ইসরায়েলের নতুন নীলনকশা, পশ্চিম তীরে আতঙ্ক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পশ্চিম তীরে বসতি দখল সংক্রান্ত নতুন আইন অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। এর ফলে অধিকৃত এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ইহুদিদের জন্য সম্পত্তি কেনা সহজ হবে। এতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।  বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত আইনের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে এখন থেকে ইহুদিরা আরও সহজে জমি কিনতে পারবেন। পাশাপাশি ভূমি নিবন্ধন নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের এ আইনের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে জমির মালিকদের পরিচয় সহজে জানা যাবে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা চাপ ও হয়রানির মাধ্যমে জমি দখলের পথ সুগম করবে। এছাড়া হেবরনের অবৈধ ইহুদি বসতিতে নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষমতা এবং ইব্রাহিমি মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনি হেবরন পৌরসভার কাছ থেকে নিয়ে ইসরায়েলের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মোয়াতা

ইসরায়েলের নতুন নীলনকশা, পশ্চিম তীরে আতঙ্ক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পশ্চিম তীরে বসতি দখল সংক্রান্ত নতুন আইন অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। এর ফলে অধিকৃত এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ইহুদিদের জন্য সম্পত্তি কেনা সহজ হবে। এতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত আইনের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে এখন থেকে ইহুদিরা আরও সহজে জমি কিনতে পারবেন। পাশাপাশি ভূমি নিবন্ধন নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের এ আইনের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে জমির মালিকদের পরিচয় সহজে জানা যাবে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা চাপ ও হয়রানির মাধ্যমে জমি দখলের পথ সুগম করবে। এছাড়া হেবরনের অবৈধ ইহুদি বসতিতে নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষমতা এবং ইব্রাহিমি মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনি হেবরন পৌরসভার কাছ থেকে নিয়ে ইসরায়েলের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মোয়াতাজ আবু স্নেইনা বলেন, এই সিদ্ধান্ত ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে গুরুতর পদক্ষেপ। ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এটি ইহুদিদের কাছে ‘টম্ব অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস’ নামে পরিচিত।

১৯৯৪ সালে এক ইসরায়েলি উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারী মসজিদে গুলি চালিয়ে ২৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। পরে স্থানটি মুসলিম ও ইহুদি প্রার্থনার জন্য ভাগ করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কয়েকশ’ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় হেবরনের কেন্দ্রস্থলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

আবু স্নেইনা বলেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হেবরন ও মসজিদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। উপাসনায় বাধা, প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ, আজানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সবই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ।

হেবরন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির পরিচালক মোহান্নাদ আল-জাবারি বলেন, পুরোনো শহরে পৌরসভার দোকান জব্দ, নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণ এবং পানি সরবরাহ ইসরায়েলি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি বিশাল বর্ণবাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি পাড়াগুলো খালি করে বসতিগুলোকে ইব্রাহিমি মসজিদের সঙ্গে যুক্ত করে একটি ইহুদি কোয়ার্টার প্রতিষ্ঠা করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাবিল ফারাজ বলেন, ইসরায়েল ভৌগোলিক বাস্তবতা পুনর্গঠন করছে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ খর্ব করার চেষ্টা করছে। এটি শান্তি প্রক্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow