ইউটিউব দেখে শুরু, কৃষিতেই মাসে লাখ টাকার স্বপ্নজয় নুরেশার
একসময় সংসারের খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হতো। মাসের শেষে ধার-দেনা আর অনিশ্চয়তা ছিল নিত্যসঙ্গী। স্বামীর সামান্য আয়ে চলা সেই পরিবারে স্বপ্ন দেখাও যেন ছিল বিলাসিতা। কিন্তু হার না মানা এক নারীর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর সাহস বদলে দিয়েছে জীবনের গল্প। ইউটিউবে দেখা একটি ভিডিও থেকে শুরু হওয়া ছোট্ট উদ্যোগ আজ তাকে এনে দিয়েছে স্বাবলম্বিতার নতুন পরিচয়। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নুরেশা আক্তার এখন সফল কৃষি উদ্যোক্তা; মাসে আয় করছেন প্রায় এক লাখ টাকা। উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের আটকরা গ্রামের এই নারী উদ্যোক্তার জীবনসংগ্রামের গল্প যেন হাজারো গ্রামীণ নারীর জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর। মঙ্গলবার (২ জুন) সরেজমিনে গিয়ে এভাবেই বলছিলেন তার সাফল্যের কথা। তিনি জানান, অভাবের সংসারে নতুন কিছু করার স্বপ্ন থেকেই একদিন ইউটিউবে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরির একটি ভিডিও দেখেন তিনি। সেই ভিডিওই বদলে দেয় তার জীবন ভাবনার দিগন্ত। প্রথমে অল্প কয়েকটি কেঁচো সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে জৈব সার উৎপাদন শুরু করেন নুরেশা। চারপাশের অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, কেউ কেউ উপহাসও করেছিলেন। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। নিজের শ্
একসময় সংসারের খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হতো। মাসের শেষে ধার-দেনা আর অনিশ্চয়তা ছিল নিত্যসঙ্গী। স্বামীর সামান্য আয়ে চলা সেই পরিবারে স্বপ্ন দেখাও যেন ছিল বিলাসিতা। কিন্তু হার না মানা এক নারীর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর সাহস বদলে দিয়েছে জীবনের গল্প। ইউটিউবে দেখা একটি ভিডিও থেকে শুরু হওয়া ছোট্ট উদ্যোগ আজ তাকে এনে দিয়েছে স্বাবলম্বিতার নতুন পরিচয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নুরেশা আক্তার এখন সফল কৃষি উদ্যোক্তা; মাসে আয় করছেন প্রায় এক লাখ টাকা। উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের আটকরা গ্রামের এই নারী উদ্যোক্তার জীবনসংগ্রামের গল্প যেন হাজারো গ্রামীণ নারীর জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
মঙ্গলবার (২ জুন) সরেজমিনে গিয়ে এভাবেই বলছিলেন তার সাফল্যের কথা। তিনি জানান, অভাবের সংসারে নতুন কিছু করার স্বপ্ন থেকেই একদিন ইউটিউবে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরির একটি ভিডিও দেখেন তিনি। সেই ভিডিওই বদলে দেয় তার জীবন ভাবনার দিগন্ত।
প্রথমে অল্প কয়েকটি কেঁচো সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে জৈব সার উৎপাদন শুরু করেন নুরেশা। চারপাশের অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, কেউ কেউ উপহাসও করেছিলেন। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। নিজের শ্রম, ধৈর্য আর বিশ্বাসকে পুঁজি করে এগিয়ে যেতে থাকেন।
ধীরে ধীরে তার উৎপাদিত জৈব সারের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। কৃষকদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি তার উদ্যোগ নজরে আসে উপজেলা কৃষি বিভাগের। কৃষি বিভাগ প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, উৎপাদন ঘর, পিট নির্মাণ, ভার্মি কম্পোস্ট সেপারেটিং মেশিন ও সিলিং মেশিন প্রদান করে পাশে দাঁড়ায়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে। সাফল্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয় ২০২৩ সালে। জৈব সারের চাহিদা বাড়তে থাকায় স্বামীও চাকরি ছেড়ে স্ত্রীর উদ্যোগে যুক্ত হন। দুজনে মিলে ‘ফসল বন্ধু জৈব সার’ নামে প্যাকেটজাত পণ্য বাজারজাত শুরু করেন। বর্তমানে তাদের খামারে রয়েছে দুটি উৎপাদন শেড, ১৫টি পিট এবং ৫০টি রিং।
প্রতি মাসে এখান থেকে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ১০ মেট্রিক টন ভার্মি কম্পোস্ট ও ১০ কেজি কেঁচো। উৎপাদিত সার ও কেঁচো বিক্রি করে সব ব্যয় বাদ দিয়ে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ করছেন তারা।
শুধু নিজেদের ভাগ্যই বদলাননি, তার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে আরও তিনজন নারীর। নুরেশা আক্তারের চোখে আজ আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি। যে নারী একসময় সংসারের অভাব-অনটনে অসহায় ছিলেন, তিনিই এখন অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। তার সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, সুযোগ আর সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে গ্রামীণ নারীরাও অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন।
রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভার্মি কম্পোস্ট মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। নুরেশা আক্তারের উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে একজন নারীও কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারেন’।
What's Your Reaction?