আরএফএল কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আরএফএল কোম্পানির ভিগোর এক কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার সঙ্গে একই কক্ষে থাকা সহকর্মী অন্তর সরকারকে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধারণা, সোমবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। নিহতের নাম- বিশ্বজিৎ দেয়ারী (৩৫)। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেত্রা গ্রামের হরলাল দেয়ারীর ছেলে। বিশ্বজিৎ আরএফএল কোম্পানির ভিগোর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে, নিখোঁজ অন্তর সরকার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ফেসটুলা গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে। তিনি একই প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্বজিৎ ও অন্তরের সঙ্গে কর্মরত সহকর্মী নয়ন রায় তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি কক্ষের দরজায় তালা দেওয়া দেখতে পান।  দরজার সামনে রক্তমাখা হাতলবিহীন একটি ছুরির খাপ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়ট

আরএফএল কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আরএফএল কোম্পানির ভিগোর এক কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তার সঙ্গে একই কক্ষে থাকা সহকর্মী অন্তর সরকারকে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধারণা, সোমবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

নিহতের নাম- বিশ্বজিৎ দেয়ারী (৩৫)। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেত্রা গ্রামের হরলাল দেয়ারীর ছেলে। বিশ্বজিৎ আরএফএল কোম্পানির ভিগোর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অপরদিকে, নিখোঁজ অন্তর সরকার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ফেসটুলা গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে। তিনি একই প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্বজিৎ ও অন্তরের সঙ্গে কর্মরত সহকর্মী নয়ন রায় তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি কক্ষের দরজায় তালা দেওয়া দেখতে পান। 

দরজার সামনে রক্তমাখা হাতলবিহীন একটি ছুরির খাপ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পরে ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ফরেনসিক দলকে খবর দেওয়া হয়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিআইডির ফরেনসিক কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম (মনির) এর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল) আমির হামজা এবং পাইকগাছা থানার ওসি জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা যৌথভাবে ঘটনাস্থলের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

ভাড়া বাসার মালিক রামপ্রসাদ মণ্ডল বলেন, প্রায় এক মাস আগে বিশ্বজিৎ ও অন্তর তার বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন।

আরএফএল কোম্পানির পাইকগাছা শাখার ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজিৎ ও অন্তর দুজনই তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অন্তর সরকারের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি কক্ষে তালা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

পাইকগাছা থানার ওসি জুলফিকার আলী বলেন, নিহত বিশ্বজিতের পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে খবর দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পরিবারের কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং নিখোঁজ অন্তর সরকারকে খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow