ইসরায়েলের হামলায় ইরানের আলি লারিজানি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ইরান। আলি লারিজানি ছিলেন ইরানের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর একজন প্রভাবশালী ও তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী নেতা। তিনি দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেয়া লারিজানি আমোলের একটি প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে আসেন। তার পরিবারকে একসময় টাইম ম্যাগাজিন ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’

ইসরায়েলের হামলায় ইরানের আলি লারিজানি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ইরান।

আলি লারিজানি ছিলেন ইরানের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর একজন প্রভাবশালী ও তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী নেতা। তিনি দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেয়া লারিজানি আমোলের একটি প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে আসেন। তার পরিবারকে একসময় টাইম ম্যাগাজিন ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তার বাবা ছিলেন একজন খ্যাতিমান ধর্মীয় আলেম। ২০ বছর বয়সে তিনি ফারিদে মোতাহারিকে বিয়ে করেন। ফারিদে মোতাহারি ছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহোল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কন্যা।

অন্যান্য অনেক নেতার তুলনায় লারিজানির শিক্ষাগত পটভূমি ছিল তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের পর পাশ্চাত্য দর্শনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। সেখানে তার গবেষণার বিষয় ছিল দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) যোগ দেন। পরে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির প্রধানও ছিলেন।

২০০৫ সালে তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক হন। ২০০৭ সালে সে পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং টানা তিন মেয়াদে পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

২০২৫ সালের আগস্টে তিনি আবারও নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ইরানের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ফিরে আসেন।

এদিকে ইসরায়েল আরও দাবি করেছে যে তারা ইরানের বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যা করেছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিমান হামলা চালিয়ে গত ছয় বছর ধরে বাসিজ ইউনিটের নেতৃত্ব দেয়া গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই দাবিও এখনো নিশ্চিত করেনি ইরান।

যদি এ তথ্য সত্য হয়, তাহলে এটি হবে চলমান যুদ্ধে অন্যতম বড় হত্যাকাণ্ড। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গোলামরেজা সোলেইমানির জন্ম ১৯৬৫ সালে। বাসিজ বাহিনীর মাধ্যমে ‘ভিন্নমত দমন’ করার অভিযোগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন।

সূত : আল জাজিরা

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow