ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেন নেভি ব্লু জার্সি পরে খেলবে আর্জেন্টিনা?
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির পরিবর্তে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) অ্যাওয়ে জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। অতীতের সাফল্যের কারণে এই জার্সিকে অনেকেই দলের জন্য ‘সৌভাগ্যের’ প্রতীক হিসেবে দেখছেন। খেলাধুলায় অনেক দল ও খেলোয়াড়ই বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার বা বিশ্বাস অনুসরণ করেন, যা তাদের মানসিকভাবে আত্মবিশ্বাসী থাকতে সহায়তা করে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেভি ব্লু জার্সি পরার সিদ্ধান্তকে তেমনই একটি বিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এর আগে দুইবার নেভি ব্লু জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল এবং দুইবারই জয় পেয়েছে। তবে ২০০২ বিশ্বকাপে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে হেরেছিল লা আলবিসেলেস্তে। ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড চাইছে নেভি ব্লু জার্সি পরা আর্জেন্টিনার কাছে হারের ধারার অবসান ঘটাতে এবং ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জিততে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির পরিবর্তে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) অ্যাওয়ে জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। অতীতের সাফল্যের কারণে এই জার্সিকে অনেকেই দলের জন্য ‘সৌভাগ্যের’ প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
খেলাধুলায় অনেক দল ও খেলোয়াড়ই বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার বা বিশ্বাস অনুসরণ করেন, যা তাদের মানসিকভাবে আত্মবিশ্বাসী থাকতে সহায়তা করে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেভি ব্লু জার্সি পরার সিদ্ধান্তকে তেমনই একটি বিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এর আগে দুইবার নেভি ব্লু জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল এবং দুইবারই জয় পেয়েছে। তবে ২০০২ বিশ্বকাপে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে হেরেছিল লা আলবিসেলেস্তে।
২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড চাইছে নেভি ব্লু জার্সি পরা আর্জেন্টিনার কাছে হারের ধারার অবসান ঘটাতে এবং ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জিততে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নেভি ব্লু জার্সি পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রেকর্ড ২ ম্যাচে ২ জয়। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রথম এ জার্সি পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩০ জুন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র হলেও টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা।
সেই ‘হ্যান্ড অব গোল’-এর স্মৃতি
১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেভি ব্লু জার্সি পরে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর এডসন পাসোস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি নাটকীয় মোড় নেয়। ৫২তম মিনিটে দিয়েগো ম্যারাডোনা ‘হাত দিয়ে’ বল জালে পাঠান। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের গোলের স্বীকৃতি দেন। পরে এই গোলই ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।
এর মাত্র তিন মিনিট পর ম্যারাডোনা আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৮১তম মিনিটে গ্যারি লিনেকার ইংল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরে সেই বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতে তারা।
১৯৯৮ বিশ্বকাপ: নাটকীয় লড়াই ও টাইব্রেকারের জয়
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ছিল দারুণ নাটকীয়। ফ্রান্সের স্টেড জিওফ্রোয়া-গিশারে ম্যাচের শুরুতেই দিয়েগো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা।
চার মিনিট পর মাইকেল ওভেনকে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডের সমতা ফেরান অ্যালান শিয়ারার। এরপর ওভেন দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হাভিয়ের জানেত্তি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফেরান। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেভিড বেকহ্যাম সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর লাথি মারার অভিযোগে ডেনমার্কের রেফারি কিম মিল্টন নিয়েলসেনের কাছ থেকে লাল কার্ড দেখেন।
এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোনো দল গোল করতে না পারায় টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী সেমিতে আগে ওঠায় ম্যাচে ইংল্যান্ডের পোশাকি নাম টিম ‘এ’। আর টিম ‘এ’ জার্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড নিজেদের জন্য সাদা জার্সি বেছে নিলে টিম ‘বি’ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ‘অ্যাওয়ে’ মানে নীল জার্সিতে খেলতে হতো। আর ইংল্যান্ড যদি অ্যাওয়ে, অর্থাৎ লাল জার্সি বেছে নিত, তবে আর্জেন্টিনাকে সাদা-আকাশি জার্সি পরে খেলতে হতো।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনভাবে জার্সি বেছে নিতে হয়, যেন সাদা-কালো পর্দায় দুই দলকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এ ছাড়া বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা যাতে দুই দলকে গুলিয়ে না ফেলেন, সেটাও খেয়াল রাখা হয়। এ জন্য ব্যবহার করা হয় ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামের একধরনের প্রযুক্তি। ইংল্যান্ড যাতে কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার নীল জার্সি পরা থামাতে না পারে, তাই আগেভাগেই নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে বসেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
What's Your Reaction?