আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০ ঘর বিক্রির অভিযোগ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের পুটিমারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯০টি ঘরের মধ্যে ৩০টি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বরাদ্দ প্রাপ্তদের সিংহভাগই এখানে বসবাস না করায় অধিকাংশ ঘর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঠিক তদারকির অভাবে অনেক ঘরের চাল ও বেড়া খুলে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায়দের বাদ দিয়ে জমিজমা ও পর্যাপ্ত অর্থবিত্তের মালিকদের নামেও এসব সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিনে পুটিমারী মৌজায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরেই ঝুলছে তালা। দিনের পর দিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় ঘরগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছু ঘরের বেড়া ও চালের টিন উধাও, আবার বাথরুমগুলো ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সম্পাদক খোকন গাজী জানান, প্রকল্পের প্রায় ৩০টি ঘর বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যার একেকটি ঘর ৩০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বেচাকেনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসল

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০ ঘর বিক্রির অভিযোগ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের পুটিমারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯০টি ঘরের মধ্যে ৩০টি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বরাদ্দ প্রাপ্তদের সিংহভাগই এখানে বসবাস না করায় অধিকাংশ ঘর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঠিক তদারকির অভাবে অনেক ঘরের চাল ও বেড়া খুলে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায়দের বাদ দিয়ে জমিজমা ও পর্যাপ্ত অর্থবিত্তের মালিকদের নামেও এসব সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিনে পুটিমারী মৌজায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরেই ঝুলছে তালা। দিনের পর দিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় ঘরগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছু ঘরের বেড়া ও চালের টিন উধাও, আবার বাথরুমগুলো ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সম্পাদক খোকন গাজী জানান, প্রকল্পের প্রায় ৩০টি ঘর বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যার একেকটি ঘর ৩০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বেচাকেনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাই তিনটি ঘর কিনে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই ঘরগুলোতে তিনি ডেকোরেটরের সরঞ্জাম রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে সিরাজুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আমি বরাদ্দ পাওয়া ঘরেই থাকি, আর বাকি ঘরগুলো ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘর কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বা কেনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন ইয়াকুব শেখ, নাজুবর, মুজিবর রহমান, আছা সরদার, শহিদুল ইসলাম, মেরিনা বেগম, সেলিনা আক্তার, হরিদাস মন্ডল, তপন চৌকিদার, সুদীপ্ত মন্ডল, অনিল মন্ডল ও হরিচাঁদসহ অনেকে। এদিকে প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজনের নিজস্ব পাকা বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে ভবতোষ মন্ডল, পরিমেল মন্ডল, অমল মন্ডল, জগীশ মন্ডল, প্রহ্লাদ মন্ডল ও পাপিয়া মন্ডলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।  স্থানীয়দের দাবি, সচ্ছল ব্যক্তিদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত অসহায় ও ভূমিহীনদের মধ্যে এসব ঘর পুনঃবরাদ্দ দেওয়া হোক। পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী বলেন, বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির কথা তিনি শুনেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নিতে হলে সময় প্রয়োজন। অনেক ঘর নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সরকারি বরাদ্দের ঘর বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমনটি করে থাকলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow