‘আমার বোনই ছিল তিন সন্তানের ভরসা’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের মুখোমু‌খি সংঘর্ষে ২ নারীসহ ৮ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।  রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৬টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে বিভিন্ন নিহত স্বজনের সঙ্গে কথা হয় কালবেলার। এ সময় কথা হয় নিহত মুন্নী বেগমের ভাই হুমায়ুন আহমদের সঙ্গে।  তিনি বলেন, আমার বোনই ছিল তিন সন্তানের ভরসা। মুন্নীকে হারিয়ে অসহায় হয়েছে পুরো পরিবার। তার মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, এটি ভেঙে দিয়েছে একটি অসহায় পরিবারের শেষ আশ্রয়টুকুও। তিনি কালবেলাকে বলেন, আমার বোনের স্বামী দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। পেশায় গাড়িচালক হলেও তিনি স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেননি। ফলে তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন মুন্নী। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি কয়েক বছর ধরে ঢালাই শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় এক আত্মীয়ের বা

‘আমার বোনই ছিল তিন সন্তানের ভরসা’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের মুখোমু‌খি সংঘর্ষে ২ নারীসহ ৮ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। 

রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৬টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।

বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে বিভিন্ন নিহত স্বজনের সঙ্গে কথা হয় কালবেলার। এ সময় কথা হয় নিহত মুন্নী বেগমের ভাই হুমায়ুন আহমদের সঙ্গে। 

তিনি বলেন, আমার বোনই ছিল তিন সন্তানের ভরসা। মুন্নীকে হারিয়ে অসহায় হয়েছে পুরো পরিবার। তার মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, এটি ভেঙে দিয়েছে একটি অসহায় পরিবারের শেষ আশ্রয়টুকুও।

তিনি কালবেলাকে বলেন, আমার বোনের স্বামী দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। পেশায় গাড়িচালক হলেও তিনি স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেননি। ফলে তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন মুন্নী। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি কয়েক বছর ধরে ঢালাই শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে প্রতিদিন ভোরে কাজে বের হতেন। রোববার ভোরেও প্রতিদিনের মতো কিছু না খেয়েই সকাল সাড়ে ৫টার দিকে কাজের উদ্দেশে বের হন তিনি। কিন্তু সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়ে যায় আমার বোনের।

হুমায়ুন বলেন, আমার বোনের তিনটা ছোট ছোট বাচ্চা। ওরা এখন এতিম হয়ে গেল। তাদের দেখার কেউ নাই। আমার বোনই ছিল তাদের একমাত্র উপার্জনকারী। এখন আমরা কীভাবে তাদের মানুষ করব বুঝছি না।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২), ধর্মপাশা উপজেলার নার্গিস আক্তার (৪৫), দিরাইয়ের সেছনি গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম (২৬), দিরাই ইসলামপুরের নুরুজ আলী (৬০) ও নূরনগরের ফরিদুল (৩৫), সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার রায়েরগাঁওয়ের বদরুল আমিন (৪০), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পাণ্ডব বিশ্বাস (২০) এবং পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান,সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের কুঠির বিশ্বাসের ছেলে পান্ডব বিশ্বাস (২০)।

আহতরা হলেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরীর কালিবাড়ী এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানা লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আম্বরখানা পয়েন্টে থেকে ২০ থেকে ২৫ জন ঢালাই শ্রমিক ও ঢালাই মেশিন নিয়ে একটি পিকআপে করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে নির্মাণ শ্রমিকরা। পিকআপটি তেলিবাজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৪ জন শ্রমিক নিহত হন। গুরুতর আহত আরও ৪ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৭টায় তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জনে। এ ঘটনায় আরও ৭ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে ট্রাক ও শ্রমিকবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামীকে হারিয়ে বেঁচে গেছেন খাদিজা বেগম। তার সঙ্গে দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে কথা হয় কালবেলার। তিনি বলেন, বেঁচে আছি, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমি ও আমার স্বামী ঢালাইর কাজ করি।

সকালে চা খেয়ে বাসা থেকে একসঙ্গে বের হয়েছিলাম। পিকআপে তিনি আমার পাশেই বসা ছিলেন। আমরা যে পিকআপে ছিলাম সেটা দ্রুতগতিতে চলছিল। পথিমধ্যে একটি বেপোরোয়া গতির ট্রাক এসে আমাদের পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধলে তখন আমার স্বামী আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলেন। পরে আর কিছু মনে নেই আমার। আমার দুই হাত ও মাথায় আঘাত পেয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বদরুল (৩০), সিলেটের জালালাবাদ থানার বাসিন্দা সুজাত আলীর ছেলে। দুর্ঘটনার সময় একই গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী খাদিজা গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান খাফিজা বেগম (৩০)। মাঝে মধ্যে নিঃশব্দে তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। কারণ একই হাসপাতালের অন্য ভবনের মর্গে ফ্রিজিং অবস্থায় রাখা তার চার শিশুর বাবা বদরুল আমিনের লাশ। চার সন্তান এখনো জানে না এই হাসপাতালের দুই ভিন্ন কক্ষে তাদের জীবনের গল্প দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একদিকে মায়ের বেঁচে থাকার লড়াই, অন্যদিকে বাবার চিরবিদায়।

জানা যায়, খাদিজা ও বদরুলের সংসারে রয়েছে তিন ছেলে ও এক মেয়ে। গুরুতর আহত খাদিজা কখনো হঠাৎ কেঁদে উঠছেন, আবার কখনো নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছেন সন্তানদের দিকে। একদিকে নিজের শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে স্বামীর মৃত্যু দ্বিগুণ কষ্টে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

নিহত বদরুলের ছোট ভাই আলাউর মিয়া কালবেলাকে বলেন, ভাই-ভাবি সবসময় একসঙ্গে কাজ করতেন। আজও একসঙ্গে বের হয়েছিল। শুনছি, পিকআপে থাকা ঢালাইয়ের মেশিনটা উল্টে ভাইয়ের উপর পড়ে যায়, ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এখন তার চারটা ছোট ছোট সন্তান ওদের কী হবে।

নিহত নুরুজ আলীর ভাই সুয়েব আলী কালবেলাকে বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে আমার ভাই গত কয়েক দিন কাজ করতে পেরেনি। আজ রোদ ওঠায় কাজে বেরিয়েছিল। এক ঠিকাদারের মাধ্যমে আরও কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানে করে তারা সুনামগঞ্জে কাজের জন্য যাচ্ছিল। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যানের ওপর নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে সিমেন্ট মিকশ্চারের মেশিনও ছিল। ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ হলে মিকশ্চার মেশিনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সবাই পিকআপ থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে। এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত রবিন্দ্র বিশ্বাসের মৃত্যু নিয়ে কথা হয় তার কাকা ফুলিন বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি কালবেলাকে বলেন, আমার ভাতিজা রবিন্দ্র বিশ্বাসের বাবা নেই। তার মা ও ভাই ঢাকায় থাকে। আমার ভাতিজা রবিন্দ্র পরিবারের সঙ্গে ধান কাটা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। পরে সে ধান না কেটে তাদের সঙ্গে অভিমান করে ৮ দিন আগে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে সিলেটে চলে আসে। সে মাঝে মধ্যে নির্মাণকাজের জন্য ঢালাইয়ের কাজ করত। সিলেট এসে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ শুরু করে। 

নিহত ফরিদুল ইসলামের বড় ভাই কালবেলাকে বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের পরিবারে ৫ জন সদস্য। এর মধ্যে তার ৩ শিশু সন্তান রয়েছে। পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ। তার স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে বাচ্চার মুখ দেখে যেতে পারেনি। তার পরিবারের কেউ আয় রোজগারের লোক নেই। এখন এই পরিবার নিঃশ্ব।

রোববার ভোরে দায়িত্ব পালনকালে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন পুলিশ সদস্য রণজিৎ তালুকদার। তিনি বলেন, চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য জীবনে খুব কমই দেখেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের প্রটোকল ডিউটিতে ছিলাম। তেলিবাজারের মারকাজ পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছলে একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাক শ্রমিকবাহী একটি পিকআপের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গেই পিকআপে থাকা ৮-৯ জন যাত্রী পাখির বাচ্চার মতো ছিটকে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে দুইজন নারীও ছিলেন। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই আমি গাড়ি থামিয়ে ৯৯৯ কল করি এবং সুরমা থানাকে বিষয়টি জানাই। দ্রুত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আমার মনে হয়েছে ট্রাকটি মূল চালক চালাননি। হেল্পার চালাচ্ছিল। তার চোখ দেখে মনে হয়েছে সে ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল।

ঘুমিয়ে পড়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন ফায়ার সার্ভিস সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শুরুতে ৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালক ক্লান্ত বা ঘুমিয়ে পড়ায় হেলপার গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যা দীর্ঘ দূরত্বের যানবাহনের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে দেখা যায়। খাগড়াছড়ি থেকে আসা গাড়িটির সঙ্গে কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে নির্মাণ শ্রমিকবাহী পিকআপ ও ফলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ১২ জন হওয়ার যে তথ্য শোনা যাচ্ছে, তা অন্য হাসপাতালে অতিরিক্ত ভর্তির কারণে হতে পারে, যা এখনো নিশ্চিত নয়।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ট্রাকচালক ঘুমিয়ে পড়ায় ভোর ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করেছে; চালকরা পলাতক, তবে ট্রাকের হেল্পারকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক-যাত্রীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোরে গাড়ি চালানোর সময় সতর্কতা জরুরি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ওসমানীনগর ও লালাবাজার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির কালবেলাকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন মারা গেছেন। ৪ জন স্পটে আর বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। যারা আহত রয়েছেন তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাটা আমরা গুরত্ব দিয়ে করছি।

হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম কালবেলাকে বলেন, ট্রাকের ও পিকআপের মুখোমু‌খি সংঘর্ষে ৪ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং হাসপাতালে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে, ২০২৩ সালের ৭ জুন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকার কুতুবপুরে বালুবাহী ট্রাক ও শ্রমিক বহনকারী পিকআপের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত ও  ১০ জন আহত হন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow