ইরান যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় মোসাদের ২ শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ইরানের সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা এবং দেশটির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের একজন মোসাদের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান, যিনি গত ডিসেম্বর থেকে ওই পদে ছিলেন। অন্যজন সংস্থাটির ইরানবিষয়ক বিভাগের প্রধান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সরকার পতনের লক্ষ্যে তৈরি একটি লিখিত সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন ওই দুই কর্মকর্তা। পরিকল্পনাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগানো এবং ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অবস্থানে ইসরায়েলি হামলার কথা ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, এসব হামলার সুযোগে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানে প্রবেশ করিয়ে দেশটির

ইরান যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় মোসাদের ২ শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ইরানের সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা এবং দেশটির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের একজন মোসাদের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান, যিনি গত ডিসেম্বর থেকে ওই পদে ছিলেন। অন্যজন সংস্থাটির ইরানবিষয়ক বিভাগের প্রধান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সরকার পতনের লক্ষ্যে তৈরি একটি লিখিত সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন ওই দুই কর্মকর্তা। পরিকল্পনাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগানো এবং ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অবস্থানে ইসরায়েলি হামলার কথা ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, এসব হামলার সুযোগে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানে প্রবেশ করিয়ে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি শহরগুলোর দিকে অগ্রসর করানোর পরিকল্পনা ছিল।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা ছিল, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে রাস্তায় নেমে আসবে। তবে ইরানের গোয়েন্দা সক্ষমতার কারণে ওই পরিকল্পনা প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এ সময় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও হামলা চালানো হয়।

পরবর্তী সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

এদিকে, মার্চে যুদ্ধ শুরুর পরপরই প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানে সশস্ত্র তৎপরতা চালানোর পরিকল্পনায় ইরাকি কুর্দিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। তবে পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদন ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ব্যাপক সহায়তা পাওয়ার পরও ওই গোষ্ঠীগুলো ইরানের ভেতরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের সরকার পতনের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রত্যাশার সঙ্গে একমত হননি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সরকার পরিবর্তন নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পূর্বাভাসকে তীব্রভাবে খারিজ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

তবে ইসরায়েলি পক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সরকার পতনের দিকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : প্রেস টিভিটাইমস অব ইসরায়েল
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow