তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা লাগাতারভাবে চর্চা করবে বিএনপি সরকার।’
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সিরডাপ কনফারেন্স সেন্টারে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের নিবন্ধসমূহের সংকলন ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ মন্তব্য করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংবিধানিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতির কারণে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার যে চরম শিক্ষা হয়েছে, তা এখন ইতিহাসের অংশ। দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে অবাধ নির্বাচনের যাত্রা অব্যাহত রাখা হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে আওয়ামী শাসন আমলের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে আরও পোস্টমর্টেম করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের নিবন্ধ নিয়ে প্রকাশিত ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ প্রকাশনাটি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এন্টি ভাইরাস হিসেবে কাজ করবে। যারা ইতিহাস চর্চা করেন, গবেষণা করেন তাদের নিকট এই বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।’
গ্রন্থের নিবন্ধসমূহে বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে রক্তে ভেজা দিন বদলের সনদ, গ্রেপ্তার আর ডান্ডাবেড়ির রাজনীতি, সিটি নির্বাচন : দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রায়, বিএনপি ভুল করেনি, সভ্য সমাজে হত্যা ও গুম কাম্য নয়, বিপন্ন মানবতা ও জনগণের প্রত্যাশা, ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রসহ ৩৮টি নিবন্ধ স্থান পেয়েছে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ প্রকাশনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা মনে করত, তার জীবদ্দশায় আর কেউ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন তিনিই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ধরনের বয়ান সেই সময়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী—এমপিদের বলতে শোনা গেছে। কিন্তু জনগণই যে সব ক্ষমতার উৎস তা প্রমাণিত হলো জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। ছাত্র—জনতার ব্যাপক আন্দোলনে দিশেহারা হয়ে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে গেল শেখ হাসিনা। রেখে গেলেন তার শাসন আমলের ক্ষত চিহ্ন।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চিফ মডারেটর অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, শেরে—বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক ড. এস এম মোর্শেদ।