এক দশকেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ, চিকিৎসা সেবা সংকটে চার জেলা
এক দশক পেরিয়ে গেলেও জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৫০০ শয্যার মূল ভবনের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে আটকে আছে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম। ফলে জামালপুরের আশপাশের চার জেলার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে কলেজটির একাডেমিক ও হাসপাতাল কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জানা গেছে, জামালপুর-শেরপুরসহ আশপাশের চার জেলাবাসীর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালে শহরের মনিরাজপুরে প্রতিষ্ঠা করা হয় জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ। ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের মোট ৪৫টি ভবনের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৪০টিরও বেশি। তবে এক দশকেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যা হাসপাতালের মূল ভবনের নির্মাণ কাজ। ‘৫০০ শয্যার হাসপাতালের মূল ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মূল্যায়ন শেষে প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তা সিসিজিপিতে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা সম্ভব হবে’ সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনেও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ শুরু না হওয়ায়
এক দশক পেরিয়ে গেলেও জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৫০০ শয্যার মূল ভবনের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে আটকে আছে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম। ফলে জামালপুরের আশপাশের চার জেলার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে কলেজটির একাডেমিক ও হাসপাতাল কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা।
জানা গেছে, জামালপুর-শেরপুরসহ আশপাশের চার জেলাবাসীর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালে শহরের মনিরাজপুরে প্রতিষ্ঠা করা হয় জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ। ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের মোট ৪৫টি ভবনের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৪০টিরও বেশি। তবে এক দশকেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যা হাসপাতালের মূল ভবনের নির্মাণ কাজ।
‘৫০০ শয্যার হাসপাতালের মূল ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মূল্যায়ন শেষে প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তা সিসিজিপিতে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা সম্ভব হবে’
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনেও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ শুরু না হওয়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মেডিকেল কলেজের করিডরে বসে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা/ ছবি: জাগো নিউজ
মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী মো. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, কলেজের ভবন নির্মাণকাজ এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় ইন্টার্নশিপ করতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। এতে যাতায়াত ব্যবস্থার সংকটের কারণে নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস থাকলেও তা শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে আমরা প্রয়োজনমতো যাতায়াত সুবিধা পাচ্ছি না। এমনকি যাতায়াত সমস্যার কারণে ইভেনিং ক্লাসগুলোও ঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
হাসপাতালে স্যালাইন-ভ্যাকসিন সংকটে নাকাল রোগীরা
সিজার ছাড়া চিকিৎসাসেবা নেই মৌলভীবাজারে
‘উবারের মতো’ জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের চিন্তা সরকারের
সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে ভবন, কমছে আস্থা
মেডিকেল কলেজের আরেক শিক্ষার্থী বিপাশা আক্তার বলেন, ক্লিনিক্যাল প্রাকটিসগুলো বা ক্লিনিকাল ক্লাসগুলোর জন্য দক্ষ শিক্ষক থাকা স্বত্বেও আমরা করতে পারি না। সরকারের কাছে প্রত্যাশা- ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ যেন অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে মেডিকেল কলেজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
‘বর্তমানে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুবিধা ২৫০ শয্যার রোগীদের কথা বিবেচনা করে বরাদ্দ দেওয়া। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সংকট তৈরি হয়। তবে চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি’
জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভবন বাদে আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম টেন্ডার প্রক্রিয়াতে রয়েছে।
আর গণপূর্ত বলছে, হাসপাতালের মূল ভবনের জন্য প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

থমকে আছে জামালপুর ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ/ ছবি: জাগো নিউজ
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে মেডিকেল কলেজে রোগীর চাপ অনেকাংশে বেড়েছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ রোগী নিয়মিত।
আরও পড়ুন:
বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরালে ব্যয় বাড়বে কয়েকগুণ
ভালো পদ পেতে ক্ষমতাবানদের কাছে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ
বিআরটিএর আদলে নকল ওয়েবসাইট, মালিকদের নামে যাচ্ছে মামলার ভুয়া মেসেজ
বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার
অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মেডিকেল কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম ও মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্ট সরবরাহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব কাজ শেষ হবে। তবে হাসপাতালের মূল ভবন নির্মাণ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সময়সাপেক্ষ কাজ।
‘বর্তমানে মেডিকেল কলেজে রোগীর চাপ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ রোগী নিয়মিত’
জামালপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ৫০০ শয্যার হাসপাতালের মূল ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মূল্যায়ন শেষে প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তা সিসিজিপিতে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মূল ভবনটি তৈরিতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হলে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগবে আরও ২ বছর।
জামালপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে আমাদের হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুবিধা ২৫০ শয্যার রোগীদের কথা বিবেচনা করে বরাদ্দ দেওয়া। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সংকট তৈরি হয়। তবে চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে এবং রোগীরা আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
এনএইচআর/এএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?