উচ্চশিক্ষায় বিশ্বসেরা শহরের শীর্ষে এশিয়ার দুটি, বাকি ৮ কোনগুলো?
আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন যুগান্তকারী পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে বিশ্বের সেরা ‘স্টুডেন্ট সিটি’ বা শিক্ষার্থী-বান্ধব শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস বা কিউএস। ২০২৭ সালের জন্য প্রকাশ করা ‘কিউএস বেস্ট স্টুডেন্ট সিটিজ’ র্যাংকিংয়ে ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা শহরগুলোকে পেছনে ফেলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে এশিয়ার দুটি প্রধান মহানগরী- দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল ও জাপানের রাজধানী টোকিও। বিশ্বজুড়ে ১৫০টি প্রধান শহরকে নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ, জীবনযাত্রার নিরাপত্তা, খরচ এবং শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টির মানদণ্ড বিশ্লেষণ করে এই র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষ ১০-এ এশিয়ার এই দুই পরাশক্তি ছাড়াও স্থান পেয়েছে ইউরোপ ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ৮টি বিখ্যাত শহর। নিচের কিউএস র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০ শহরের তালিকা দেওয়া হলো- র্যাংক শহর দেশ / অঞ্চল প্রধান আকর্ষণ বা বৈশিষ্ট্য ১ সিউল (Seoul) দক্ষিণ কোরিয়া মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যারিয়ার গঠনের সুবর্ণ সুযোগ ২ টোকিও (Tokyo) জাপা
আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন যুগান্তকারী পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে বিশ্বের সেরা ‘স্টুডেন্ট সিটি’ বা শিক্ষার্থী-বান্ধব শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস বা কিউএস। ২০২৭ সালের জন্য প্রকাশ করা ‘কিউএস বেস্ট স্টুডেন্ট সিটিজ’ র্যাংকিংয়ে ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা শহরগুলোকে পেছনে ফেলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে এশিয়ার দুটি প্রধান মহানগরী- দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল ও জাপানের রাজধানী টোকিও।
বিশ্বজুড়ে ১৫০টি প্রধান শহরকে নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ, জীবনযাত্রার নিরাপত্তা, খরচ এবং শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টির মানদণ্ড বিশ্লেষণ করে এই র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষ ১০-এ এশিয়ার এই দুই পরাশক্তি ছাড়াও স্থান পেয়েছে ইউরোপ ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ৮টি বিখ্যাত শহর।
নিচের কিউএস র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০ শহরের তালিকা দেওয়া হলো-
| র্যাংক | শহর | দেশ / অঞ্চল | প্রধান আকর্ষণ বা বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| ১ | সিউল (Seoul) | দক্ষিণ কোরিয়া | মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যারিয়ার গঠনের সুবর্ণ সুযোগ |
| ২ | টোকিও (Tokyo) | জাপান | সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শীর্ষ নিয়োগকর্তাদের প্রথম পছন্দ |
| ৩ | লন্ডন (London) | যুক্তরাজ্য | বিশ্বমানের অ্যাকাডেমিক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ততা |
| ৪ | মেলবোর্ন (Melbourne) | অস্ট্রেলিয়া | উন্নত জীবনযাত্রার মান ও বহুমুখী সামাজিক পরিবেশ |
| ৫ | মিউনিখ (Munich) | জার্মানি | বিনামূল্যে বা কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবস্থা |
| ৬ | সিডনি (Sydney) | অস্ট্রেলিয়া | প্রাকৃতিক পরিবেশ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ ও আধুনিক ক্যাম্পাস |
| ৭ | প্যারিস (Paris) | ফ্রান্স | গবেষণার সুযোগ, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান |
| ৮ | বার্লিন (Berlin) | জার্মানি | সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ |
| ৯ | ভিয়েনা (Vienna) | অস্ট্রিয়া | নিরাপত্তা, চমৎকার জীবনমান ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ব্যবস্থা |
| ১০ | জুরিখ (Zurich) | সুইজারল্যান্ড | উদ্ভাবন, সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা |
কেন এগিয়ে গেল এশিয়ার দুই শহর?
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বৃদ্ধি ও গবেষণা খাতে বিশাল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
১. সিউলের নিখুঁত স্কোর
সিউল ১০০-তে ১০০ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বের ১ নম্বর স্টুডেন্ট সিটির স্থান ধরে রেখেছে। সিউলে অবস্থিত ২৩টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। পড়াশোনা শেষে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সিউল বিশ্বের অন্যতম সেরা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
২. টোকিওর নিয়োগকর্তাদের পছন্দ
৯৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা টোকিও 'এমপ্লয়ার অ্যাক্টিভিটি' বা নিয়োগকর্তাদের পছন্দের সূচকে বিশ্বজুড়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। গ্র্যাজুয়েটদের দ্রুত চাকরি পাওয়া এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টোকিওমুখী করছে।
ইউরোপ ও ওশেনিয়ার শক্তিশালী অবস্থান
এশিয়ার দুই শহর শীর্ষ দুই স্থান দখল করলেও সেরা ১০- এর বাকি ৮টি স্থান ধরে রেখেছে ইউরোপ ও ওশেনিয়া অঞ্চলের শহরগুলো।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ
৩য় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন এখনো অ্যাকাডেমিক বৈচিত্র্য ও বৈশ্বিক পরিচিতির জন্য পছন্দের শীর্ষে। অন্যদিকে জার্মানির দুই শহর মিউনিখ (৫ম) ও বার্লিন (৮ম) তাদের কম টিউশন ফি ও সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার জন্য স্থান ধরে রেখেছে।
ফ্রান্সের প্যারিস (৭ম), অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা (৯ম) এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখ (১০ম) তাদের উন্নত জীবনমান ও গবেষণার সুযোগের কারণে সেরা ১০-এ স্থান পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া
ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে অস্ট্রেলিয়ার দুই প্রধান শহর মেলবোর্ন (৪র্থ) ও সিডনি (যৌথ ৬ষ্ঠ) শিক্ষার্থী-বান্ধব আবহাওয়া এবং পড়াশোনা পরবর্তী কাজের ভিসা সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে তাদের প্রাধান্য বজায় রেখেছে।
যে ৬টি মানদণ্ডে নির্ধারিত হয় সেরা শহর
কিউএস কর্তৃপক্ষ মূল ছয়টি প্রধান ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা চূড়ান্ত করে থাকে:
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ও মান: শহরে উচ্চমানের ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় কতগুলো রয়েছে।
২. শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য: শহরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অনুপাত এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মান।
৩. আকর্ষণ ও নিরাপত্তা: শহরটি বসবাসের জন্য কতটুকু নিরাপদ, পরিষ্কার ও আকর্ষণীয়।
৪. চাকরির সুযোগ: পড়াশোনা শেষে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির সম্ভাবনা কেমন।
৫. পড়াশোনা ও থাকার খরচ: বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি ও সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় কতটা সাশ্রয়ী।
৬. শিক্ষার্থীদের মতামত: সংশ্লিষ্ট শহরে পড়াশোনা করা বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মূল্যায়ন।
বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরের আকর্ষণ কিছুটা কমলেও, এশিয়ার নিরাপদ, প্রযুক্তিভিত্তিক ও উদ্ভাবনী শহরগুলো এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার নতুন হাব বা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
সূত্র: কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস (QS) অফিসিয়াল রিপোর্ট
এসএএইচ
What's Your Reaction?