ইন্টার মিলানের ফুটবলার ছাড়া বিশ্বকাপের ফাইনাল হওয়া যেন অসম্ভব!
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার জায়গা নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান গড়েছে এক অনন্য ইতিহাস। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টানা ১২টি বিশ্বকাপ ফাইনালেই অন্তত একজন ইন্টার খেলোয়াড় মাঠে নামার রেকর্ড ধরে রেখেছে ‘নেরাজ্জুরি’রা। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিটি ফাইনালে খেলোয়াড় থাকার এমন কীর্তি আর কোনো ক্লাবের নেই। বায়ার্ন মিউনিখের এই রেকর্ড ধরে রাখার সুযোগ ছিল, তবে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে বিদায়ের কারণে হ্যারি কেইন ফাইনালে উঠতে পারেননি। একইভাবে ফ্রান্সের বিদায়ে সুযোগ হারান মাইকেল ওলিসেও। এই অবিশ্বাস্য যাত্রা শুরু হয় স্পেন বিশ্বকাপে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইতালি পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের সময় দলে ছিলেন ইন্টারের পাঁচ ফুটবলার-জিউসেপ্পে বার্গোমি, গাব্রিয়েলে ওরিয়ালি, আলেসান্দ্রো আলতোবেল্লি, ইভানো বোরদোন ও বেপ্পে মারিনি। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির হয়ে ইন্টারের প্রতিনিধিত্ব করেন কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে। যদিও সেবার ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার জায়গা নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান গড়েছে এক অনন্য ইতিহাস। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টানা ১২টি বিশ্বকাপ ফাইনালেই অন্তত একজন ইন্টার খেলোয়াড় মাঠে নামার রেকর্ড ধরে রেখেছে ‘নেরাজ্জুরি’রা। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিটি ফাইনালে খেলোয়াড় থাকার এমন কীর্তি আর কোনো ক্লাবের নেই। বায়ার্ন মিউনিখের এই রেকর্ড ধরে রাখার সুযোগ ছিল, তবে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে বিদায়ের কারণে হ্যারি কেইন ফাইনালে উঠতে পারেননি। একইভাবে ফ্রান্সের বিদায়ে সুযোগ হারান মাইকেল ওলিসেও।
এই অবিশ্বাস্য যাত্রা শুরু হয় স্পেন বিশ্বকাপে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইতালি পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের সময় দলে ছিলেন ইন্টারের পাঁচ ফুটবলার-জিউসেপ্পে বার্গোমি, গাব্রিয়েলে ওরিয়ালি, আলেসান্দ্রো আলতোবেল্লি, ইভানো বোরদোন ও বেপ্পে মারিনি।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির হয়ে ইন্টারের প্রতিনিধিত্ব করেন কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে। যদিও সেবার ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় জার্মানরা।
১৯৯০ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের সময় পশ্চিম জার্মানির দলে ছিলেন ইন্টারের তিন তারকা-লোথার ম্যাথাউস, আন্দ্রেয়াস ব্রেহমে ও ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান।
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির হয়ে খেলেন নিকোলা বের্তি। তবে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হয় ইতালি।
১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের বিপক্ষে খেলেন ইন্টারের দুই তারকা-ফ্রান্সের ইউরি জর্কায়েফ এবং ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও।
২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে ইন্টারের জার্সি গায়েই ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন কিংবদন্তি রোনালদো।
২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলে একমাত্র ইন্টার খেলোয়াড় ছিলেন মার্কো মাতেরাজ্জি। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইতালির সমতাসূচক গোলটিও করেছিলেন তিনিই। ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসের হয়ে ফাইনাল খেলেন ওয়েসলি স্নাইডার।
২০১৪ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে ফাইনাল খেলেন রদ্রিগো পালাসিও, রিকি আলভারেজ ও হুগো কাম্পানিয়ারো। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ফাইনালে ছিলেন মার্সেলো ব্রোজোভিচ ও ইভান পেরিসিচ।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। আর ২০২৬ সালে আবারও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে ইন্টার মিলানের এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন লাউতারো। এবার শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
১৯৮২ থেকে ২০২৬: বিশ্বকাপ ফাইনালে ইন্টার মিলানের প্রতিনিধিরা
• ১৯৮২ (স্পেন): জিউসেপ্পে বার্গোমি, গাব্রিয়েলে ওরিয়ালি, আলেসান্দ্রো আলতোবেল্লি, ইভানো বোরদোন, বেপ্পে মারিনি (ইতালি)
• ১৯৮৬ (মেক্সিকো): কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে (পশ্চিম জার্মানি)
• ১৯৯০ (ইতালি): লোথার ম্যাথাউস, আন্দ্রেয়াস ব্রেহমে, ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান (পশ্চিম জার্মানি)
• ১৯৯৪ (যুক্তরাষ্ট্র): নিকোলা বের্তি (ইতালি)
• ১৯৯৮ (ফ্রান্স): ইউরি জর্কায়েফ (ফ্রান্স) ও রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল)
• ২০০২ (দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান): রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল)
• ২০০৬ (জার্মানি): মার্কো মাতেরাজ্জি (ইতালি)
• ২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা): ওয়েসলি স্নাইডার (নেদারল্যান্ডস)
• ২০১৪ (ব্রাজিল): রদ্রিগো পালাসিও, রিকি আলভারেজ ও হুগো কাম্পানিয়ারো (আর্জেন্টিনা)
• ২০১৮ (রাশিয়া): মার্সেলো ব্রোজোভিচ ও ইভান পেরিসিচ (ক্রোয়েশিয়া)
• ২০২২ (কাতার): লাউতারো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা)
• ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা): লাউতারো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা)
আরআর/এমএমআর
What's Your Reaction?