ঈদে নানাবাড়ি যাচ্ছে তমালিকা, অপেক্ষা যেন আর শেষ হচ্ছে না
রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তমালিকা। ঈদে স্কুল বন্ধ থাকায় মায়ের সঙ্গে যাচ্ছেন নানাবাড়ি ঈদ উদযাপন করতে। চোখেমুখে আনন্দ তমালিকার। গ্রামে থাকা মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষা যেন আর শেষ হচ্ছে না তার। মায়ের হাত ধরে হাঁটছে আর বলছে, ‘আম্মু তাড়াতাড়ি হাঁটো, ট্রেন চলে যাবে’। সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে চোখে পড়ে মা-মেয়ের এই কথোপকথন। এসময় কথা হলে তমালিকা বলে, ‘ঈদ করতে নানাবাড়ি যাচ্ছি। ওখানে আমার অনেক ভাই-বোন আছে। আমি তাদের সঙ্গে গল্প করবো, খেলবো। অনেক আনন্দ হবে। মন চাইছে যদি উড়ে চলে যেতে পারতাম।’ তার মা শিউলি আক্তার বলেন, ‘সারাবছর মেয়েটা শহরে বন্দি থাকে। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারলে খুব খুশি হয়। কয়েকদিন আগ থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছে।’ শুধু তমালিকা নয়, ঈদ উদযাপনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করা প্রতিটি শিশুর মনে এমন আনন্দ আর উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। একই প্ল্যাটফর্মে দেখা যায় সাত বছরের শিশু রাফিকে। বাবার কাঁধে ছোট্ট একটি ব্যাগ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ট্রেনের অপেক্ষায়। সে জানায়, গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দাদুর সঙ্গে ঘুরবে আর ঈদের মেলায় যাবে। রাফি বলে, ‘
রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তমালিকা। ঈদে স্কুল বন্ধ থাকায় মায়ের সঙ্গে যাচ্ছেন নানাবাড়ি ঈদ উদযাপন করতে। চোখেমুখে আনন্দ তমালিকার। গ্রামে থাকা মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষা যেন আর শেষ হচ্ছে না তার। মায়ের হাত ধরে হাঁটছে আর বলছে, ‘আম্মু তাড়াতাড়ি হাঁটো, ট্রেন চলে যাবে’।
সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে চোখে পড়ে মা-মেয়ের এই কথোপকথন।
এসময় কথা হলে তমালিকা বলে, ‘ঈদ করতে নানাবাড়ি যাচ্ছি। ওখানে আমার অনেক ভাই-বোন আছে। আমি তাদের সঙ্গে গল্প করবো, খেলবো। অনেক আনন্দ হবে। মন চাইছে যদি উড়ে চলে যেতে পারতাম।’
তার মা শিউলি আক্তার বলেন, ‘সারাবছর মেয়েটা শহরে বন্দি থাকে। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারলে খুব খুশি হয়। কয়েকদিন আগ থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছে।’
শুধু তমালিকা নয়, ঈদ উদযাপনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করা প্রতিটি শিশুর মনে এমন আনন্দ আর উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
একই প্ল্যাটফর্মে দেখা যায় সাত বছরের শিশু রাফিকে। বাবার কাঁধে ছোট্ট একটি ব্যাগ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ট্রেনের অপেক্ষায়। সে জানায়, গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দাদুর সঙ্গে ঘুরবে আর ঈদের মেলায় যাবে।
রাফি বলে, ‘আমি ট্রেনে জানালার পাশে বসবো। তারপর মাঠ দেখবো। দাদু আমাকে মেলায় নিয়ে যাবে।’
এসময় তার বাবা হেসে বলেন, ‘ঈদ মানেই বাচ্চাদের জন্য আলাদা আনন্দ। গ্রামের পরিবেশ, আত্মীয়স্বজন, খোলা মাঠ-সবকিছুই তাদের কাছে উৎসবের মতো।’
কমলাপুর স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক শিশু নতুন জামা পরে এসেছে। কেউ ট্রেনের হুইসেল শুনে উচ্ছ্বসিত, কেউ আবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। অনেকেই মোবাইলে গ্রামের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছে, ‘আমরা ট্রেনে উঠে গেছি’।
স্টেশনে দায়িত্ব পালন করা রেলওয়ের এক কর্মী বলেন, ‘ঈদযাত্রায় শিশুদের আনন্দ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। ভিড় আর কষ্টের মধ্যেও তাদের উচ্ছ্বাস পুরো পরিবেশকে অন্যরকম করে তোলে।’
তিনি বলেন, ‘বড়রা যাত্রার ঝামেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাচ্চারা শুধু বাড়ি যাওয়ার আনন্দ নিয়েই থাকে। ট্রেন দেখলেই তাদের চোখ চিকচিক করে ওঠে।’
ঈদযাত্রায় বাড়তি নিরাপত্তা
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্টেশনের প্রবেশপথ ও প্ল্যাটফর্মজুড়ে অতিরিক্ত রেলওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট তদারকি, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের নজরদারি এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা। পাশাপাশি স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যেন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন থাকে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ঢাকা বিভাগের সহকারী কমান্ড্যান্ট রোকনুজ্জামান খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আরএনবি, রেলওয়ে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। স্টেশন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিনা টিকিটের যাত্রীরা যেন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তিন স্তরের টিকিট চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত। আমরা আশা করছি এবারও যাত্রা নির্বিঘ্ন হবে।’
এনএস/ইএ
What's Your Reaction?