আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ (সংশোধিত)-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ নিজেই শুনানি করেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদের করা রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের আইনটিকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতাহীন’ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের এখতিয়ার দিয়ে ১৯৭৩ সালের এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য বা রেশিও লেগিস ছিল মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু পরবর্তীতে সম্পাদিত শিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে সব যুদ্ধবন্দীর নিঃশর্ত প্রত্যাবাসন ঘট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ (সংশোধিত)-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ নিজেই শুনানি করেন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদের করা রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের আইনটিকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতাহীন’ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের এখতিয়ার দিয়ে ১৯৭৩ সালের এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য বা রেশিও লেগিস ছিল মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু পরবর্তীতে সম্পাদিত শিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে সব যুদ্ধবন্দীর নিঃশর্ত প্রত্যাবাসন ঘটে। ফলে এই আইনের অধীনে বিচারের সম্ভাবনা তখনই শেষ হয়ে যায়।

রিটে আরও বলা হয়, অকার্যকর আইনটিকে ২০০৯ সাল থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনরুজ্জীবিত করা হয় এবং তৎকালীন বিরোধীদলের নেতাদের লক্ষ্য করে ‘বিচারিক হত্যা’র মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলে এটি ব্যবহার করা হয়।

আবেদনকারীর মতে, এই আইনের প্রয়োগ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) এবং ৩৫ অনুচ্ছেদের (বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ) স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাছাড়া সংবিধানের ৯৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকরা কেবল হাইকোর্ট বিভাগেই আসন গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালনা সংবিধান পরিপন্থি। কিন্তু তা করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল রিটে।

এফএইচ/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow