আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ‘বিতর্কিত’ ব্যানারকাণ্ড নিয়ে যা বলল ফিফা

ফিফার বিধি অনুযায়ী, মাঠে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা উসকানিমূলক বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সেই নিয়ম ভেঙে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে ফিফা। যদিও বিতর্কিত এই ঘটনায় নিজ দেশের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সমর্থন পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সংঘটিত হয় ভয়াবহ যুদ্ধ। তৎকালীন আর্জেন্টাইন সামরিক জান্তা সরকার দ্বীপপুঞ্জে অভিযান শুরু করলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ব্রিটেন। ৭৪ দিন ধরে চলা ওই যুদ্ধে উভয় পক্ষের ৯০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জয়ী হয় যুক্তরাজ্য। তবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচে আবারও সামনে আসে সেই পুরোনো ইস্যু। ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে উদযাপন করেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও

আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ‘বিতর্কিত’ ব্যানারকাণ্ড নিয়ে যা বলল ফিফা

ফিফার বিধি অনুযায়ী, মাঠে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা উসকানিমূলক বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সেই নিয়ম ভেঙে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে ফিফা। যদিও বিতর্কিত এই ঘটনায় নিজ দেশের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সমর্থন পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সংঘটিত হয় ভয়াবহ যুদ্ধ। তৎকালীন আর্জেন্টাইন সামরিক জান্তা সরকার দ্বীপপুঞ্জে অভিযান শুরু করলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ব্রিটেন। ৭৪ দিন ধরে চলা ওই যুদ্ধে উভয় পক্ষের ৯০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জয়ী হয় যুক্তরাজ্য।

তবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচে আবারও সামনে আসে সেই পুরোনো ইস্যু। ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে উদযাপন করেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এটি ‘ফকল্যান্ডস’ নামে চেনে।

ঘটনার পর ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে ফিফার কাছে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এরপর ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচের প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করছে এবং ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)-এর নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে খেলোয়াড়রা কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বার্তা কিংবা ছবি প্রদর্শন করতে পারেন না। এই নিয়মের কারণেই ম্যাচের আগে ফকল্যান্ডস-সংক্রান্ত কোনো পতাকা বা প্রতীক প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ফিফা। কিন্তু দর্শকদের একটি অংশ সেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ব্যানারটি মাঠে নিয়ে আসে এবং ম্যাচ শেষে সেটি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের দিকে ছুড়ে দেয়।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জিওভান্নি লো সেলসো ব্যানারটি হাতে নিয়ে সতীর্থদের দিকে এগিয়ে যান। পরে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও সেই উদযাপনে যোগ দেন। এর ফলে খেলোয়াড়রা শাস্তির ঝুঁকিতে পড়েছেন। আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফা ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

তবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ বৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ফুটবলারদের ওই উদযাপন আর্জেন্টাইনদের আবেগ ও অনুভূতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ফিফার নিয়ম ভঙ্গের কারণে খেলোয়াড়দের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

বুয়েন্স আয়ার্সের একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে মিলেই বলেন, খেলোয়াড়দের আচরণকে বোঝা কঠিন নয়। তারা আবেগের বশবর্তী হয়ে এমনটি করেছে। তবে ফিফার বিধি অনুযায়ী এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow