ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্ধ বৈকালিক চিকিৎসা, বিপাকে শত শত রোগী
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালিক চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষ। সরকারি নির্ধারিত মাত্র ২০০ টাকা ফি দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে সেবাটি বন্ধ থাকায় অনেক রোগীকেই চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল। জানা গেছে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ২০২৩ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘বৈকালিক চিকিৎসাসেবা’ চালু করে সরকার। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালের সরকারি দায়িত্ব শেষে এমবিবিএস, বিডিএস ও সমমানের চিকিৎসকেরা বহির্বিভাগে এ সেবা দিতেন। রোগীপ্রতি সরকার নির্ধারিত ২০০ টাকা ফি নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। এ সেবার আওতায় চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিনামূল্যে ওষুধও পেতেন রোগীরা। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সেবাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে সম্প্রতি বৈকালিক চিকিৎ
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালিক চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষ। সরকারি নির্ধারিত মাত্র ২০০ টাকা ফি দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে সেবাটি বন্ধ থাকায় অনেক রোগীকেই চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল।
জানা গেছে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ২০২৩ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘বৈকালিক চিকিৎসাসেবা’ চালু করে সরকার। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালের সরকারি দায়িত্ব শেষে এমবিবিএস, বিডিএস ও সমমানের চিকিৎসকেরা বহির্বিভাগে এ সেবা দিতেন। রোগীপ্রতি সরকার নির্ধারিত ২০০ টাকা ফি নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল।
এ সেবার আওতায় চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিনামূল্যে ওষুধও পেতেন রোগীরা। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সেবাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
তবে সম্প্রতি বৈকালিক চিকিৎসাসেবার একটি ভিডিও চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়া ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওতে ‘ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটিরত চিকিৎসকরা অতিরিক্ত টাকা নিয়ে রোগী দেখছেন’—এমন দাবি করা হয়। পরে ভিডিওটি একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভিডিওতে সরকারি নির্ধারিত ২০০ টাকা ফিকে অতিরিক্ত টাকা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নির্দেশে বৈকালিক চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বৈকালিক চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী ফিরে যাচ্ছেন। রোগীদের কেউ কেউ জানান, বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গেলে বেশি টাকা খরচ হয়। ফলে স্বল্প খরচে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
চিকিৎসা নিতে আসা বাপ্পি হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন বলেন, সরকারি নিয়মেই বৈকালিক চিকিৎসাসেবা চালু ছিল। কিন্তু সেটিকে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় সেবাটি বন্ধ হয়েছে। এতে তাদের মতো সাধারণ রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সেবাটি পুনরায় চালুর দাবি জানান তারা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক পূরবী সরকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে দেখা যাচ্ছে। সেদিন তিনি বৈকালিক চিকিৎসাসেবার দায়িত্বে ছিলেন। তবে ভিডিওতে ২০০ টাকা নিয়ে রোগী দেখানোর বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, ‘২০০ টাকা রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া কোনো অতিরিক্ত ফি নয়। এটি সরকার নির্ধারিত ফি, যা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ করে বিষয়টি মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এর কারণে বৈকালিক সেবা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
আরেক চিকিৎসক ইশরাত জাহান বলেন, জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনের পর বহির্বিভাগে রোগী দেখা সরকারি নিয়মের আওতাভুক্ত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তার নাম ব্যবহার করা হলেও সেদিন তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘বৈকালিক চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই চালু করা হয়েছিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় আমরা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি। বর্তমানে সেবাটি বন্ধ থাকায় অনেক রোগী ভোগান্তিতে পড়ছেন।’
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই সরকার নির্ধারিত ফি নিয়ে বৈকালিক চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সেবাটিকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বৈকালিক চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈকালিক চিকিৎসাসেবা নিয়ে মিথ্যা ভিডিও ছড়ানোর বিষয়টি দুঃখজনক। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে সেবাটি পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
শেখ মহসীন/কেএইচকে/জেআইএম
What's Your Reaction?