ইরান যুদ্ধের আগে ইরাকে গোপন ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েল ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে গোপনে দুটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল। সোমবার (১৮ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে ইসরায়েল পরিচালিত দুটি গোপন ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছেন ইরাকি কর্মকর্তারা। এক ইরাকি কর্মকর্তা ও এক আইনপ্রণেতার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী এসব অস্থায়ী ঘাঁটির একটি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গত সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে একটি ঘাঁটি স্থাপন করা হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জ্ঞাতসারেই পরিচালিত হচ্ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করতেন এবং এটি তাদের বিমান অভিযানের জন্য একটি সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ভূপাতিত পাইলটদের উদ্ধারের ব্যবস্থাও ছিল। পত্রিকাটি জানিয়েছে, মার্চের শুরুতে ইরাকি ইউনিটগুলো
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েল ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে গোপনে দুটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল।
সোমবার (১৮ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে ইসরায়েল পরিচালিত দুটি গোপন ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছেন ইরাকি কর্মকর্তারা। এক ইরাকি কর্মকর্তা ও এক আইনপ্রণেতার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী এসব অস্থায়ী ঘাঁটির একটি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
গত সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে একটি ঘাঁটি স্থাপন করা হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জ্ঞাতসারেই পরিচালিত হচ্ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করতেন এবং এটি তাদের বিমান অভিযানের জন্য একটি সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ভূপাতিত পাইলটদের উদ্ধারের ব্যবস্থাও ছিল।
পত্রিকাটি জানিয়েছে, মার্চের শুরুতে ইরাকি ইউনিটগুলো ঘাঁটির অবস্থান আবিষ্কারের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে সেখান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা উন্মুক্ত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষকেরা স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে ইরাক-সৌদি সীমান্তের কাছে সন্দেহভাজন স্থানের অবস্থান শনাক্ত করেছেন।
এই প্রতিবেদনগুলো ইরাকের ভেতরে কথিত ইসরায়েলি তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের পরস্পরবিরোধী দাবিকে আরও উসকে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরাকের যৌথ অভিযান বাহিনীর উপ-কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কায়েস আল-মুহাম্মাদাউই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএকে জানান, কারবালার কাছে নাজাফ মরুভূমিতে ‘কিছু ব্যক্তি বা চলাচল’ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাটি বাগদাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্চে ইসরায়েলের সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল তোমের বার বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী ‘অসাধারণ’ অভিযান পরিচালনা করেছে। যদিও তিনি কোথায় এ অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
ইরাকি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, ওই এলাকায় কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আল-মুহাম্মাদাউই গত সপ্তাহে বলেন, এই স্থানে কোনো বাহিনীর উপস্থিতির জন্য কোনো চুক্তি বা সম্মতি নেই। তার এই বক্তব্যের পরই ইসরায়েলি ঘাঁটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চের শেষ দিকে বাগদাদ গোপনে ওয়াশিংটনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল। তারা এটিকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে।
পত্রিকাটির উদ্ধৃত মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, এই অভিযানে ওয়াশিংটনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। রোববারও ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে বলেন, মরুভূমিতে ইসরায়েল কোনো সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলেনি।
মঙ্গলবার ইরাকের কারবালা অপারেশনের কমান্ডার আল জাজিরাকে জানান, মার্চ মাসে নাজাফ মরুভূমিতে একটি ইসরায়েলি সামরিক দল শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে তিনি বলেন, তারা সেখানে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় অবস্থান করেছিল।
What's Your Reaction?