ইতালিতে ট্রিপল মার্ডারের একমাত্র সাক্ষী আমিরের জবানবন্দি
ইতালির রোমে সংঘটিত বাংলাদেশি পরিবারের নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের একমাত্র জীবিত সাক্ষী এবং নিহত কামাল উদ্দিনের বড় ছেলে আমির উদ্দিন অয়ন (২০) ইতালীয় পুলিশের কাছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি দিয়েছেন। পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে দেওয়া আমিরের এই বয়ান এখন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রোমের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আমিরের দেওয়া এই বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে খুনি শাহাদাতকে ধরার জাল আরও জোরদার করেছে। সংবাদের মূল বিবরণ ও আমিরের রোমহর্ষক জবানবন্দি রক্তাক্ত অবস্থায় আমিরের প্রথম আকুতি: ঘটনার দিন রাতে ভিয়া মন্টিগ্লিওর ৩৫ নম্বর ভবনের সামনে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় যখন উদ্ধারকারীরা আমিরকে উদ্ধার করেন, তখন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে চিৎকার করে বলছিলেন, ‘সে আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে। আমি বাসায় ফিরে এই দৃশ্য দেখেছি। সে সবাইকে মেরে ফেলেছে।’ সে সময় চিকিৎসাকর্মীরা তার মাথা ও পায়ের গভীর ক্ষতের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। খুনি আগে থেকেই ওত পেতে ছিল: আমির তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেন (৪৩) আগে থেকেই
ইতালির রোমে সংঘটিত বাংলাদেশি পরিবারের নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের একমাত্র জীবিত সাক্ষী এবং নিহত কামাল উদ্দিনের বড় ছেলে আমির উদ্দিন অয়ন (২০) ইতালীয় পুলিশের কাছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে দেওয়া আমিরের এই বয়ান এখন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রোমের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আমিরের দেওয়া এই বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে খুনি শাহাদাতকে ধরার জাল আরও জোরদার করেছে।
সংবাদের মূল বিবরণ ও আমিরের রোমহর্ষক জবানবন্দি
রক্তাক্ত অবস্থায় আমিরের প্রথম আকুতি: ঘটনার দিন রাতে ভিয়া মন্টিগ্লিওর ৩৫ নম্বর ভবনের সামনে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় যখন উদ্ধারকারীরা আমিরকে উদ্ধার করেন, তখন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে চিৎকার করে বলছিলেন, ‘সে আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে। আমি বাসায় ফিরে এই দৃশ্য দেখেছি। সে সবাইকে মেরে ফেলেছে।’ সে সময় চিকিৎসাকর্মীরা তার মাথা ও পায়ের গভীর ক্ষতের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।
খুনি আগে থেকেই ওত পেতে ছিল: আমির তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেন (৪৩) আগে থেকেই তাদের বাসায় ওত পেতে বসে ছিল। আমির বলেন, ‘সে মূলত আমাকেও হত্যার জন্য অপেক্ষা করছিল। গত সপ্তাহে কোনো একটি বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল। আমার পরিবারের সাথেও তার বড় ধরনের ঝামেলা চলছিল।’
আলামত গোপন ও নির্মমতার চরম সীমা: তদন্তকারীদের ধারণা, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক শাহাদাত কয়েক ঘণ্টা ধরে পুরো বাসা পরিষ্কার করে রক্তের দাগ ও হত্যার আলামত গোপন করার চেষ্টা করে। সে নিহত বাবা কামাল উদ্দিনের মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানের চিপায় লুকিয়ে রাখে। আর মা জাহানারা এবং ছোট বোন আরাওয়ার নিথর দেহ খাটের নিচে ঠেলে লুকিয়ে রাখে।
যেভাবে সত্য সামনে এল: আমির কাজ শেষে যখন বাসায় প্রবেশ করেন, প্রথম কয়েক সেকেন্ড তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি। ঘর গোছানো মনে হচ্ছিল। কিন্তু বাবা-মায়ের ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তিনি দেখতে পান খাটের নিচ থেকে তার ছোট বোনের একটা পা বাইরে বেরিয়ে আছে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন তার পুরো পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ওত পেতে থাকা শাহাদাত চাপাতি নিয়ে আমিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমির প্রাণপণে লড়াই করে ঘর থেকে ছিটকে বাইরে এসে প্রাণে বাঁচেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ: আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা কামাল উদ্দিন শাহাদাতের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে পরিবার ও বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে আমিরের মা ও শাহাদাতের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধের গুঞ্জন থাকলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
What's Your Reaction?