আবার ফিরতে পারে বদলানো যায় এমন ব্যাটারির স্মার্টফোন
একসময় মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বদলানো ছিল খুবই সহজ। ফোনের পেছনের কভার খুলে পুরোনো ব্যাটারি বের করে নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে নিলেই হতো। কিন্তু স্মার্টফোন পাতলা হওয়া, পানি ও ধুলা প্রতিরোধ এবং উন্নত নকশার কারণে সহজে খোলা যায় এমন ব্যাটারি এখন প্রায় বিলুপ্ত। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন একটি নিয়মের কারণে আগামী বছর থেকে স্মার্টফোনে বদলানো যায় এমন ব্যাটারি আবারও দেখা যেতে পারে। বর্তমানে অবশ্য কিছু ফোনে সহজেই ব্যাটারি পরিবর্তনের সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এক্সকভার ৭ প্রো। ফোনটিতে ৪ হাজার ৩৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সহজেই খুলে পরিবর্তন করা যায়। দুর্গম পরিবেশে কাজ করা বা ভ্রমণকারীদের কথা মাথায় রেখে ফোনটি তৈরি করা হয়েছে। আরও পড়ুন মাত্র ১% চার্জে কতক্ষণ আপনার ফোন চালাতে পারবেন? এছাড়া ফেয়ারফোন ৬-এও ব্যাটারি পরিবর্তন করা যায়। তবে আগের মডেলগুলোর মতো শুধু পেছনের কভার খুললেই ব্যাটারি বের করা যায় না। ব্যাটারিটি পাঁচটি স্ক্রু দিয়ে আটকানো থাকে। ফলে কিছুটা বেশি সময় লাগলেও ব্যবহারকারী নিজেই ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারেন। কেন হারিয়ে গেল বদলানো যায় এমন ব্
একসময় মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বদলানো ছিল খুবই সহজ। ফোনের পেছনের কভার খুলে পুরোনো ব্যাটারি বের করে নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে নিলেই হতো। কিন্তু স্মার্টফোন পাতলা হওয়া, পানি ও ধুলা প্রতিরোধ এবং উন্নত নকশার কারণে সহজে খোলা যায় এমন ব্যাটারি এখন প্রায় বিলুপ্ত।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন একটি নিয়মের কারণে আগামী বছর থেকে স্মার্টফোনে বদলানো যায় এমন ব্যাটারি আবারও দেখা যেতে পারে।
বর্তমানে অবশ্য কিছু ফোনে সহজেই ব্যাটারি পরিবর্তনের সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এক্সকভার ৭ প্রো। ফোনটিতে ৪ হাজার ৩৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সহজেই খুলে পরিবর্তন করা যায়। দুর্গম পরিবেশে কাজ করা বা ভ্রমণকারীদের কথা মাথায় রেখে ফোনটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া ফেয়ারফোন ৬-এও ব্যাটারি পরিবর্তন করা যায়। তবে আগের মডেলগুলোর মতো শুধু পেছনের কভার খুললেই ব্যাটারি বের করা যায় না। ব্যাটারিটি পাঁচটি স্ক্রু দিয়ে আটকানো থাকে। ফলে কিছুটা বেশি সময় লাগলেও ব্যবহারকারী নিজেই ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারেন।
কেন হারিয়ে গেল বদলানো যায় এমন ব্যাটারি?
এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ব্যবহারকারীরা পাতলা ও হালকা ফোন পছন্দ করেন। সহজে খোলা যায় এমন ব্যাটারির জন্য অতিরিক্ত ক্লিপ, স্ক্রু ও অন্যান্য কাঠামো প্রয়োজন হয়, যা ফোনকে তুলনামূলক মোটা করে ফেলতে পারে।
এছাড়া আধুনিক ফোনে কাচ ও ধাতবের মতো প্রিমিয়াম উপকরণের ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে কাচের পেছনের প্যানেল সহজে খোলা যায় এমন নকশার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
পানি ও ধুলা প্রতিরোধও বড় কারণ। আধুনিক অনেক স্মার্টফোন আইপি৬৮ মানের সুরক্ষা দেয়। ফোনের শরীর সিল করা থাকায় পানি ও ধুলা প্রবেশের ঝুঁকি কমে। তবে গ্যালাক্সি এক্সকভার ৭ প্রো দেখিয়েছে, বদলানো যায় এমন ব্যাটারি থাকলেও পানি ও ধুলা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরেকটি কারণ ব্যবসায়িক। সহজে ব্যাটারি পরিবর্তন করা গেলে একটি ফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব হয়। ফলে ব্যবহারকারীদের ঘন ঘন নতুন ফোন কেনার প্রয়োজন কমতে পারে।
২০২৭ সালে কী পরিবর্তন আসছে?
২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন একটি আইন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে এমন ব্যাটারি ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীর জন্য ব্যাটারি পরিবর্তন করা সহজ হয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরোনো দিনের মতো শুধু নখ দিয়ে পেছনের কভার খুলে ব্যাটারি বের করা যাবে। নতুন নিয়মে সাধারণভাবে স্ক্রু ড্রাইভারের মতো বাজারে সহজলভ্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে ব্যাটারি খুলতে পারলেই সেটিকে ব্যবহারকারীর জন্য পরিবর্তনযোগ্য হিসেবে ধরা হবে। বিশেষায়িত সরঞ্জাম প্রয়োজন হলে তা বিনামূল্যে সরবরাহ করতে হবে। ব্যাটারি খুলতে তাপ বা বিশেষ দ্রাবক প্রয়োজন হয় এমন আঠালো ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যাবে না। ফলে আগামী বছর থেকে অনেক ফোনে স্ক্রু দিয়ে আটকানো ব্যাটারি ব্যবস্থার দেখা মিলতে পারে।
দামি ফোনে কি একই পরিবর্তন আসবে?
এখানে কিছু ছাড়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নির্মাতারা সাধারণ ব্যবহারকারীর বদলে পেশাদার মেরামতকারীদের মাধ্যমে ব্যাটারি পরিবর্তনের ব্যবস্থা রাখতে পারবে।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-৫০০ বার চার্জ চক্রের পর ব্যাটারির সক্ষমতা অন্তত ৮৩ শতাংশ এবং ১ হাজার চার্জ চক্রের পর অন্তত ৮০ শতাংশ থাকতে হবে। পাশাপাশি ফোনটিতে কমপক্ষে আইপি৬৭ মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধ থাকতে হবে।
ফলে আগামী বছর বাজারে এমন অনেক নতুন ফোন আসতে পারে, যেগুলোর ব্যাটারি তুলনামূলকভাবে সহজে পরিবর্তন করা যাবে। তবে উচ্চমূল্যের প্রিমিয়াম ফোনগুলোর নকশায় বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মের প্রভাব অবশ্য শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আলাদা করে শুধু ইউরোপের জন্য ফোন তৈরি না করে নির্মাতারা একই নকশা বিশ্বব্যাপী ব্যবহার করলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের বাজারেও বদলানো যায় এমন ব্যাটারির ফোন ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শাহজালাল/কেএসকে
What's Your Reaction?

