আপনার জাকাতের হিসাব কীভাবে করবেন
সামর্থবান প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জাকাত দেওয়া ফরজ। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক এমন ব্যক্তি সামর্থ্যবান, যার কাছে সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের নির্দিষ্ট সম্পদ রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৯) সুতরাং যার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার উপর জাকাত ফরজ। নির্দিষ্ট সময় তাকে জাকাত আদায় করতে হবে। সব সম্পদে জাকাত আসে না। কেবলমাত্র পাঁচ ধরনের সম্পদে জাকাত আদায় করতে হয়। তা হলো স্বর্ণ, রুপা, নগদ ক্যাশ, ব্যবসায়ী পণ্য এবং গবাদি পশু (যদি গবাদি পশুর জন্য বছরের অধিকাংশ সময় খাবারের ব্যবস্থা করা না লাগে এবং মাঠের ঘাসেই তার পেট চলে, তাহলে জাকাত আসবে। অন্যথায় আসবে না।) এই পাঁচ জিনিসের মধ্য থেকে যেসব জিনিস আছে, তার মোট মূল্য যদি সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপার মূল্য পরিমাণ হয়, তাহলে জাকাত দিতে হবে। এগুলোর বাইরে অন্যান্য সম্পদে -হোক তা হীরা, জাওহার বা এজাতীয় কোনো মূল্যবান জিনিস- জাকাত আসবে না। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৪৮; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৬১; বাদায়েউস সানায়ে : ২/৯১; রদ্দুল মুহতার : ২/২৬৩) ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তি যেদিন সামর্থ্যবান হয়, সেদিনটি তার বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হয়। কারণ, এমন সামর্থ্যবান অবস্থায়
সামর্থবান প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জাকাত দেওয়া ফরজ। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক এমন ব্যক্তি সামর্থ্যবান, যার কাছে সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের নির্দিষ্ট সম্পদ রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৯) সুতরাং যার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার উপর জাকাত ফরজ। নির্দিষ্ট সময় তাকে জাকাত আদায় করতে হবে।
সব সম্পদে জাকাত আসে না। কেবলমাত্র পাঁচ ধরনের সম্পদে জাকাত আদায় করতে হয়। তা হলো স্বর্ণ, রুপা, নগদ ক্যাশ, ব্যবসায়ী পণ্য এবং গবাদি পশু (যদি গবাদি পশুর জন্য বছরের অধিকাংশ সময় খাবারের ব্যবস্থা করা না লাগে এবং মাঠের ঘাসেই তার পেট চলে, তাহলে জাকাত আসবে। অন্যথায় আসবে না।) এই পাঁচ জিনিসের মধ্য থেকে যেসব জিনিস আছে, তার মোট মূল্য যদি সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপার মূল্য পরিমাণ হয়, তাহলে জাকাত দিতে হবে। এগুলোর বাইরে অন্যান্য সম্পদে -হোক তা হীরা, জাওহার বা এজাতীয় কোনো মূল্যবান জিনিস- জাকাত আসবে না। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৪৮; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৬১; বাদায়েউস সানায়ে : ২/৯১; রদ্দুল মুহতার : ২/২৬৩)
ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তি যেদিন সামর্থ্যবান হয়, সেদিনটি তার বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হয়। কারণ, এমন সামর্থ্যবান অবস্থায় থেকে এক চান্দ্র বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ঠিক ওই দিনটিতেই জাকাত ফরজ হয়। ওই দিনের জাকাতযোগ্য সম্পদ অনুযায়ীই জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। যেমন কেউ মুহাররমের ৫ তারিখে সামর্থ্যবান হলো, এরপর আগামী বছর মুহাররমের ৫ তারিখেও যদি তার কাছে নেসাব পরিমাণ জাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে, তাহলে নতুন বছরের ৫ মুহাররম তার ওপর জাকাত ফরজ হবে এবং সেদিন যে পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার আলোকে জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৬৩-১৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৭৫; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার : ২/২৯৪)।
যে দিন জাকাত ফরজ হবে (যেমন উপরোক্ত উদাহরণে নতুন বছরের ৫ মুহাররম), ওই দিন ব্যক্তির কাছে থাকা জাকাতযোগ্য সম্পদের একটি তালিকা করতে হবে। এরপর এসব সম্পদের সর্বমোট মূল্য হিসাব করে বের করতে হবে। অতঃপর জাকাতযোগ্য সম্পদের মূল্য থেকে ঋণের টাকা -যদি থেকে থাকে- বাদ দিতে হবে। তারপর যে টাকাটা অবশিষ্ট থাকে, তার আড়াই শতাংশ হিসাব করে জাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিত বলা যাক। জাকাতের হিসাব বের করতে আমাদের চার ধাপে কাজ করতে হবে। প্রথম কাজ হলো, জাকাতযোগ্য সম্পদের একটি তালিকা তৈরি করা। আমরা প্রথমেই বলেছি, জাকাতযোগ্য সম্পদ পাঁচটি- স্বর্ণ, রুপা, নগদ ক্যাশ, ব্যবসায়ী পণ্য এবং গবাদি পশু। এর মধ্যে স্বর্ণ-রুপার স্থিতি সহজেই নিরুপণ করা যায়। গবাদি পশুরু বিষয়টিও স্পষ্ট। কিন্তু নগদ ক্যাশ ও ব্যবসায়ী পণ্য বিভিন্ন পন্থায় সংরক্ষিত থাকে। সেজন্য অনেক ক্ষেত্রে তা নির্ধারণে বিভ্রম ঘটতে পারে। হিসাবের সুবিধার্তে আমরা একটি তালিকা নমুনা হিসেবে পেশ করছি-
যেমন থাকতে পারে স্বর্ণ, রুপা, নগদ অর্থ, প্রাপ্য ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ, ফেরতযোগ্য বীমা পলিসিতে জমাকৃত অর্থ, শেয়ার, বন্ডের ক্রয়মূল্য, ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের মূল টাকা, বিক্রিত পণ্যের বাকি মূল্য, বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত বস্তু, ব্যবসার কাঁচামাল এবং অংশীদারিত্ব ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত মূল পূঁজি ইত্যাদি।
এভাবে বিভিন্ন রূপে নগদ ক্যাশ এবং ব্যবসায়ী পণ্য থাকতে পারে। এসবের হিসাব বের করতে হবে। এটি জাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে প্রথম কাজ।
দ্বিতীয় কাজ হলো, এসব সম্পদের মূল্য বের করতে হবে। মূল্য বের করার ক্ষেত্রে উত্তম হলো, এসব পণ্যের বাজারদর হিসাব করা। অর্থাৎ আপনি যদি এখন বাজার থেকে পণ্যটি ক্রয় করেন, কত টাকা দিয়ে কিনতে হবে, ওই পরিমাণ টাকা মূল্য ধরতে হবে। এভাবে প্রত্যেকটি পণ্যের বাজারদর খোঁজ করে মূল্য হিসাব করা। তারপর সবগুলো মূল্য যোগ করে দেখতে হবে আপনার কাছে কত টাকা আছে।
অবশ্য পণ্যটির বিক্রয় মূল্যের আলোকেও হিসাব করা যায়। অর্থাৎ আপনি পণ্যটি এখন বিক্রি করতে গেলে বাজারে কত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন, সেটাকে মূল্য হিসেবে হিসাব করা। তবে ক্রয়মূল্য ধরা হলে যেহেতু দরিদ্রদের উপকার বেশি হয়, সেজন্য ক্রয়মূল্য ধরাটাই উত্তম। (ফাতাওয়া উসমানী : ২/৬৬)।
তৃতীয় কাজ হলো আপনার যদি কোনো ঋণ থেকে থাকে, ওই ঋণের টাকা জাকাতযোগ্য সম্পদের সর্বমোট মূল্য থেকে বাদ দিতে হবে। তবে এই ঋণের মধ্যে ব্যবসার ঋণ উদ্দেশ্য নয়। ঋণের একটি সম্ভাব্য তালিকা এমন হতে পারে-
ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নেওয়া ঋণ; বাকিতে ক্রয়কৃত পণ্যের অপরিশোধিত ঋণ, যা জাকাতবর্ষের মধ্যেই আদায় করতে হবে; স্ত্রীর মোহর, যা চলতি বছরই দেওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে; ফ্ল্যাট, দোকান, বাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সিকিউরিটি হিসেবে নেওয়া অর্থ। ভাড়াটিয়া এর জাকাত আদায় করবে। তবে বাড়ি বা দোকানের মালিক যদি এর জাকাত আদায় করে ফেলে, তাহলে ওই টাকা হস্তগত হওয়ার আগে ভাড়াটিয়াকে এর জাকাত দিতে হবে না। যেন একই সম্পদে দুবার জাকাত না দিতে হয়। আর বাড়ি বা দোকানের মালিক প্রতি বছর এর জাকাত আদায় করে থাকলে, যে বছর সে উক্ত টাকা ফেরত দেবে, কেবল সেই বছর তা বাদ দিয়ে জাকাত হিসাব করবে; কর্মচারীদের অনাদায়ী বেতন-ভাতা; অনাদায়ী বাড়ি বা দোকান ভাড়া; ট্যাক্স ও বিদ্যুৎ ইত্যাদির বিল, যা আগে শোধ করা হয়নি এবং জাকাতবর্ষের মধ্যেই শোধ করতে হবে; অতীতের জাকাত যা এখনও আদায় করা হয়নি; ব্যবসার উদ্দেশ্যে নেওয়া ঋণ, যা দিয়ে জাকাতযোগ্য সম্পদ ক্রয় করা হয়েছে। যেমন, পণ্য বা কাঁচা মাল ইত্যাদি।
এগুলো হলো ঋণের সম্ভাব্য তালিকা। তৃতীয় কাজ হলো এসব ঋণ খুঁজে বের করা। তারপর তার মূল্য যোগ করে যত টাকা হয়, তা জাকাতের নেসাব থেকে বাদ দেওয়া। (আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৭২; রদ্দুল মুখতার : ২/২৬০)।
চতুর্থ কাজ হলো, জাকাতের নেসাবে অবশিষ্ট যে টাকা আছে, তার থেকে আড়াই শতাংশ টাকা জাকাত হিসেবে আদায় করা।
এভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব করে জাকাত আদায় করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে উত্তম হলো, কোনো শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ আলেমের মাধ্যমে জাকাতের হিসাব সম্পন্ন করা। নিজে নিজে জাকাতের হিসাব করা সমুচিত নয়। কারণ, হতে পারে আপনার সম্পদের এমন কোনো দিক আছে, যেটাকে আপনি জাকাতযোগ্য মনে করছেন না। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে তাতেও জাকাত আসে। বর্তমানে নগদ ক্যাশ ও ব্যবসায়ী পণ্য নানা উপায়ে গচ্ছিত থাকে। তাই এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেজন্য শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ কোনো আলেমের মাধ্যমে জাকাতের হিসাব করিয়ে নেওয়াটা নিরাপদ।
মনে রাখতে হবে, জাকাত রমজানের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ইবাদত নয়। বরং যেদিন ব্যক্তি সামর্থ্যবান হবে, তার ঠিক এক বছর পরে একই দিন তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। ঠিক এক বছর পরেই জাকাতযোগ্য সম্পদের পরিমাণ বের করে জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করে নিতে হবে। এরপর ইচ্ছে হলে একসঙ্গে জাকাতের হকদারদের মাঝে ওই টাকা বিতরণ করে দিতে পারে। আবার অল্প অল্প করে বিভিন্ন সময় তা আদায় করা যেতে পারে।
কারো যদি রজমানে জাকাত আদায় করার ইচ্ছে থাকে, তাহলে তার উচিৎ হলো যেদিন জাকাত ফরজ হবে, সেদিন জাকাতের হিসাব করে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা। এরপর রমজানের সময় ওই টাকা জাকাতের হকদারদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া। তবে উত্তম হবে- যেদিন জাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হলো, সেদিন থেকে অল্প অল্প করে জাকাত দিতে শুরু করা। এরপর যখন রমজান মাস আসে, তখন বাকিটুকু হকদারদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া।
What's Your Reaction?