আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার ইঙ্গিতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আরও কমেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমে যাওয়ায় টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো লোকসানে পড়েছে সোনার বাজার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৬৯ দশমিক ৪৪ ডলারে নেমে এসেছে। দিনের শুরুতে এটি ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছে ৪,১১৯ দশমিক ৭৮ ডলারে লেনদেন হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,১৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে স্থির হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারী বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এতে সোনার চাহিদা কমে গেছে। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও চলতি বছর আরও সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা সোনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। গত বুধবার ফেডের ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ৯ জন চলতি বছরে আরও সুদের হার বৃদ্ধির পক

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার ইঙ্গিতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আরও কমেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমে যাওয়ায় টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো লোকসানে পড়েছে সোনার বাজার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৬৯ দশমিক ৪৪ ডলারে নেমে এসেছে। দিনের শুরুতে এটি ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছে ৪,১১৯ দশমিক ৭৮ ডলারে লেনদেন হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,১৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে স্থির হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারী বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এতে সোনার চাহিদা কমে গেছে। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও চলতি বছর আরও সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা সোনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

গত বুধবার ফেডের ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ৯ জন চলতি বছরে আরও সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। বর্তমানে বাজারে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর প্রায় ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। উচ্চ সুদের হার সাধারণত সোনার মতো অ-সুদবাহী সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়েছে। তবে একই সময়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স চলতি বছরের ডিসেম্বরের জন্য সোনার মূল্য পূর্বাভাস কমিয়ে আউন্সপ্রতি ৫,৪০০ ডলার থেকে ৪,৯০০ ডলারে নামিয়ে এনেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম আরও কমার ঝুঁকি থাকলেও মধ্যমেয়াদে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও এ সপ্তাহে নিম্নমুখী ছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow