ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিতর্ক: শেয়ার মালিকানা প্রকাশের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী ব্যাংকের চেয়ারম্যান থেকে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত অপসারণের ক্ষমতা রাখে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইবনে সিনার দুই পারসেন্ট শেয়ার ছিল, ব্লক মার্কেটে তারা তিন গুণ দামে শেয়ার বিক্রি করেছে। এটা তো রেকর্ড, পাবলিক লিস্টেড কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে তিন গুণ দামে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি জানান, বিরোধী দলের নোটিসে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা প্রকাশের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারা কত শতাংশ শেয়ারের মালিক, তা প্রকাশ করা হোক। শেয়ার কেনার উৎস নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা তারা কীভাবে খরিদ করেছেন সেটা ভিন্ন বিতর্ক, সেটা দুদ
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী ব্যাংকের চেয়ারম্যান থেকে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত অপসারণের ক্ষমতা রাখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইবনে সিনার দুই পারসেন্ট শেয়ার ছিল, ব্লক মার্কেটে তারা তিন গুণ দামে শেয়ার বিক্রি করেছে। এটা তো রেকর্ড, পাবলিক লিস্টেড কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে তিন গুণ দামে বিক্রি করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিরোধী দলের নোটিসে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা প্রকাশের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারা কত শতাংশ শেয়ারের মালিক, তা প্রকাশ করা হোক।
শেয়ার কেনার উৎস নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা তারা কীভাবে খরিদ করেছেন সেটা ভিন্ন বিতর্ক, সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে, মামলা হতে পারে। কিন্তু শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ারহোল্ডারই।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ব্যাংক কোম্পানি আইনে দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৪৯ ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে জনস্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে চেয়ারম্যান থেকে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত অপসারণ এবং পর্ষদ বাতিলের ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগে আইন পরিবর্তন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে তারপর আপনারা এই আলোচনায় আসেন। অন্যথায় রেগুলেটরি অথরিটি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে দেশের স্বার্থে, ব্যাংককে রক্ষা করার স্বার্থে কার্যক্রম চালু করবে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়, যেখানে নারী গ্রাহকের সংখ্যা বেশি।
তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে অনেক নারীকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও টাকা পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে একটি গ্রুপকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।
সিএসআর ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।
ইসলামী ব্যাংকে হওয়া বিভিন্ন অনিয়মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তোবা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।
What's Your Reaction?