আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে ভরপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ এখন বসন্তের সুবাসে ভরপুর। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি ঘ্রাণ। সম্ভাবনাময় ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার হাজারো আমচাষি। বাগান পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ, কীটনাশক স্প্রে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় চলছে জোর প্রস্তুতি। সদর উপজেলার ইসলামপুর, বারোঘরিয়া, কানসাট ও মনাকষা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাগানেই মুকুলে ছেয়ে গেছে আম গাছ। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের বাগান করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর মুকুলের অবস্থা সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন চাষিরা। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি আছে শঙ্কাও। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অকাল ঝড়-বৃষ্টি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকেই। মুকুল বের হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত স্প্রে ও প্রয়োজনীয় বালাই দমন কার্যক্রম চালাচ্ছেন চাষিরা। তাদের আশা, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এবার বাম্পার ফলন হতে পারে। অন্যদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা। ফলে ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। আরও পড়ুনমাগুরায় বরই চাষে বা
আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ এখন বসন্তের সুবাসে ভরপুর। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি ঘ্রাণ। সম্ভাবনাময় ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার হাজারো আমচাষি। বাগান পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ, কীটনাশক স্প্রে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় চলছে জোর প্রস্তুতি।
সদর উপজেলার ইসলামপুর, বারোঘরিয়া, কানসাট ও মনাকষা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাগানেই মুকুলে ছেয়ে গেছে আম গাছ। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের বাগান করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর মুকুলের অবস্থা সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি আছে শঙ্কাও। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অকাল ঝড়-বৃষ্টি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকেই। মুকুল বের হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত স্প্রে ও প্রয়োজনীয় বালাই দমন কার্যক্রম চালাচ্ছেন চাষিরা। তাদের আশা, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এবার বাম্পার ফলন হতে পারে। অন্যদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা। ফলে ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।
শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের আম চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আম চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছি। এবার বাগানে শিবগঞ্জ উপজেলার উপযোগী বিভিন্ন জাতের আম গাছ আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লক্ষণভোগ, আশ্বিনা ও খিরসাপাত।’
তিনি জানান, বর্তমানে তার বাগানের অধিকাংশ গাছই মুকুলে ভরপুর। সময়মতো পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় স্প্রে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
ইসলামপুর ইউনিয়নের আম চাষি তারেক রহমান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রায় তিন বিঘা জমির আম বাগানে ৬০টি গাছে মুকুল এসেছে। এ বছর গাছে গাছে প্রচুর মুকুল ধরায় শুরু থেকেই বাড়তি যত্ন নিচ্ছি। নিয়মিত বাগান পরিষ্কার রাখা, সুষম সার প্রয়োগ, সেচের ব্যবস্থা এবং সময়মতো কীটনাশক স্প্রে করছি। যাতে মুকুল ঝরে না পড়ে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়।’
তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর মুকুলের পরিমাণ বেশি। তবে অকাল ঝড়-বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কা আছে। তাই আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি অনুকূলে আছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং বাজারে দাম ভালো পাওয়া গেলে এ বছর ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘এ বছর মুকুলের অবস্থা ভালো। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা আছে। চলতি বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন।’
সোহান মাহমুদ/এসইউ
What's Your Reaction?