• আট মাসে ১০,৭১০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়
• ‘এক দাম’ লেখা বেশিরভাগ দোকানে দেওয়া হয় না ভ্যাট চালান
• খাবার, কাপড়, কসমেটিকসে ভ্যাট ফাঁকি বেশি
• পদক্ষেপে সমন্বয়কদের বাধার মুখে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ
দুয়ারে কড়া নাড়ছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ সামনে রেখে জমে উঠছে চট্টগ্রাম নগরীর ঈদ বাজার। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে মার্কেট-শপিং মলগুলো। অভিজাত বিপণিকেন্দ্র থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত সবখানে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। সবখানে এখন বেচাকেনার ধুম। মার্কেট-বিপণিকেন্দ্রগুলো ছাড়াও ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতেও এখন ক্রেতাদের ভিড়।
ঈদ ঘিরে ব্যবসায়ীরা দেশি-বিদেশি বাহারি পোশাক ও অলঙ্কারের সম্ভার ঘটিয়েছেন দোকানগুলোতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীরা পছন্দের পোশাক কিনতে আস্থা রাখছেন ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে। তবে ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততায় বিভিন্ন দোকানে চলছে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব। এতে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
অভিযোগ রয়েছে, খাবার, কাপড়, জুতো ও কসমেটিকসের দোকানে ভ্যাট ফাঁকি অনেক বেড়েছে। ‘এক দাম’ লেখা বেশিরভাগ দোকানে ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে না ভ্যাট চালান বা রশিদ।
‘এক দাম’ লেখা বেশিরভাগ দোকানে ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে না ভ্যাট চালান বা রশিদ। ভ্যাট কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে গেলে অনেকক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
ভ্যাট কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে গেলে অনেকক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফনান চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট হিসেবে খ্যাত বিপণী বিতানের ইলুশন নামের একটি ব্র্যান্ডের দোকান থেকে ২ হাজার ৬৫০ টাকায় একটি পাঞ্জাবি কেনেন। তাকে দেওয়া রশিদে দেখা যায়, দোকানি ভ্যাটের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। রশিদটিতে ভ্যাট চালান ছিল না। ক্রেতার নামের ঘরে উল্লেখ করা হয়- ‘ওয়াকিং কাস্টমার’ (হাঁটা পথের ক্রেতা)। রশিদে দেখা যায়, ২ হাজার ৯৫০ টাকার সেই পাঞ্জাবিটি ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ ছাড় হিসাবে ৩০০ টাকা বাদ দিয়ে ২ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর বিষয়টি ভ্যাট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিক সেখানে অভিযান চালায় এবং ওই দোকানের কম্পিউটার জব্দ করে আগ্রাবাদ ভ্যাট ডিভিশন। তবে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
শুধু ইলুশন ব্র্যান্ডশপ নয়, নগরীর অসংখ্য ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এভাবেই দিনের পর দিন ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। তবে রমজানে ভ্যাট ফাঁকি রোধে দিনরাত তদারকির কথা জানিয়েছে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।
- আরও পড়ুন
- সরকারের পছন্দের ব্যক্তিদের রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনবিআর বিলুপ্ত হচ্ছে
- সুপারশপে ভ্যাট ছাড়ের পর বিক্রি বেড়েছে
- ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া ৪১ জেলায় ব্যবসা করছে ২৩১০ জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান
বছরের বড় অংশের ভ্যাট ঈদ বাজার থেকে আদায় করে থাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের ঈদ বাজারে দিনরাত তদারকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট কমিশনারেট।
ভ্যাট প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে ১০ হাজার ৭১০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫৫ কোটি টাকা বেশি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ভ্যাট আদায় হয়েছিল ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট কমিশনারেটের অধীনে ৯টি বিভাগে মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬২ হাজার ৮০৪টি।
ইদানীং ভ্যাট কর্তৃপক্ষ মনিটরিংয়ের নামে মার্কেটে মার্কেটে গিয়ে আমাদের ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন। ভ্যাট কর্মকর্তারা তদারকির সময়ে যদি আমাদের সমিতির লোকজনকে সঙ্গে রাখেন আমরাও তাদের কাজে সহযোগিতা করতে পারি। সেক্ষেত্রে তাদের (ভ্যাট কর্তৃপক্ষ) তদারক কাজও সহজ হতো।- সৈয়দ খুরশিদ আলম
চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেইন, টেরিবাজার, জহুর হকার মার্কেট ছাড়াও বিপণি বিতান, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, ভিআইপি টাওয়ার, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, ফিনলে স্কয়ার, সানমার ওশ্যান সিটি, আমিন সেন্টার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, ফিনলে সাউথ সিটিসহ অভিজাত শপিং সেন্টারগুলোতে ঈদের জমজমাট কেনাকাটা চলছে।
পাশাপাশি নগরীর জিইসি মোড় ও প্রবর্তক মোড় এলাকাতেও এককভাবে রয়েছে অসংখ্য ব্র্যান্ডশপ। এসব শপে অপেক্ষাকৃত অভিজাত পরিবারের ক্রেতারা আসেন কেনাকাটা সারতে। সেখানকার বেশিরভাগ ব্র্যান্ডশপ ভ্যাট নিবন্ধিত। জিইসি মোড়ের জেন্টল পার্ক, বিপণি বিতানের লোটো, বাটা, বে, এপেক্স, মিমি সুপার মার্কেটের শৈশব শোরুমে শতভাগ ভ্যাট চালান দিতে দেখা গেছে।
তবে ব্র্যান্ডশপ ছাড়াও বিদেশি পণ্যের কেনাবেচা চলে, এরকম অসংখ্য ‘এক দামের’ দোকান রয়েছে। যেসব দোকানে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের কোনো প্রকার রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে চলছে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব। বিশেষত বিপণি বিতান, মিমি সুপার মার্কেট, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, সানমার ওশ্যান সিটি, ভিআইপি টাওয়ারের ‘এক দাম’ লেখা নামিদামি বেশিরভাগ কাপড় ও জুতোর দোকানে গ্রাহকদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তারা কোনো প্রকার ভ্যাট রশিদ দিচ্ছেন না।
এ নিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট কমিশনার অফিসে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী কমিশনার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা যে প্রতিষ্ঠানেই ভ্যাট ফাঁকির খবর পাই, সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অভিযান পরিচালনা করি। রমজানে সরকারি অফিসগুলো বিকেল সাড়ে তিনটায় ছুটি হয়ে গেলেও আমাদের ভ্যাট কর্তৃপক্ষের রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা (এআরও) রাত পর্যন্ত মার্কেটগুলো তদারকিতে থাকেন।’
এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বছরজুড়ে ভ্যাট ফাঁকির অনেক মামলা করি। মামলা করেও লাখ লাখ টাকার ভ্যাট আদায় করা হয়। কিন্তু এসব তথ্য গণমাধ্যমে দেওয়া হয় না। কারণ, যাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দিই, আবার সেই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই আমাদের ভ্যাট আদায় করতে হয়। আমাদের দেওয়া ভ্যাট ফাঁকির মামলার বিষয়ে গণমাধ্যমে যখন কোনো প্রতিবেদন হয়, তখন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যক্ষভাবে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে।’
‘প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের ভ্যাট আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যে কারণে আমরা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের (ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান) কাছ থেকে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করে থাকি’- বলেন এ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী ভ্যাট কর্তৃপক্ষও অনেক জটিলতার মধ্য দিয়ে কাজ করছে। ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাই। তাদের ভ্যাট আদায় সংক্রান্ত কম্পিউটার ও যন্ত্রপাতিও জব্দ করা হয়। এখন মাঝেমধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযানের পর অনেকক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা ভ্যাট কার্যালয়ে (দোকান মালিকের পক্ষে তদবির করতে) চলে আসেন। এরই মধ্যে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা আমাদের ফেস করতে হয়েছে।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, রমজানে কাপড়, জুতো, কসমেটিস ছাড়াও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভ্যাট ফাঁকি চলছে। নগরীর চকবাজারের কুটুমবাড়ি রেস্তোঁরা। বিকেল থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বাইরে সামনের অংশে ইফতারি কিনতে ক্রেতাদের ভিড় জমে। প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাটের ইএফডি (ইলেক্ট্রনিক ফিস্কেল ডিভাইস) নিবন্ধিত হলেও ইফতারির ক্রেতাদের ভ্যাট চালান দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে পাশের সবুজ হোটেলের ইফতারির বাজারেও গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে না ভ্যাট রশিদ।
নগরীর নিউমার্কেট এলাকার আরেক জনপ্রিয় হোটেল জামাল হোটেল। এই হোটেলের বিরিয়ানির কদর বেশি। হোটেলটিতে বিরিয়ানি দিয়েই ইফতার করানো হয়। ক্রেতাদের দোকানের রশিদ দেওয়া হলেও ভ্যাট রশিদ দেওয়া হয় না।
নগরীর জনপ্রিয় মিষ্টিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হাইওয়ে সুইটস। জামালখান সড়কের দুটি শোরুমে ইফতারের আগে ক্রেতার লাইন পড়ে। এখানেও ভ্যাট চালান দেওয়া হয় না ক্রেতাদের।
ভ্যাট দেন গ্রাহক, আদায় করেন বিক্রেতা। বিক্রেতা গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত ভ্যাট রাজস্ব বোর্ডে জমা দেন। এক্ষেত্রে আমাদের যে জনবল, তা দিয়ে ভ্যাট ফাঁকি শতভাগ রোধ করা কঠিন। ক্রেতারা কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দোকান থেকে মূসক চালান চেয়ে নিলে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত হবে।- শওকত আলী সাদী
একই চিত্র দেখা গেছে হাইওয়ে সুইটসের লালখান বাজার আউটলেটেও। ইএফডি নিবন্ধিত হলেও সেখানেও ক্রেতাদের দেওয়া হয় না ভ্যাট রশিদ। দোকানটির ক্যাশিয়াররা জানান, তাদের দোকানে মিষ্টির অনেক আইটেম। ইএফডি মেশিন দিয়ে সব ক্রেতাকে ভ্যাট চালান দেওয়া কষ্টসাধ্য।
- আরও পড়ুন
- শিশুদের পোশাকে ভরপুর দোকান, বিক্রিও ভালো
- শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটার ধুম
- এবার জাকাতের কাপড় বিক্রিতে ভাটা
এ বিষয়ে কথা হলে চট্টগ্রাম জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খুরশিদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রমজানের ঈদে কাপড়, জুতো ও কসমেটিকসসহ খাদ্যপণ্যের দোকানগুলোতে বিক্রি বাড়ে, ক্রেতাদের আনাগোনাও বাড়ে। আমাদের প্রত্যেক ব্যবসায়ী ভ্যাটবান্ধব। ভ্যাট নিবন্ধিত প্রায় সব প্রতিষ্ঠান ভ্যাট দেয়। তবে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের চাপের কারণে অনেক সময় ভুলে ভ্যাট চালান দেওয়া হয় না। ইচ্ছেকৃত ভ্যাট ফাঁকি না দিতে আমাদের সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ইদানীং ভ্যাট কর্তৃপক্ষ মনিটরিংয়ের নামে মার্কেটে মার্কেটে গিয়ে আমাদের ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন। ভ্যাট কর্মকর্তারা তদারকির সময়ে যদি আমাদের সমিতির লোকজনকে সঙ্গে রাখেন আমরাও তাদের কাজে সহযোগিতা করতে পারি। তাদের (ভ্যাট কর্তৃপক্ষ) তদারক কাজও সহজ হতো।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার শওকত আলী সাদী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় অংশের জোগান আসে ভ্যাট থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমরা চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট থেকে প্রায় পৌনে ১১ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করেছি। তাছাড়া রমজানের কেনাকাটায় বড় অংশের ভ্যাট আদায় করার লক্ষ্যমাত্রা থাকে ভ্যাট কর্তৃপক্ষের।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভ্যাট নিবন্ধিত যত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে নিবিড়ভাবে মনিটরিং করার জন্য সে অনুপাতে আমাদের লোকবল নেই। তারপরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। ঈদ সামনে রেখে নগরীর প্রতিটি নামিদামি মার্কেটে আমরা রাত-দিন মনিটরিং করছি। বিশেষত ইফতার এবং সেহরির সময়েও মার্কেটগুলোতে আমাদের টিম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা আমাদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক নোটিশ করা হয়।’
‘ভ্যাট দেন গ্রাহক, আদায় করেন বিক্রেতা। বিক্রেতা গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত ভ্যাট রাজস্ব বোর্ডে জমা দেন। এক্ষেত্রে আমাদের যে জনবল, তা দিয়ে ভ্যাট ফাঁকি শতভাগ রোধ করা কঠিন। এক্ষেত্রে আমাদের গ্রাহকদের সচেতনতা জরুরি। ক্রেতারা কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দোকান থেকে মূসক চালান চেয়ে নিলে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত হবে। ক্রেতা সাধারণ সচেতন হলে এবং পণ্যকেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট চালান সংগ্রহ নিশ্চিত করলে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ অনেকগুণ বাড়বে’- যোগ করেন শওকত আলী সাদী।
এমডিআইএইচ/এমকেআর/এএসএম