ইবিতে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে অভিনব শিল্প-প্রতিবাদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার প্রায় এক বছর পার হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় অভিনব শিল্প-প্রতিবাদ করেছেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুদীপ রায়। এতে সাজিদের মরদেহ উদ্ধারের স্থানে প্রতীকী মরদেহ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও তার ব্যবহৃত সামগ্রী প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে শিল্পিত প্রতিবাদ জানান তিনি। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর এলাকায় বিভাগীয় অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে এ শিল্প-ইনস্টলেশন প্রদর্শন করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধারের স্থান-পুকুরকেই শিল্পকর্মের মূল স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পুকুরের পানিতে একটি প্রতীকী মরদেহ ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়েছে। চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে লাল রঙের একাধিক প্রশ্নবোধক চিহ্ন, যা বিচারহীনতা ও বিভিন্ন প্রশ্নের প্রতীক হিসেবে দৃশ্যমান। পুকুরপাড়ের সিঁড়িতে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সাজিদের দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন প্রতীকী সামগ্রী-বই, খাতা, পোশাক, গামছা, জুতা ও বাদ্যযন্ত্র। শিল্পকর্মের পাশে বাজানো হয় সাজিদ আব্দুল্লাহর নিজ কণ্ঠে গাওয়া গান। পাশে একটি

ইবিতে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে অভিনব শিল্প-প্রতিবাদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার প্রায় এক বছর পার হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় অভিনব শিল্প-প্রতিবাদ করেছেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুদীপ রায়। এতে সাজিদের মরদেহ উদ্ধারের স্থানে প্রতীকী মরদেহ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও তার ব্যবহৃত সামগ্রী প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে শিল্পিত প্রতিবাদ জানান তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর এলাকায় বিভাগীয় অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে এ শিল্প-ইনস্টলেশন প্রদর্শন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধারের স্থান-পুকুরকেই শিল্পকর্মের মূল স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পুকুরের পানিতে একটি প্রতীকী মরদেহ ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়েছে। চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে লাল রঙের একাধিক প্রশ্নবোধক চিহ্ন, যা বিচারহীনতা ও বিভিন্ন প্রশ্নের প্রতীক হিসেবে দৃশ্যমান। পুকুরপাড়ের সিঁড়িতে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সাজিদের দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন প্রতীকী সামগ্রী-বই, খাতা, পোশাক, গামছা, জুতা ও বাদ্যযন্ত্র। শিল্পকর্মের পাশে বাজানো হয় সাজিদ আব্দুল্লাহর নিজ কণ্ঠে গাওয়া গান। পাশে একটি সাদা ক্যানভাসে লেখা হয় ,‘১৭/৭/২৫ তারিখটা মনে আছে?’ যেখানে দর্শনার্থীরা নিজেদের অনুভূতি, শোক, ক্ষোভ কিংবা বিচার প্রত্যাশার কথা লিখেন।

শিল্পী সুদীপ রায় বলেন, এটি কেবল শোক প্রকাশের আয়োজন নয়, বরং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় প্রশ্ন। যখন প্রশাসন নীরব থাকে, আইন কার্যকর হতে দেরি করে এবং বিচার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন শিল্পই প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ব্যর্থতা।

তিনি আরও বলেন, পুকুরপাড়ে স্থাপিত প্রশ্নবোধক চিহ্নগুলো শুধু শিল্পের উপাদান নয়; এগুলো বিচারব্যবস্থার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনুত্তরিত প্রশ্নের প্রতীক-‘কেন তাকে হত্যা করা হলো?’, ‘কবে বিচার হবে?’, ‘আদৌ কি বিচার হবে?’, ‘পরবর্তী সাজিদ কি আমি নই?’

গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার প্রায় এক বছর পার হলেও মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।

ইরফান উল্লাহ/এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow