এক পুণ্যময় নারীর স্মৃতিবিজড়িত পাহাড়

পবিত্র মক্কা নগরীর দুটি ঐতিহাসিক পাহাড়ের নাম সাফা ও মারওয়া। পাহাড় দুটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আজ থেকে চার হাজার বছর আগের হজরত ইবরাহিমের (আ.) নির্বাসিত স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও তার শিশুপুত্র ইসমাইলের (আ.) স্মৃতি। তাদের স্মৃতিবিড়তি সেই দুই পাহাড়ে আজও লাখ লাখ হাজি দৌড়ে দৌড়ে সেই স্মৃতি রোমন্থন করেন। হজ ও ওমরাহর অংশ হিসেবে এই দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার সাঈ বা আসা-যাওয়া করতে হয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহতায়ালার নিদর্শনগুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কাবা ঘরে হজ বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোনো দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকির কাজ করে, তবে আল্লাহতায়ালার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মূল্য দেবেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৮) বহুকাল আগে মক্কা নগরীতে কোনো বসতি ছিল না। চারপাশে শুধু মরুভূমি। বালুর এই বিশাল সাগরে কোথাও কোনো মানুষের আনাগোনা নেই। সে সময় আল্লাহতায়ালার হুকুমে ইবরাহিম (আ.) তার স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও পুত্র ইসমাইলকে (আ.) সেখানে রেখে আসেন। তখন স্ত্রী ইবরাহিমকে (আ.) বলেন, হে ইবরাহিম! আপনি আমাদের কার কাছে রেখে যাচ্ছেন? ইবরাহিম (আ.) বলেন, আল্লাহর

পবিত্র মক্কা নগরীর দুটি ঐতিহাসিক পাহাড়ের নাম সাফা ও মারওয়া। পাহাড় দুটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আজ থেকে চার হাজার বছর আগের হজরত ইবরাহিমের (আ.) নির্বাসিত স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও তার শিশুপুত্র ইসমাইলের (আ.) স্মৃতি। তাদের স্মৃতিবিড়তি সেই দুই পাহাড়ে আজও লাখ লাখ হাজি দৌড়ে দৌড়ে সেই স্মৃতি রোমন্থন করেন। হজ ও ওমরাহর অংশ হিসেবে এই দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার সাঈ বা আসা-যাওয়া করতে হয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহতায়ালার নিদর্শনগুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কাবা ঘরে হজ বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোনো দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকির কাজ করে, তবে আল্লাহতায়ালার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মূল্য দেবেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৮)

বহুকাল আগে মক্কা নগরীতে কোনো বসতি ছিল না। চারপাশে শুধু মরুভূমি। বালুর এই বিশাল সাগরে কোথাও কোনো মানুষের আনাগোনা নেই। সে সময় আল্লাহতায়ালার হুকুমে ইবরাহিম (আ.) তার স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও পুত্র ইসমাইলকে (আ.) সেখানে রেখে আসেন। তখন স্ত্রী ইবরাহিমকে (আ.) বলেন, হে ইবরাহিম! আপনি আমাদের কার কাছে রেখে যাচ্ছেন? ইবরাহিম (আ.) বলেন, আল্লাহর কাছে। হাজেরা (আ.) বলেন, আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। হাজেরার (আ.) কাছে অল্প কিছু খাবার ও পানি ছিল। যখন খাবার ও পানি শেষ হলো, কাঠফাটা রোদ, উত্তপ্ত বালুকণা আর তৃষ্ণার্ত ইসমাইলকে (আ.) দেখে হাজেরা ব্যাকুল হয়ে যান শিশুপুত্রের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য। তিনি দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ান। পিপাসায় কাতর ইসমাইলের (আ.) জন্য একফোঁটা পানি নেই। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন হাজেরা (আ.)! অস্থির হয়ে তিনি ছুটে চলেন পাহাড়ের দিকে। একবার সাফা পাহাড়ে আরোহণ করেন, আবার সেখান থেকে নেমে আসেন। আর ফিরে দেখেন নিজের কলিজার টুকরা শিশু ইসমাইল (আ.) এখনো বেঁচে আছেন কি না? ঢালুতে এসে কলিজার টুকরা তার চোখের আড়াল হয়ে যেত, তাই তিনি দৌড়ে পার হন, আর আরোহণ করেন মারওয়ায়। এভাবে তিনি সাতবার দৌড়ান। মহান আল্লাহর কাছে হাজেরার (আ.) এই দৌড় এতটাই পছন্দ হয়েছে যে, উম্মতে মোহাম্মদির জন্য তা অবধারিত করে দিয়েছেন। হাজেরার (আ.) আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস থেকে আমাদের জন্য বিশেষ শিক্ষা হচ্ছে—১. অনুকূল-প্রতিকূল যে কোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহতায়ালা মানুষকে সাহায্য করতে পারেন। ২. আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি নিজে চেষ্টা করা এবং উপায় অবলম্বন করা। যখন হাজেরার (আ.) পানি শেষ হয়ে যায়, তখন আপাতদৃষ্টিতে তার কাছে কোনো উপায় ছিল না। তথাপি তিনি বসে না থেকে এ মরু প্রান্তরে চেষ্টা করে গেলেন। ৩. ধারণাহীন জায়গা থেকে সাহায্য আসা। হাজেরার (আ.) ঘটনা আমাদের এ শিক্ষা দিয়ে যায় যে, বান্দাকে আল্লাহতায়ালা এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা কল্পনাও করতে পারবে না।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow