ইরানের নেতৃত্বে শক্তিশালী ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’, মোজতবা খামেনি ছাড়াও রয়েছেন আরও যারা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্র এখন একদল প্রভাবশালী সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা তার বাবার মতো শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর পরিবর্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি ছোট কিন্তু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এই ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ এর সদস্যদের অনেকেই ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সেই যুদ্ধের সময়ই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তারা দেশটির গোয়েন্দা, নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন মোজতবা খামেনির সঙ্গে কাজ করার সুবাদে এই ব্যক্তিরা এখন রাষ্ট্র পরিচালনার কে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্র এখন একদল প্রভাবশালী সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা তার বাবার মতো শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর পরিবর্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি ছোট কিন্তু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এই ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ এর সদস্যদের অনেকেই ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সেই যুদ্ধের সময়ই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তারা দেশটির গোয়েন্দা, নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন মোজতবা খামেনির সঙ্গে কাজ করার সুবাদে এই ব্যক্তিরা এখন রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় শক্তি হয়ে উঠেছেন। তারা শুধু ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ রক্ষায় কঠোর নন, বরং বিরোধী মত দমনে কঠিন পন্থার জন্যও পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিন্ন আদর্শ, সামরিক পটভূমি এবং গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ থাকায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বহু শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা অচল হয়নি।
প্রতিবেদনে বর্তমানে ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ আগে আইআরজিসির বিমান বাহিনীর প্রধান, জাতীয় পুলিশ প্রধান এবং তেহরানের মেয়র ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাকে রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজাতদের মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে দেখা হয়।
মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদর
৭২ বছর বয়সী এই কট্টরপন্থী নেতা আইআরজিসির সাবেক উপপ্রধান এবং সাবেক উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আহমাদ ভাহিদি
সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভাহিদি বর্তমানে আইআরজিসির নেতৃত্বে রয়েছেন। অতীতে তিনি প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনী গঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আলি জাফারি
আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার জাফারি ‘বিকেন্দ্রীকৃত সামরিক কৌশল’ তৈরির জন্য পরিচিত। এই কৌশলের ফলে শীর্ষ কমান্ডার নিহত হলেও বাহিনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই
বর্তমান প্রধান বিচারপতি মোহসেনি-এজেই বিরোধী মত দমনে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।
হোসেইন তাইয়েব
সাবেক গোয়েন্দা প্রধান তাইয়েব দীর্ঘদিন ইরানের বাসিজ মিলিশিয়া ও পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তিনি মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গোষ্ঠীর কার্যক্রমের অনেক কিছুই এখনো গোপন থাকলেও তারা সম্মিলিতভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।