাকে না। জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দুটি জেনারেটর চালু রাখতে হয়, সময় মতো তেল না পাওয়ায় এগুলো চালু করতেও সমস্যা হচ্ছে।

এই অবস্থায় পল্লী সমিতি আখাউড়ার এজিএম মো. জোহির আব্বাস খান সাংবাদিকদের এক বার্তায় জানান, আখাউড়া-১ বড়বাজার উপকেন্দ্রে বর্তমানে চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ আছে ৪ মেগাওয়াট। লোড পরিস্থিতি অবর্ণনীয়, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে ৩০ মিনিটের বেশি কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। দুর্যোগপূর্ণ এ পরিস্থিতিতে সবারর সহযোগিতা কাম্য।

দুপুরের বার্তায় পল্লী বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা বার্তায় জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দাতিয়ারা গ্রিড থেকে আখাউড়া ৩৩ কেভি ফিডারে ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮ মেগাওয়াট, যা প্রায় ৪০ শতাংশ। বরাদ্দ অনুসারে সব এলাকায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, শুক্রবারও সকাল থেকে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। যে কারণে সারাদেশেই লোডশেডিং অব্যাহত। বেলা বাড়ার সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী লোডশেডিং আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সংগঠনের পরিচালক শেখ আরিফ বিল্লাহ বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে সবাই অতিষ্ঠ। সামনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা। লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে আনতে ইতোমধ্যে আমরা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে মৌখিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা স্মারকলিপি দিতেও প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. সাইদুর রহমান জানান, তাদের আওতাধীন গ্রাহকের জন্য ১৩০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট প্রয়োজন হয়। সারাদেশের মতো এখন বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ কম পাওয়া যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহামুদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুটি বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা হচ্ছে ৪৫ মেগাওয়াট। যখন লোডশেডিং হয় তখন আমরা ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়ে থাকি। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হলে বিতরণ বেশি হয়, কম হলে বিতরণ কম হয়। এটা স্বাভাবিক।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow