উত্তেজনা কাটিয়ে ঢাকা মেডিকেলে চলছে স্বাভাবিক কার্যক্রম
প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জরুরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে হাসপাতালের সব বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ঢামেকে কর্তব্যরত ড্যাব নেতা ও চিকিৎসক ডা. ফখরুজ্জামান ফখরুল জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ইনডোরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। রোগীরাও নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর নেপথ্যে ছিল ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলির আদেশ এবং একই সঙ্গে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে ঢামেকে পদায়ন। অ
প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জরুরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে হাসপাতালের সব বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ঢামেকে কর্তব্যরত ড্যাব নেতা ও চিকিৎসক ডা. ফখরুজ্জামান ফখরুল জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ইনডোরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। রোগীরাও নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর নেপথ্যে ছিল ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলির আদেশ এবং একই সঙ্গে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে ঢামেকে পদায়ন।
অভিযোগ ওঠে, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক মোজাম্মেল হককে কাজে যোগ দিতে বাধা দিয়েছেন। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা মোজাম্মেল হককে কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে কয়েক দফা বৈঠক করেন।
গত রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রেজাউল ইসলামকে ছাড়পত্র (মুভআউট) দেওয়া হলেও পরদিন সোমবার আকস্মিকভাবে তার বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এর মধ্যে সোমবার চিকিৎসকদের একটি পক্ষ রেজাউল ইসলামের কক্ষে তালা দিতে গেলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হানিফের কাছে তালা চাওয়া হয়। হানিফ তালা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েকজন চিকিৎসক তাকে মারধর করেন বলে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং পরিচালকের কাছে বিচার দাবি করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে হানিফকে মারধরের অভিযোগের বিচার চেয়ে লিখিত স্মারকলিপি দিতে পরিচালকের কক্ষে যান কর্মচারীরা। একই সময়ে পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে চিকিৎসকদের একটি অংশও সেখানে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে চিকিৎসকরা পরিচালকের কক্ষের ভেতরে অবস্থান নেন এবং বাইরে অবস্থান নেন কর্মচারীরা।
এ পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি, ঢামেক শাখা ড্যাব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি পদক্ষেপ নেন।
পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনিক কোনো বিরোধের কারণে যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
ডা. ফখরুজ্জামান ফখরুল বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের প্রতিটি বিভাগে নিয়মমাফিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং রোগীরা নিরাপদে সেবা নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার সকাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বহির্বিভাগে টিকিট নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগেও ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
What's Your Reaction?