ইরানের মিত্রদের থেকে দ্বিমুখী হামলার আশঙ্কা করছে সৌদি আরব
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে ইরাক ও ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবে সমন্বিত হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ। সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হামলাগুলো যে কোনো সময় হতে পারে। এতে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা, বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরানোর তথ্য পেয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তার দাবি, এসব তৎপরতা ইরাকের উত্তর দিক ও ইয়েমেনের দক্ষিণ দিক থেকে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সৌদি আরব প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব ক্রমেই হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে। ইয়েমেনের হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে পড়েছে দেশটি। জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে ইরাক ও ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবে সমন্বিত হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ। সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হামলাগুলো যে কোনো সময় হতে পারে। এতে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা, বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরানোর তথ্য পেয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তার দাবি, এসব তৎপরতা ইরাকের উত্তর দিক ও ইয়েমেনের দক্ষিণ দিক থেকে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সৌদি আরব প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব ক্রমেই হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে। ইয়েমেনের হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে পড়েছে দেশটি। জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে হামলাও চালায় রিয়াদ। পরে ইরাকি মিলিশিয়াগুলো ওই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয়।
এর মধ্যেই শুক্রবার মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে তিনটি বড় সুন্নি মুসলিম শক্তির নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সৌদি কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য হামলার হুমকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ রিয়াদ একই সময়ে উত্তেজনা কমানো ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সঠিক দিকেই এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তার মতে, সম্ভাব্য হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভণ্ডুল করা।
এদিকে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর আলোচনা শুরু করে ইরান যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি হতে পারে।
সম্ভাব্য হামলার এই সতর্কতার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সৌদি আরবে হুথিদের একটি হামলায় ১১ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, নাজরান প্রদেশে হামলায় সাত সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুই মিসরীয় ও একজন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায়ও হুথিরা স্বীকার করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো ও জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অবস্থানে হুথিদের হামলায় অন্তত ১৭ ইয়েমেনি সরকারি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।
দীর্ঘদিনের সৌদি-হুথি সংঘাত এখন বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। হুথিদের লোহিত সাগর অবরোধের মতো পদক্ষেপ সৌদি তেল রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলায় রিয়াদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
সূত্র : রয়টার্স