ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। দলের নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। একই সঙ্গে চারজন যুগ্ম মহাসচিব, চারজন সহকারী মহাসচিব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকারী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরস্থ ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বিশেষ বৈঠকে নতুন কমিটির ঘোষণা দেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই পীর)।
নির্বাচনোত্তর কার্যক্রম পর্যালোচনা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিশেষ শুরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২৫-২৬ সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; বরং শরিয়াহর পূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই দলের প্রধান লক্ষ্য। শরিয়াহ ও ইসলামকে প্রাধান্য দিয়েই দল রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করে। সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে আরও সুসংহত করে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে হবে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতায় জাতির প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব ইসলামী আন্দোলনের ওপর আরও বেড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। পরে যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বিগত সেশনের সার্বিক প্রতিবেদন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক সাংগঠনিক প্রতিবেদন এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান রাজনৈতিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শুরা সদস্যদের পরামর্শক্রমে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন কমিটিতে যারা যে দায়িত্বে
আমির
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)
নায়েবে আমির
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম
মাওলানা আব্দুল আউয়াল
মাওলানা আব্দুল হক আজাদ
মহাসচিব
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
যুগ্ম মহাসচিব
প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম
হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ
শাহ ইফতেখার তারিক
মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন
সহকারী মহাসচিব
মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের
মাওলানা আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম
কে এম আতিকুর রহমান
হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য
মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালী উল্লাহ (এমপি), মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, হাজি হারুন অর রশীদ, হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, শেখ আবু তাহের, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, হাজি আব্দুর রহমান, প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মুফতি হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী, প্রফেসর ড. বেলাল নূর আজীজি, মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবুল কাশেম, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী, হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (এলএলবি), মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, কে এম শরীয়তুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ, অধ্যাপক নাছির উদ্দিন খাঁন, মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, হাজি মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, হাজি মুহাম্মদ আল ইকবাল, হাজি মুহাম্মদ সেলিম মাহমুদ, প্রভাষক মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার, কে এম বেলাল হোসাইন, মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ আব্দুজ জলিল, মুহাম্মদ আল-আমীন (ঠাকুরগাঁও), ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ এবং এম এম কামাল হোসাইন (ভোলা)।
বৈঠকে জানানো হয়, ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মধ্যে পরবর্তীতে দফতর বণ্টন করা হয়েছে। এছাড়া দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং শুরা অধিবেশনে তাকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।