ঈদকে ঘিরে নাট্যাঙ্গনে স্বস্তির হাওয়া
ঈদ মানেই টেলিভিশন পর্দায় গল্পের রঙিন আয়োজন। বছরজুড়ে নানা ব্যস্ততা থাকলেও ঈদ এলেই ছোট পর্দায় তৈরি হয় ভিন্ন এক উচ্ছ্বাস। দর্শকদের জন্য নতুন গল্প, নতুন চরিত্র আর তারকাদের বিশেষ উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ঈদ হয়ে ওঠে টেলিভিশন নাটকের সবচেয়ে বড় মৌসুম। সেই প্রস্তুতি এবারও প্রায় শেষ করেছেন নির্মাতা ও শিল্পীরা। শুটিং শেষ, সম্পাদনার কাজও শেষ পর্যায়ে। ফলে ঈদের আগমুহূর্তে ছোট পর্দার অঙ্গনে ফিরেছে চেনা ব্যস্ততা ও প্রাণচাঞ্চল্য। তবে এ স্বস্তির চিত্র খুব বেশি দিন আগের নয়। দেড় থেকে দুই বছর ছোট পর্দার নাট্যাঙ্গনে ছিল এক ধরনের অনিশ্চয়তা। প্রযোজনার সংখ্যা কমে যাওয়া, স্পন্সর সংকট, বাজেট কমে আসা—সব মিলিয়ে অনেক নির্মাতাই ছিলেন চাপে। অনেক নাটকের পরিকল্পনা মাঝপথে থেমে গেছে, আবার কেউ কেউ কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে ঈদ নাটকের সংখ্যাও কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে এবারের ঈদকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে নাটকের সংখ্যা বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। নির্মাতারা বলছেন, স্পন্সর পাওয়া এখন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও ঈদ আয়োজন ঘিরে নাটক সংগ্রহে বেশ আগ্রহী। ফলে নাট্যাঙ্গ
ঈদ মানেই টেলিভিশন পর্দায় গল্পের রঙিন আয়োজন। বছরজুড়ে নানা ব্যস্ততা থাকলেও ঈদ এলেই ছোট পর্দায় তৈরি হয় ভিন্ন এক উচ্ছ্বাস। দর্শকদের জন্য নতুন গল্প, নতুন চরিত্র আর তারকাদের বিশেষ উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ঈদ হয়ে ওঠে টেলিভিশন নাটকের সবচেয়ে বড় মৌসুম। সেই প্রস্তুতি এবারও প্রায় শেষ করেছেন নির্মাতা ও শিল্পীরা। শুটিং শেষ, সম্পাদনার কাজও শেষ পর্যায়ে। ফলে ঈদের আগমুহূর্তে ছোট পর্দার অঙ্গনে ফিরেছে চেনা ব্যস্ততা ও প্রাণচাঞ্চল্য। তবে এ স্বস্তির চিত্র খুব বেশি দিন আগের নয়। দেড় থেকে দুই বছর ছোট পর্দার নাট্যাঙ্গনে ছিল এক ধরনের অনিশ্চয়তা। প্রযোজনার সংখ্যা কমে যাওয়া, স্পন্সর সংকট, বাজেট কমে আসা—সব মিলিয়ে অনেক নির্মাতাই ছিলেন চাপে। অনেক নাটকের পরিকল্পনা মাঝপথে থেমে গেছে, আবার কেউ কেউ কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে ঈদ নাটকের সংখ্যাও কিছুটা কমে গিয়েছিল।
কিন্তু সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে এবারের ঈদকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে নাটকের সংখ্যা বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। নির্মাতারা বলছেন, স্পন্সর পাওয়া এখন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও ঈদ আয়োজন ঘিরে নাটক সংগ্রহে বেশ আগ্রহী। ফলে নাট্যাঙ্গনে আবারও ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। ঈদের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। অনেকেই রোজার কয়েক মাস আগে ঈদ নাটকের পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন। শুটিং শেষ করে এখন কেউ কেউ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নাটক জমা দিচ্ছেন। আবার অনেক নাটকের পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজও চলছে পুরোদমে।
একসময় ঈদ নাটকের শুটিং মূলত রাজধানীর উত্তরা এলাকাতেই বেশি হতো। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। গাজীপুরের পুবাইল, বিভিন্ন রিসোর্ট, ঢাকার আশপাশের গ্রামীণ লোকেশনসহ নানা জায়গায় শুটিং হচ্ছে নিয়মিত। নির্মাতারা মনে করছেন, লোকেশনের এ বৈচিত্র্য নাটকের দৃশ্য ও গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে। এবারের ঈদ আয়োজনে থাকছে নানা ঘরানার গল্প। হাস্যরসাত্মক নাটকের পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে পারিবারিক, রোমান্টিক, সামাজিক বার্তাধর্মী এবং থ্রিলার ঘরানার নাটকও। দর্শকের রুচি বিবেচনায় রেখে নির্মাতারা চেষ্টা করেছেন গল্পে নতুনত্ব আনার। অনেকেই জনপ্রিয় নাটকের সিকুয়ালও নির্মাণ করেছেন, যা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেশ লক্ষণীয়।
নির্মাতাদের পাশাপাশি অভিনয়শিল্পীরাও ছিলেন বেশ ব্যস্ত। ঈদ নাটকের শুটিং করতে গিয়ে অনেক শিল্পী টানা কয়েক সপ্তাহ শিডিউল মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। কেউ কেউ একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। ফলে ঈদের আগে তাদের শুটিং ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অনেক তারকাকেও এবার দেখা যাবে বিভিন্ন নাটকে। যদিও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজের ব্যস্ততার কারণে কয়েকজন শিল্পী আগের মতো বেশি নাটকে অভিনয় করেননি, তবুও তাদের উপস্থিতি থাকছে ঈদের বিশেষ আয়োজনে।
অভিনেতা ও নির্মাতা আবুল হায়াত এ বছরের ঈদের জন্য নির্মাণ করেছেন ‘সখিনা’ নামের একটি নাটক। রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এ নাটকের চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি নিজেই। প্রতি ঈদে নিজের পরিচালনায় ‘ছোটকাকু’ সিরিজ নিয়ে হাজির হন নন্দিত নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেন। এবারের সিরিজের নাম ‘কঙ্গো থেকে বঙ্গ’। নির্মাতা মুহম্মদ মোস্তফা কামাল একাধিক নাটক নিয়ে হাজির হচ্ছেন এবারের ঈদে। সালাহউদ্দিন লাভলু নির্মাণ করেছেন ‘সত্য সংকট’, সাগর জাহান এনটিভির জন্য নির্মাণ করেছেন ‘ছিটকিনি’। তালিকায় রয়েছে বর্ণ নাথের ‘সোনার চেইন’, রুবেল হাসানের ‘গোলাপী’, তপু খানের ‘হ্যাপি ডিভোর্স’, মাহিন খানের ‘বেসড অন ট্রু স্টোরি’, রাকেশ বসু ‘জাদুকর মোতালেব ২’, ‘জামাই কার?’, ‘সিন্ডিকেট বাদল’-সহ আরও অসংখ্য নাটক। প্রতিটি টিভি চ্যানেল এবার তাদের ঈদ আয়োজন সাজিয়েছে নাটককে কেন্দ্র করেই। জানা গেছে, সকাল আহমেদ, মাবরুর রশিদ বান্না, চয়নিকা চৌধুরী, ভিকি জাহেদ, জাকারিয়া সৌখিন, প্রবীর রায় চৌধুরী, ওসমান মিরাজ, শরাফ আহমেদ জীবন, রাফাত মজুমদার রিকু, জুবায়ের ইবনে বকর, এস আর মজুমদার, শহীদ উন নবী, আবু মইদুল রাকিবসহ তিন শতাধিক নির্মাতা এবারের ঈদ আয়োজনে নতুন কাজ নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এসব নাটকে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, জাকিয়া বারী মম, তানজিকা আমিন, তৌসিফ মাহবুব, খায়রুল বাসার, ফারহান আহমেদ জোভান, নিলয় আলমগীর, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, ইরফান সাজ্জাদ, জিয়াউল হক পলাশ, পাভেল, মারজুক রাসেল, শাশ্বত দত্ত, আরশ খান, পার্থ শেখ, তানজিন তিশা, তটিনী, নিহা, আইশা খান, সাফা কবির, পারসা ইভানা, নাদিয়া আহমেদ, সালহা খানম নাদিয়া, অহনা, মৌসুমী হামিদ, কেয়া পায়েল, রুকাইয়া জাহান চমক, সামিরা খান মাহি, সাদিয়া আয়মানসহ অনেক অভিনয়শিল্পী। এদের অনেকেই এক থেকে একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। অনেকে আবার একাই ডজন খানের নাটক নিয়ে হাজির হবেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গত কয়েক বছরের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এবারের ঈদে ছোট পর্দার নাট্যাঙ্গনে ফিরেছে স্বস্তির হাওয়া। নাটকের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে নির্মাতাদের আগ্রহ ও দর্শকের প্রত্যাশাও। নানা গল্প ও ঘরানার নাটকে সাজানো এবারের ঈদ আয়োজন তাই দর্শকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে টেলিভিশন পর্দায় এক বড় গল্পের উৎসব।
What's Your Reaction?