আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হাঙ্গেরির

2 days ago 5

হাঙ্গেরির সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে বেরিয়ে যাবে। দেশটির ওরবান সরকার এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোনায়াভুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হাঙ্গেরি সফরে রয়েছেন।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান দীর্ঘদিন ধরে আইসিসির সমালোচনা করে আসছিলেন। তার মুখপাত্র গেরগেলি গুলিয়াস বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ফেসবুক পোস্টে জানান, হাঙ্গেরি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। সরকার শিগগিরই সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো অনুযায়ী প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করবে।

হাঙ্গেরির এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দেওয়ার এক বছর পর কার্যকর হবে। এখন পর্যন্ত শুধু বুরুন্ডি ও ফিলিপাইন আইসিসি থেকে সরে গেছে।

এদিকে, হাঙ্গেরির এই সিদ্ধান্তে আইসিসির প্রশাসনিক পরিষদ উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যাহার আমাদের ন্যায়বিচারের অভিন্ন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই আদালতকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দেওয়া। বিচার ও ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের ঐক্য অপরিহার্য।

অন্যদিকে, বুদাপেস্টের িএম সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু। ওরবানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটি একটি সাহসী ও নীতিগত সিদ্ধান্ত। হাঙ্গেরি প্রমাণ করেছে যে তারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থার (আইসিসি) বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত।"

ইসরায়েল শুরু থেকেই আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি দাবি করেছে, আদালত ‘গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে’ ও ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে।

আইসিসির অভিযোগ ও বিতর্ক

আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে। আদালত জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রতিরক্ষা প্রধান হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন এবং যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে অনাহার ব্যবহারের জন্য দায়ী।

হেগভিত্তিক আদালত হাঙ্গেরির এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের এককভাবে আদালতের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করার অধিকার নেই।

হাঙ্গেরি ১৯৯৯ সালে রোম স্ট্যাটুট স্বাক্ষর করে এবং ২০০১ সালে তা অনুমোদন করে। কিন্তু গুলিয়াস দাবি করেছেন, "হাঙ্গেরি এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব আইনে অন্তর্ভুক্ত করেনি, তাই আদালতের কোনো নির্দেশ এখানে কার্যকর নয়।"

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ টামাস হফম্যান বলেন, হাঙ্গেরির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে চলার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক বিবৃতিতে আইসিসির সাথে সব রাষ্ট্রের সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে ও হাঙ্গেরির সংবিধানে বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক আইনকে দেশীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

এদিকে হাঙ্গেরির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। তিনি নেতানিয়াহুর সফরকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের জন্য একটি অন্ধকার দিন’ বলে অভিহিত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

এসএএইচ

Read Entire Article