আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁর একাধিক উপজেলা থেকে চুরি হওয়া ৫টি গরুসহ চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার কমল দোগাছি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে গোলাম রাব্বানী (৩৯), নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকার পতিত চন্দ্র হালদারের ছেলে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং একই এলাকার সুমেন রাজবংশীর ছেলে সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)। এর আগে একই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে চক্রটির মোট ছয় সদস্য পুলিশের হাতে ধরা পড়ল। পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁর রানীনগর, আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, রানীনগর থানা পুলিশ এবং র‍্যাবের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গত ১৪ জুলাই অভিযানে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের

আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁর একাধিক উপজেলা থেকে চুরি হওয়া ৫টি গরুসহ চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার কমল দোগাছি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে গোলাম রাব্বানী (৩৯), নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকার পতিত চন্দ্র হালদারের ছেলে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং একই এলাকার সুমেন রাজবংশীর ছেলে সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)। এর আগে একই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে চক্রটির মোট ছয় সদস্য পুলিশের হাতে ধরা পড়ল।

পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁর রানীনগর, আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, রানীনগর থানা পুলিশ এবং র‍্যাবের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গত ১৪ জুলাই অভিযানে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত গরু চোর গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী।

পরে গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার ও সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই।

রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, উপজেলার গোনা এলাকায় দুটি গরু চুরির ঘটনায় মামলা হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজে একটি পিকআপ ভ্যান শনাক্ত করা হয়। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয় এবং ধারাবাহিক অভিযানে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, চক্রটির সদস্য সংখ্যা মোট আটজন। তারা একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সম্ভাব্য টার্গেট নির্ধারণ করত। এরপর সুযোগ বুঝে গরু চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি সংঘটিত করত। এখনো দুই সদস্য পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও ময়মনসিংহকেন্দ্রিক এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। নাটোরে গ্রেপ্তার হওয়া সুজিত ও সুচন্দন এলাকায় গরুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি ও ডাকাতির মাধ্যমে গরু এনে কিছুদিন নিজেদের হেফাজতে রেখে পরে বিক্রি করে দিত।

তিনি বলেন, কৃষকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের একটি গরু। এ ধরনের সংঘবদ্ধ চোরচক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow