আমরা কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবো: আল সাদী ভুঁইয়া

3 days ago 4

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে দলীয় প্যানেলের পাশাপাশি আছে স্বতন্ত্র প্যানেল। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সব প্রার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভুঁইয়া স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলে। তিনি জিএস পদে নির্বাচন করেছেন।

ডাকসু নির্বাচন, প্রচারণা ও দায়বদ্ধতার বিষয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক হাসান আলী

জাগো নিউজ: প্রচারণায় শিক্ষার্থীদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

আল সাদী ভুঁইয়া: ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা প্রতিটি সাধারণ শিক্ষার্থীর কাছে সরাসরি যাচ্ছি। আমরা যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছি, তারা অনেক সময় আমাদের কাছে নিজেরা এগিয়ে এসেও কথা বলছে। খুব ভালো রেসপন্স করছে। স্বেচ্ছায় ছবি তুলছে। বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে, অভয় দিচ্ছে নির্বাচন নিয়ে।

সবমিলিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পজিটিভ একটা রেসপন্স পাচ্ছি। আমরা আশাবাদী, আমরা যদি শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে যেতে পারি সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আমাদের অ্যাকসেপ্ট করবে এবং আমাদের পক্ষে তাদের রায় দেবে।

জাগো নিউজ: নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন। আপনারাও করছেন কি না?

আল সাদী ভুঁইয়া: নির্বাচন নিয়ে আসলে একটা শঙ্কা আছে। জায়গাটি অনেক বড়। সব সরকার ও প্রশাসন ডাকসুকে ভয় পায়। বর্তমান যে পরিস্থিতি, ডাকসুকে এতটা আড়ম্বরপূর্ণ করা হয়েছে যেখানে মিডিয়া, প্রশাসন সবাই খুব বেশি এটা নিয়ে এক্সাইটেড। আসলে এটি অন্য নির্বাচনগুলোর মতো সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। একটি অনাড়ম্বর পরিবেশে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এটাকে এত জাঁকজমকপূর্ণ, উচ্চাভিলাসী করে তোলা হয়েছে যে, নির্বাচন যেন অনেক কিছু। অথচ ডাকসুর কিন্তু খুব বেশি কাজ নেই বা ডাকসুতে কাজ করার এত বেশি সুযোগও নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন, ডাকসুতে যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে পুরো বাংলাদেশ পরিবর্তন করে দেওয়ার একটা রূপরেখা থাকবে।

জাগো নিউজ: কারা নির্বাচন আটকে দিতে চায় বলে মনে করেন?

আল সাদী ভুঁইয়া: আমরা দেখতে পাচ্ছি, কয়েকটা পক্ষ নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করছে, ডাকসু নির্বাচনে যদি কেউ হেরে যায় তাহলে তাদের রাজনীতিতে বড় একটি ইম্প্যাক্ট পড়বে। সে জায়গা থেকে তারা এই চেষ্টা করছে। আমরা তাদের বলবো, আপনারা শিক্ষার্থীদের কাছে যান, শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন। শিক্ষার্থীদের কথা মতো কাজ করেন, আপনারা জিতে আসবেন।

আপনাদের যদি হেরে যাওয়ার শঙ্কা থাকে তাহলে আপনাদের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনেন। আপনাদের বর্তমান যে পরিকল্পনা, আচার-আচরণ সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। আপনারা ডাকসু নির্বাচন বানচালের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে খুব সফল হতে পারবেন না।

জাগো নিউজ: নির্বাচিত হলে কোন ধরনের কাজগুলো গুরুত্ব দেবেন?

আল সাদী ভুঁইয়া: অযাচিত একটা হাইপ থাকার কারণে যারা ডাকসুতে নির্বাচিত হয় তারা কাজ করার খুব একটা সুযোগ পায় না। এটি একটি নেগেটিভ বিষয়। গত ডাকসুতে ভিপি-জিএস দুজনই কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পরও সবার কাছে যেতে পারেননি। তারা তাদের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ইনটেনশন নিয়ে রাজনৈতিক জায়গায় ব্যস্ত ছিলেন।

সে জায়গায় আমরা যদি নির্বাচিত হই, সেক্ষেত্রে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবো। আমরা জাতীয় নেতা হওয়ার পথে হাঁটবো না। কখনোই আমরা ক্যাম্পাসকে দলীয়করণ করতে দেবো না। পাশাপাশি আমরা কখনোই চাইবো না যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরাজনীতিকরণ হোক। বুয়েট, কুয়েটের মতো যেন বিরাজনীতিকরণ না হয় আমরা সে বিষয়ে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করবো।

জাগো নিউজ: শিক্ষার্থীদের খাদ্য-আবাসন নিয়ে কাজ করবেন?

আল সাদী ভুঁইয়া: আমরা কাজ করবো যাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে পড়াশোনা ভালোভাবে করতে পারে। ভালো পরিবেশে থাকে। পড়াশোনার পরিবেশ যেন কেউ মিছিল-মিটিং করে হ্যাম্পার না করতে পারে। আমরা সে বিষয়টি নিশ্চিত করবো এবং শিক্ষার্থীরা যেন তাদের রাজনৈতিক অধিকার বুঝে নিতে পারে সেটি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবো। শুরু থেকেই বলতে চাচ্ছি, আমরা আসলে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবো। আমরা কুসুম কুমারী দাসের সেই আদর্শ ছেলে কবিতার সেই আদর্শ ছেলেটি হতে চাই। যারা কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। আমরা আসলে ওইদিকেই হাঁটছি।

জাগো নিউজ: শিক্ষার্থীদের চাকরিক্ষেত্র নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?

আল সাদী ভুইয়া: আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের পরেও আমাদের আসলে অনেকগুলো বিষয় এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরেও আমরা দেখছি, আন্দোলনের পরে কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা ছিল সেটি পূরণ হয়নি। আমরা ডাকসুতে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য কাজ করবো। সেটি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করবো।

একই সঙ্গে আমাদের ক্যাম্পাসে একটা শিক্ষার্থী পড়াশোনা করার পরে তার যে লক্ষ্য থাকে, একটা ভালো চাকরি পাওয়া। আমরা চাই বাংলাদেশি নাগরিকদের নাগরিক হিসেবে ট্রিট করতে হবে। সেখানে কোনো ব্যক্তি বা দলকে কোনো ধরনের ব্লেম দিয়ে, অপবাদ দিয়ে কিংবা কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দেখিয়ে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। তাকে তার যোগ্যতা দিয়ে চাকরি দিতে হবে এবং চাকরির ক্ষেত্রে আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত চাই।

এমএইচএ/এএসএ/এমএফএ/জেআইএম

Read Entire Article