আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষ, নিহত বেড়ে ৩

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে লতিফ মোল্লা (৩২) নামে আরেকজনের মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করে রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। নিহত লতিফ মোল্লা রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই যুবক গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। তার ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুটি মেয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন ওসমান মেম্বারের ছে

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষ, নিহত বেড়ে ৩

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে লতিফ মোল্লা (৩২) নামে আরেকজনের মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করে রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত লতিফ মোল্লা রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই যুবক গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। তার ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুটি মেয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন ওসমান মেম্বারের ছেলে অনিক মিয়া (২০) নামের একজন, পরদিন বুধবার শাহ আলমের ছেলে কাওসার আহমেদ (৩৭) নামের একজন এবং বৃহস্পতিবার শহীদ মিয়ার ছেলে লতিফ মোল্লার লাশ উদ্ধার হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সি (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার ভোর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুপক্ষের লোকজন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিনের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অনিক মিয়া (২০), রাজু (২৮), সুমন (৩৫), কাশেম (২৫), মোবারক হোসেন (৩৩), কাউছার আহমেদ (৩৭), লতিফ মোল্লা (৩২), মোস্তফা মিয়াসহ (৬০) অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক, রাজু ও মোবারককে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিকের মৃত্যু হয়। পরদিন বুধবার বেলা ৩টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় টেটাবিদ্ধ অবস্থায় একজনের লাশ ভেসে উঠে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবারের লোকজন এসে লাশ সনাক্ত করে। ভেসে আসা লাশটি নিলক্ষা ইউনিয়নে সংঘর্ষের পর নিখোঁজ কাউসার আহমেদের। পরে সন্ধ্যায় মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে আরো একটি মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তারা নৌকায় করে মরদেহটি তীরে টেনে আনেন। খবর পেয়ে লতিফ মোল্লার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে বেলা ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লতিফ মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, নিলক্ষায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow