আ.লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখা। সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টায় কলেজের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এরপর মিছিলটি হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে বকুল চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।  মিছিলে ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হিবে না’; ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা, হুশিয়ার সাবধান’; ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান, সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান, শাহাবুদ্দিন ইমনসহ শাখা ছাত্রদলের অন্য নেতা ও সদস্যরা। বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন, বাংলাদেশ একটি অস্থীতিশীল পরিবেশ ছিল। বিগত ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্ন রকম হুমকি-ধামকি এবং মিছিল-মিটিং করেছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যখন ক্ষমতায় আসে আমরা প্রতিজ্

আ.লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখা।

সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টায় কলেজের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এরপর মিছিলটি হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে বকুল চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। 

মিছিলে ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হিবে না’; ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা, হুশিয়ার সাবধান’; ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান, সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান, শাহাবুদ্দিন ইমনসহ শাখা ছাত্রদলের অন্য নেতা ও সদস্যরা।

বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন, বাংলাদেশ একটি অস্থীতিশীল পরিবেশ ছিল। বিগত ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্ন রকম হুমকি-ধামকি এবং মিছিল-মিটিং করেছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যখন ক্ষমতায় আসে আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি এই বাংলাদেশের জনগণ যারা আমাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে সেই জনগণকে আমরা শান্তিতে রাখবো, নিরাপদে রাখবো। ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখা প্রতিজ্ঞা করেছিল গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস মুক্ত বুদ্ধি চর্চার এবং শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর থাকবে। 

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জুলাই আগস্ট আন্দোলন যে মহাবিপ্লব ঘটেছে সেই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে এসে ছাত্রলীগ যদি কোথাও তাদের হামলা-মামলা পরিচালনা করে তাহলে তাদেরকে আমরা আইনে সোপর্দ করব। বাংলাদেশের নিয়মতান্ত্রিক আইন অনুযায়ী তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবো।

প্রতিদ্বন্দী গোষ্ঠীদের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমাদের একটি প্রতিদ্বন্দী গোষ্ঠী রয়েছে যারা ‘ব্লাঙ্ক’। তারা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে তারা ৯৬ সালের মত একটি অস্থীতিশীল পরিবেশ বাংলাদেশে তৈরি করবে। আমি তাদের হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলছি আপনারা আওয়ামী লীগ কেনো, আপনারা যদি স্বয়ং শয়তানের সঙ্গে আতাত করেন বাংলাদেশের জনগণকে আর কখনো ভুল পথে পরিচালিত করতে পারবেন না। বাংলাদেশের জনগণ, ছাত্র সমাজ ইতোমধ্যেই জেনে গিয়েছে আপনাদের ধান্দাবাজি এবং মুনাফেকির বিষয়ে।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ মিছিল করেছে। পুলিশকে হুমকি দিচ্ছে এবং তারা জনগণের উপর হামলা করছে। বিভিন্ন যানবাহনে হামলা করছে। আমি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা আপনাদের নিজ দায়িত্বে আগামীকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগের সব কর্মকাণ্ড ঢাকা কলেজ এরিয়া তথা ঢাকা ১০ আসনের ভিতরে যেখানেই ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড দেখবেন সেখানেই তাদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিবেন।

বক্তব্যে কলেজ শাখার প্রত্যেক নেতাকর্মীদের ২৩ জুন ফজর থেকে শুরু করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার নির্দেশনা দেন এই নেতা। 

মিল্লাদ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে বাংলাদেশের হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে তারা হত্যা করেছে। বাংলাদেশের বাক স্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না। এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে এবং এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েও বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অনেককেই তারা হত্যা এবং গুম করেছে। তারপরও তারা ক্লান্ত হয় নাই। জুলাই গণঅভুত্থানে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল সহ সব শ্রেণী পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে গণঅভুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করে। যারা আমাদের ভাই-বোন এবং শিশুকে হত্যা করেছে তাদের সঙ্গে আমাদের কোন আপস নাই।

তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জনগণর জীবিত থাকবে, এই দেশে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এবং তাদের দোষরদের এই বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ডিবেট করব কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ডিবেট নেই। এই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে বাংলাদেশের যে প্রান্তে আমরা পাব সে জায়গায় প্রতিহত করব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow