ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব? মুখ খুললেন পেজেশকিয়ান

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের জল্পনা যখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, জনসমক্ষে না থাকলেও দেশের প্রতিরোধে মোজতবা খামেনি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্টকে ‘চূড়ান্ত আলটিমেটাম’ দিয়েছেন এবং আলোচনা ও চলমান সংঘাতসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ বাহিদির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে আর জনসমক্ষে আসেননি। ওই হামলাতেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সূচনা হয়। একই হামলায় নিহত হন তার বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপরই মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। নেতৃত্বে দ্বন্দ্বের জল্পনা ইসরায়েলি সম্প্রচারমা

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব? মুখ খুললেন পেজেশকিয়ান

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের জল্পনা যখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, জনসমক্ষে না থাকলেও দেশের প্রতিরোধে মোজতবা খামেনি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্টকে ‘চূড়ান্ত আলটিমেটাম’ দিয়েছেন এবং আলোচনা ও চলমান সংঘাতসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ বাহিদির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে আর জনসমক্ষে আসেননি। ওই হামলাতেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সূচনা হয়। একই হামলায় নিহত হন তার বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপরই মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন।

নেতৃত্বে দ্বন্দ্বের জল্পনা

ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪, তেহরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রভাব কার্যত খর্ব করে দিয়েছেন। কারণ, তিনি প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের উদ্যোগ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেননি।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নীতিগত মতবিরোধের সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আবেদনও করেছিলেন। সে সময় তার অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তার প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

চ্যানেল ১৪–এর দাবি, মোজতবা খামেনির সর্বশেষ অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তিনি এখন পুরোপুরি ইরানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন। এর ফলে কৌশলগত নীতিনির্ধারণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে।

যা বললেন পেজেশকিয়ান

সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই মুহূর্তে তার (মোজতবা খামেনি) সঙ্গে যোগাযোগ করা খুবই কঠিন। কিন্তু যাই হোক, তার উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশাল শক্তির উৎস, যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময়েও তার জনসমক্ষে না আসা ইরানের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

গত মাসে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানেও মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি, যা নিয়ে আলোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং সেখানে তিনি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও অত্যন্ত যুক্তিসংগত চিন্তাভাবনা’ দেখেছেন।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু অসৎ ব্যক্তি তাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে ও তার একটি ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করছে।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow