‘আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাতিসংঘের চিঠি’ যা জানা গেল

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে। কী বলছে ফ্যাক্টচেক:রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসলে জাতিসংঘ শুধুমাত্র একটি চিঠিতে জানিয়েছিল, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে অনিয়মিত সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু চিঠিটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দাবি করা হয়েছে যে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। মূল চিঠি ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ ছিল: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ, গণগ্রেফতার, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া। দল নিষিদ্ধ হওয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, সংগঠনের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার সীমিত হতে পারে—যা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR)-এর সঙ্গে

‘আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাতিসংঘের চিঠি’ যা জানা গেল

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।

কী বলছে ফ্যাক্টচেক:
রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসলে জাতিসংঘ শুধুমাত্র একটি চিঠিতে জানিয়েছিল, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে অনিয়মিত সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু চিঠিটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দাবি করা হয়েছে যে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

মূল চিঠি ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ ছিল:

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ, গণগ্রেফতার, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া।

দল নিষিদ্ধ হওয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, সংগঠনের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার সীমিত হতে পারে—যা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR)-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের ন্যায্য বিচার, আইনজীবীদের নিরাপত্তা, আটক ব্যক্তিদের প্রতি আচরণ এবং হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ।
চিঠিতে জোর দেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন বা অন্যান্য আইনি কাঠামো যেন রাজনৈতিক দল দমন বা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সীমিত করতে ব্যবহার না হয়।

চিঠিতে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো নির্দেশ নেই। বরং তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো উত্তর ৬০ দিনের মধ্যে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে—এটি মূলত চিঠির প্রকাশনার সময়সীমা বোঝায়, না যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে।

আলোচিত দাবিটি মিথ্যা। জাতিসংঘ আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠায়নি; বরং চিঠিতে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow