ঈদেও নিরবিচ্ছিন্ন সেবা, প্রশংসায় ভাসছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

8 hours ago 5

মা ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে ব্রিটিশ আমলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে প্রতিষ্ঠা করা হয় পাবনা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। সেই থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও এ চিকিৎসা কেন্দ্রে ১১টি নরমাল ডেলিভারিসহ অন্তত অর্ধশত মা ও শিশুকে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সেবা। জনবল ও অবকাঠামোগত নানা সংকট উপেক্ষা করে এমন নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দেওয়ায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে চিকিৎসা কেন্দ্রটি।

চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ থেকে ঈদ ও সাধারণসহ মোট ৯ দিনের ছুটির এ সময়ে কেন্দ্রে ১১ জন প্রসূতিকে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়েছে। এছাড়া ১১ জনকে প্রসবোত্তর ও ৮ জনকে গর্ভকালীন সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ রোগী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে চিকিৎসা কেন্দ্রটি। এর বাইরে রক্ত ও ইউরিনসহ কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে। দেওয়া হয়েছে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ঈদের ছুটিকালীন এসব জরুরি সেবা কার্যক্রম তদারকি করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. এ.বি.এম শরিফুল হক, সহকারী পরিচালক (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশান) ডা. নাজমুস সাকিব ও মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশান) ডা. মো. আব্দুল বাতেন।

দীর্ঘ এ ছুটির মাঝেও এমন নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা পেয়ে খুশি সেবাভোগীরা।

এ ব্যাপারে প্রসূতি সেবা নিতে আসা শারমিন ও কাঞ্চন খাতুনসহ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, ঈদ বা কোনো উৎসব এলেই অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তার পাওয়া কঠিন। প্রসূতি রোগীদের চিন্তা আরও বেশি। কারণ এসব সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার বা সংশ্লিষ্টদের না পাওয়া গেলে মোটা অংকের টাকায় বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হয়। সেখানে সবার আগে জানানো হয়, সিজার করতে হবে। কিন্তু এখানে এলে নরমাল ডেলিভারির সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। ঈদের এই ছুটিতে ডেলিভারিসহ অন্যান্য সেবা মিলছে, এটি সবার জন্য স্বস্তির বিষয়।

চিকিৎসা কেন্দ্রটির পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রাশিদা বেগম বলেন, ঈদ আনন্দ সবই করতে হবে। আবার সবাইকে ভালোও থাকতে হবে। সবাই যদি সব ভুলে আনন্দ উপভোগে ছুটি কাটায় তাহলে সমস্যায় আক্রান্তরা কীভাবে বাঁচবেন? এসব বিষয় মাথায় রেখে আমরা দিনে রাতে যার যখন যেভাবে ডিউটি ছিলো পালন করেছি। ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

এ ব্যাপারে পাবনা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. উর্মি সাহা বলেন, অত্যন্ত পুরোনো একটি হাসপাতাল এটি। অল্প জনবলের এ হাসপাতালে দু’একজন ছুটি কাটাতে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। এর মাঝেও তিন শিফটে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, মিডওয়াইফ, নার্স, দাই নার্স ও আয়া দিয়ে রোস্টার করে এবারের ঈদে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আমাদের হাসপাতালটির নরমাল ডেলিভারিতে সুনাম রয়েছে। বিনামূল্যে সিজারও করা হয়। ঈদের ছুটিতেও এ সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু ছিল।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/এফএ/এমএস

Read Entire Article