ইনুর মামলায় যুক্তি তর্ক শেষ, রায় যে কোনো দিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ ৮ অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলায় যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।  বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ মামলার শুনানি গ্রহণ শেষ করে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। শুনানি শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু দেশপ্রেমিক মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। একজন রাজনীতিবিদকে অবশ্যই জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। জনগণ যদি কোনো সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন জনগণের যৌক্তিক দাবিকে মানতে হয়। কিন্তু তারা সেই জনগণের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং জনগণকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের ওপরে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে।’ তিনি বলেন, “হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সহযোগী ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে তার সরাসর

ইনুর মামলায় যুক্তি তর্ক শেষ, রায় যে কোনো দিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ ৮ অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলায় যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।  বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ মামলার শুনানি গ্রহণ শেষ করে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। শুনানি শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু দেশপ্রেমিক মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। একজন রাজনীতিবিদকে অবশ্যই জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। জনগণ যদি কোনো সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন জনগণের যৌক্তিক দাবিকে মানতে হয়। কিন্তু তারা সেই জনগণের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং জনগণকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের ওপরে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে।’ তিনি বলেন, “হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সহযোগী ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন। সেই কথাবার্তার মধ্য দিয়ে সেখানে কারফিউ জারি এবং জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলা এবং তার কুষ্টিয়ায় পুলিশকে বিভিন্ন রকমের নির্দেশনা দিয়েছেন।”  চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপরে নিপীড়ন চালানোর জন্য নানা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ইনু। যার ফলশ্রুতিতে বহু লোকের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। যেসব ধারা আমরা এনেছি, সেসব ধারায় যে শাস্তি আসে আমরা তার বিরুদ্ধে সেই শাস্তির দাবিই করেছি ট্রাইব্যুনালে।’ এদিকে, ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বলেন, ‘প্রসিকিউশন যে আটটি অভিযোগ তার (ইনু) বিরুদ্ধে দাখিল করেছে, আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। সেখানে আমরা বলেছি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দুটো টেলিফোন আলাপ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন দাখিল করেছে। সেখানে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি করতে হবে বা তাদের দমন করতে হবে, এই ধরনের কোনো কথোপকথন সেখানে ছিল না। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আমরা ছাত্র আন্দোলনকারী যারা আছে তাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানাব এবং কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের বা আদালতের বা ১৪ দলের কারও কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ শুধুমাত্র যারা নাশকতা করেছে তাদের সঙ্গে। তাই প্রসিকিউশনের যে অভিযোগ, সেই অভিযোগের বিষয়ে আমাদের একটাই বক্তব্য যে, তিনি কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা বা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেননি, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং আমরা তার বেকসুর খালাস দাবি করেছি এবং আমরা বিশ্বাস করি তিনি খালাস পাবেন।’ গত ২ এপ্রিল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।  প্রসিকিউশন জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগে এ মামলায় গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow