আবাস সংকটে প্রকৃতির নিপুণ কারিগর বাবুই
এক সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তাল, খেজুর ও নারকেল গাছে ঝুলন্ত বাবুই পাখির নিপুণ কারুকার্যময় বাসা দেখা যেত। বাসা ঘিরে তাদের ওড়াউড়িতে মুখরিত থাকতো গ্রামীণ পরিবেশ। এতে গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃতি ও পাখির মেলবন্ধনের চিত্র ফুটে উঠতো। তবে প্রকৃতি থেকে বাবুই পাখিদের বাসযোগ্য গাছপালা নির্বিচারে কর্তন এবং কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বিরল হয়ে পড়েছে। ফলে বাসযোগ্য আবাসস্থল সংকটের কারণে ধীরে ধীরে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে শিল্পী পাখিগুলো। এতে এ উপজেলা থেকে দিন দিন কমে যাচ্ছে শিল্পী পাখি হিসেবে পরিচিত বাবুই পাখির সংখ্যা। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল মনে করেন, বাবুই পাখি রক্ষায় এখনই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে তাল, খেজুর ও নারকেল গাছ সংরক্ষণ এবং নতুন করে এসব গাছের চারা রোপণ করা দরকার। এছাড়াও কৃষি জমিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ শিল্পী পাখির আবাসস্থল টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে বাবুই পাখির উপস্থিতি আরও কমে যেতে পারে। স্থানীয়রা জানান, একসময় এ উপজেলায় যে পরি
এক সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তাল, খেজুর ও নারকেল গাছে ঝুলন্ত বাবুই পাখির নিপুণ কারুকার্যময় বাসা দেখা যেত। বাসা ঘিরে তাদের ওড়াউড়িতে মুখরিত থাকতো গ্রামীণ পরিবেশ। এতে গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃতি ও পাখির মেলবন্ধনের চিত্র ফুটে উঠতো।
তবে প্রকৃতি থেকে বাবুই পাখিদের বাসযোগ্য গাছপালা নির্বিচারে কর্তন এবং কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বিরল হয়ে পড়েছে। ফলে বাসযোগ্য আবাসস্থল সংকটের কারণে ধীরে ধীরে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে শিল্পী পাখিগুলো। এতে এ উপজেলা থেকে দিন দিন কমে যাচ্ছে শিল্পী পাখি হিসেবে পরিচিত বাবুই পাখির সংখ্যা।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল মনে করেন, বাবুই পাখি রক্ষায় এখনই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে তাল, খেজুর ও নারকেল গাছ সংরক্ষণ এবং নতুন করে এসব গাছের চারা রোপণ করা দরকার। এছাড়াও কৃষি জমিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ শিল্পী পাখির আবাসস্থল টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে বাবুই পাখির উপস্থিতি আরও কমে যেতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এ উপজেলায় যে পরিমাণে বিশেষ করে তালগাছ ছিল সে অনুযায়ী তাল গাছের সংখ্যা এখন আর নেই। আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তাই এ উপজেলায় আগের মতো আর তেমন বাবুই পাখির বাসাও চোখে পড়ে না। নতুন বাড়িঘর নির্মাণ ও রাস্তা সম্প্রসারণসহ আরও নানা কারণে এ পাখির বাসযোগ্য গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। অপরদিকে দীর্ঘ বয়সী গাছগুলো এমনিতেই মরে যাচ্ছে। এতে করে বাবুই পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পোকামাকড় কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকটেও পড়ছে তারা। উপজেলার কিছু এলাকায় এখনো এ পাখিগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও তা আগের তুলনায় যৎসামান্য।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বলেন, আগে আমাদের গ্রামের পাশের কয়েকটি তালগাছে একসঙ্গে অনেক বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। তবে সেই গাছগুলো এখন আর নেই, এজন্য বাবুই পাখিদেরও এখন আর এই এলাকায় দেখা যায় না। পাখিদের উপস্থিতিতে সেই সময়ের পরিবেশটা বেশ মনোমুগ্ধকর ছিল।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ছোটোবেলায় আমরা বাবুই পাখির বাসা দেখে খুব আনন্দ পেতাম। তালগাছ আর তাল গাছের পাতায় বানানো বাসায় পাখিদের ওড়াউড়ি আর খুনসুটির দৃশ্য সে সময় আমাদের মুগ্ধ করতো। এখনকার শিশুদের সেই দৃশ্য দেখানোর মতো পরিবেশটা নেই বললেই চলে। যদি পাখিগুলোর বাসযোগ্য গাছ রক্ষা করা যায় তাহলে হয়তো আবার বাবুই পাখিরা তাদের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাবুই পাখি আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাবুই পাখি বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ। আমাদের বাংলা সাহিত্যেও শিল্পী পাখি বাবুইর কথা উঠে এসেছে। তবে প্রকৃতির প্রতি আমাদের অবহেলা আর অবিচারের কারণে এসব পাখির আবাসস্থল দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে এ শিল্পী পাখিগুলো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দেশীয় প্রাণী ও প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে শ্রেণিকক্ষেও এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা উচিত। এতে নতুন প্রজন্ম প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে উঠবে। বাবুইরা আবারও তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ফিরে পাবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, বাবুই পাখি শুধু একটি পাখি নয়, এটি আমাদের প্রকৃতির সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় গ্রামবাংলায় গাছে গাছে ঝুলন্ত বাসা ঘিরে তাদের ওড়াউড়ির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে মন ভরে যেত। কিন্তু এখন তাদের বাস উপযোগী গাছপালা কমে যাওয়ায়, পরিবেশ দূষণ ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এ সুন্দর পাখিগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।
তিনি আরও বলেন, বাবুই পাখি রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বেশি বেশি তাল, নারকেল, খেজুর গাছ লাগাতে হবে এবং পুরোনো গাছগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি কৃষিজমিতে সচেতনভাবে কীটনাশক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যার যার জায়গা থেকে সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে আবারও গ্রামবাংলার আকাশে বাবুই পাখির কিচিরমিচির শোনা যাবে এবং প্রকৃতি ফিরে পাবে তার আগের সৌন্দর্য।
What's Your Reaction?