বেডরুমে বা গাড়ির ভেতরে ঝোলানো রঙিন পালক আর মুক্তা দিয়ে সাজানো জালের মতো ঝুলন্ত জিনিসটি নিশ্চয়ই আপনারও চোখে পড়েছে। এর নাম ড্রিমক্যাচার। অর্থাৎ, এটি নাকি দুঃস্বপ্ন থেকে রক্ষা করে ঘরের বাসিন্দার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে! একটি বিশেষ জাতির প্রাচীন বিশ্বাস এটি।
তবে বর্তমানে, অনেক আধুনিক সাজসজ্জার মধ্যে আপনি এই শো-পিসটি দেখতে পাবেন। হ্যা, শো-পিসই বলছি। কারণ এক কালে এটি একটি ধর্মীয় প্রতীক ছিল বটে, তবে এখন যারা এর সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারাও সৌন্দর্যের জন্য এটি ঘরে ঝুলিয়ে রাখছেন।
তবে পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই বলেন, এটি চোখের সামনে থাকলে মন শান্ত রাখতে বা মেডিটেশন করতে সুবিধা হয় তাদের। তবে এ কথা না মেনে উপায় নেই যে, হালকা বাতাসে এই শো-পিসটি দেখতে আসলেই বেশ সুন্দর। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক এর পেছনের প্রাচীন সেই বিশ্বাস ও সংস্কৃতির গল্প-
ড্রিমক্যাচার যাদের বানানো
নর্থ আমেরিকার দুটি আদিবাসী গোষ্ঠী থেকে ড্রিমক্যাচারের জন্ম। সেই দুটিক মধ্যে একটি গোষ্ঠীর – ওজিবওয়ে -- সংস্কৃতিতে তাদের ধারণা ছিল, ঘুমের সময় যে সব খারাপ স্বপ্ন আসে, তা এই জালের ভেতর আটকে যায়। আর যে সব ভালো স্বপ্ন থাকে, তা জালের মাঝখান দিয়ে ঘুমন্ত মানুষের মনে প্রবেশ করে। এক অর্থে এটি ছিল খারাপ স্বপ্ন ঠেকানোর এক প্রতীক।
ওজিবওয়ে জাতির কাহিনিতে আজ যেটিকে আমরা শো-পিস হিসেবে ব্যবহার করছি, সেটি আসলে একটি পৌরাণিক চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই চরিত্রটির নাম ছিল আসিবিকাশি বা ‘স্পাইডার ওম্যান’। ওজিবওয়েরা বিশ্বাস করতো যে, আসিবিকাশি ছিলেন গোত্রের মানুষের রক্ষক। তাই ধীরে ধীরে তারই প্রতীকী রূপ চলে এসেছে ড্রিমক্যাচারের নকশায়।
অন্যান্য গোষ্ঠীতে আসিবিকাশি ভিন্ন নামেও পরিচিত। তিনি মূলত সৃষ্টি, সুরক্ষা এবং মানুষে মানুষে সংযোগের প্রতীক। এ কারণেই আদিবাসী ঐতিহ্যে স্পাইডার ওম্যানকে সুতা বা জালের প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। যে জাল মানুষকে তার স্বপ্ন, পূর্বপুরুষ এবং প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখে। যদিও তার ভূমিকা বিভিন্ন উপজাতিতে ভিন্ন। তবে বেশিরভাগ সংস্কৃতিতেই তিনি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক উভয় জগতে বুদ্ধি, ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রতীক।
আধুনিক ড্রিমক্যাচার
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ড্রিমক্যাচারের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। পশ্চিমে এখন অনেকেই বিশ্বাস করেন, ঘরে বা কর্মস্থলে ঝুলিয়ে রাখলে এটি ইতিবাচক শক্তি আকর্ষণ করে, দুঃস্বপ্ন দূর করে এবং সৌভাগ্য নিয়ে আসে। এজন্যই শুধু শোবার ঘরে নয়, অনেকেই গাড়িতেও স্বপ্নপাশ ঝুলিয়ে রাখেন।
তবে আজকের দিনে এটি শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়, বরং এক ধরনের ফ্যাশন ও শৈল্পিক সাজসজ্জার সামগ্রী। পালক, মুক্তো আর রঙিন সুতোয় সাজানো এই শিল্পকর্ম এখন ঘর সাজানোর ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বোহো স্টাইলে যারা ঘর সাজাতে পছন্দ করেন, তাদের বসার ঘর বা শোবার ঘরে সহজেই আপনি একটি ড্রিমক্যাচারের দেখা পেয়ে যাবেন।
সূত্র: টাইমস্ অব ইন্ডিয়া, দ্য পেগানিস্তা
এএমপি/এমএস