আর্জেন্টিনার অ্যাওয়ে জার্সি কী অভিশপ্ত নাকি সৌভাগ্যের?
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে কৌশল, একাদশ বা প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ঘিরে যতটা আলোচনা, তার চেয়ে কম নয় আরেকটি বিষয় — গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি। ইতিহাসের কিছু তিক্ত স্মৃতি এই জার্সিকে অনেক সমর্থকের কাছে ‘অভিশপ্ত’ বা ‘অপয়া’র তকমা দিয়েছে। তবে একই ইতিহাস আবার বলছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জার্সিই আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে কয়েকটি অবিস্মরণীয় জয়। আর্জেন্টিনা এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলবে অ্যাওয়ে জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সেটিই নতুন করে উসকে দিয়েছে পুরোনো বিতর্ক। অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, এই জার্সি বড় মঞ্চে বারবার হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আরও পড়ুন ফিফার কাছে অনুরোধ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক নীল জার্সি পরবে মেসিরা সেই স্মৃতির শুরু ১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনাল। গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল। আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টির একমাত্র গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার। ২০০২ বিশ্বকাপে মার্সেলো বিয়েলসার দুর্দান্ত দলও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বাছাইপর্বে দাপট দেখানোর পরও প্রথম রাউন্ড
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে কৌশল, একাদশ বা প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ঘিরে যতটা আলোচনা, তার চেয়ে কম নয় আরেকটি বিষয় — গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি। ইতিহাসের কিছু তিক্ত স্মৃতি এই জার্সিকে অনেক সমর্থকের কাছে ‘অভিশপ্ত’ বা ‘অপয়া’র তকমা দিয়েছে। তবে একই ইতিহাস আবার বলছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জার্সিই আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে কয়েকটি অবিস্মরণীয় জয়।
আর্জেন্টিনা এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলবে অ্যাওয়ে জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সেটিই নতুন করে উসকে দিয়েছে পুরোনো বিতর্ক। অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, এই জার্সি বড় মঞ্চে বারবার হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সেই স্মৃতির শুরু ১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনাল। গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল। আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টির একমাত্র গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার।
২০০২ বিশ্বকাপে মার্সেলো বিয়েলসার দুর্দান্ত দলও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বাছাইপর্বে দাপট দেখানোর পরও প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।
২০০৬ বিশ্বকাপেও আবার জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে হেরে বিদায় নিতে হয়। সেই ম্যাচে কোচ হোসে পেকারম্যানের লিওনেল মেসিকে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত আজও সমর্থকদের কাছে আলোচনার বিষয়।
২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য আরেকটি বেদনাদায়ক স্মৃতি। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হারতে হয়েছিল শিরোপার লড়াইয়ে।
তবে ইতিহাসের অন্য দিকটিও আর্জেন্টিনার জন্য আশার। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর সময়ও আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল এই অ্যাওয়ে জার্সি। সেই ম্যাচেই জন্ম নেয় দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব ’গড এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র কিংবদন্তি।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা, সেবারও ছিল অ্যাওয়ে জার্সি।

এই আর্জেন্টিনা যেন সেই ফিনিক্স পাখি
অবশ্য ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জার্সি সব সময় সৌভাগ্য বয়ে আনেনি। ১৯৬২ ও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে অ্যাওয়ে জার্সি পরেই ইংলিশদের কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। আবার ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা খেলেছিল ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা হোম জার্সি পরে, যেখানে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টিতে হেরে যায় তারা।
তাই সেমিফাইনালের আগে প্রশ্ন একটাই — গাঢ় নীল জার্সি কি আবার পুরোনো দুঃস্বপ্ন ফিরিয়ে আনবে, নাকি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক জয়গুলোর স্মৃতিই পুনরাবৃত্তি হবে? উত্তর মিলবে মাঠেই।
টিটিটি/আইএন
What's Your Reaction?
